রংপুরে একই পরিবারের ৪ খুন, আটক ২
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৬:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 12
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটক দুজনের নাম সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ বলে জানা গেছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রোববার (২৩ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। দুজনই ওই এলাকার বাসিন্দা। হত্যাকাণ্ডের পর ভবনটিতে ইয়াবা সেবনের আলামতও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
চারজনের মরদেহ উদ্ধারের পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়। তাদের একজন অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে আশ্রয় নেন। পরে তুতবাগানের কাছে দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্রের দাবি, স্থানীয় কয়েকজন যুবক ডাকাতির উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ বাড়িটিতে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। দোতলা বাড়িটির ছাদ থেকে গণপতির মরদেহ, সিঁড়ি থেকে তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ এবং শোবার ঘরের খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়মের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটতে পারে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন আসবাব ও টাকা-পয়সা এবং স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে প্রাথমিকভাবে ডাকাতির বিষয়টি সামনে এসেছে।
ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। পাশাপাশি মহানগর পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ ও র্যাব তদন্তে কাজ করছে।
রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। কেউ আটক হয়ে থাকলেও থাকতে পারে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বাড়ির পরিস্থিতি দেখে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
































