রংপুরে চারজন হত্যা
আসামির শার্ট নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তে নানা অসঙ্গতি
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 13
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনের একজনের পরনের শার্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের দিন একই ধরনের শার্ট পরা অবস্থায় পুলিশের এক কর্মকর্তাকেও দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রংপুরভিত্তিক বিভিন্ন স্থানীয় ফেসবুক পেজের লাইভ ভিডিওতে মরদেহ উদ্ধারের সময় এক ব্যক্তিকে ওই ধরনের শার্ট পরে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখা যায়। তার মুখে মাস্ক ছিল। পরে পরিচয় নিশ্চিত হয়, তিনি রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, একই ধরনের শার্ট আলাদা আলাদা ব্যক্তি পরতেই পারেন।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের দুজনের বাড়িই মাছুয়াপাড়ায়। পুলিশের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের পর তারা ওই ভবনে বসে ইয়াবা সেবন করেন। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে তাদের একজন পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে আশ্রয় নেন। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তাদের পরিচয় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। চার খুনের ঘটনায় তদন্তের সঙ্গে যুক্ত সিআইডির ইনচার্জ, মরদেহ উদ্ধারে নেতৃত্ব দেওয়া উপ-কমিশনার এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা—সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনও একই ধর্মের অনুসারী। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এটি নিছক কাকতালীয় বিষয় এবং কাউকে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে তদন্তে যুক্ত করা হয়নি।
শনিবার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই যুবক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে সীমান্ত নামে এক ব্যক্তির বাসায় বসে তা সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ হলে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন।
তবে পুলিশের এই বক্তব্য ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। ইয়াবা সেবনের জন্য পাশের নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের পুরো ফাঁকা জায়গা ও ছাদ থাকার পরও তারা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেন; সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনারের কাছে এমন প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, অল্প সময়ে মামলার তদন্তে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে পুলিশের ইতিবাচক কাজের প্রশংসা এবং নেতিবাচক কাজের সমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। তদন্তে আস্থা রাখার কথাও বলেন।
এর মধ্যে রোববার বিকেল ৫টার দিকে গ্রেপ্তার দুই যুবককে আদালতে হাজির করা হয়। মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি। তিনি বলেন, দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা নিজেদের দায় স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। তবে গ্রেপ্তার দুই যুবকের স্বীকারোক্তি, ঘটনাস্থল ও হত্যাকাণ্ডের সময়কার গতিবিধি নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর তদন্তে কতটা পরিষ্কার হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
































