ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাহাড়ে অসুস্থ রোগীর ভরসা বাঁশের দোলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গামাটি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:১৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 85

পাহাড়ে অসুস্থ রোগীর ভরসা বাঁশের দোলা

রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদগুলোতে এখনো পৌঁছেনি আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার সুযোগ। অনেক এলাকায় নেই সড়ক, যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স, এমনকি মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎও নেই। ফলে জরুরি মুহূর্তে অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি নারীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাঁধই একমাত্র ভরসা

সম্প্রতি প্রসববেদনা ওঠার পর এমনই দুর্ভোগে পড়েন লংগদুর বাসিন্দা সুমিতা চাকমা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হলে তাকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ, পাঁচটি ঝিরি ও তিনটি পাহাড় পাড়ি দিতে হতো। কোনো যানবাহন না থাকায় স্থানীয় চারজন বাঁশ ও চাকমাদের ব্যবহৃত বোরগি দিয়ে ‘ভাড়’ বা ঝুলন্ত দোলা তৈরি করেন। বৃষ্টির মধ্যেই ওই দোলায় করে সুমিতাকে হাসপাতালে নেওয়ার যাত্রা শুরু হয়।

প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় তাকে লংগদু-দিঘীনালা সড়কের ডাঙ্গাবাজার এলাকায় নেওয়া সম্ভব হয়। সেখান থেকে অটোরিকশায় করে খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে ৫ আগস্ট রাতে চিকিৎসকদের সহযোগিতায় তিনি সন্তান প্রসব করেন।

সুমিতার স্বামী সুপন চাকমা বলেন, ওই সময় তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। প্রতিবেশীরা এগিয়ে না এলে স্ত্রী ও সন্তানকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যেত। সন্তান জন্মের পরও দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তাদের বাড়ি ফিরিয়ে নিতে একইভাবে প্রতিবেশীদের সহযোগিতা নিতে হবে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমন ঘটনা লংগদুতে বিচ্ছিন্ন নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির বহু দুর্গম পাড়ায় জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বর্ষাকালে পাহাড়ি ঝিরিতে পানি বেড়ে গেলে অনেক এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

দুর্গম শীলাছড়ার পেরা আদম পাড়ার বাসিন্দা মানবেন্দ্র চাকমা বলেন, তার গ্রামসহ আশপাশের পাঁচটি গ্রামে কোনো সড়ক নেই। বর্ষায় ঝিরির পানি বেড়ে যাওয়ায় চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে। শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের জন্য এ পথ পাড়ি দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য কৃমল চাকমা জানান, তার ২ নম্বর ওয়ার্ডে আটটি পাড়ায় প্রায় সাড়ে ৬৫০ পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে পাঁচটি পাড়ায় সড়ক যোগাযোগ নেই। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ সুবিধাও নেই। দুর্গমতা বিবেচনায় সেখানে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক বা পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে।

আটারকছড়া ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য স্মরণিকা চাকমা বলেন, বর্ষাকাল ও প্রসববেদনা দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে আতঙ্কের বিষয়। পাহাড়ি ঝিরিতে পানি বেড়ে গেলে কোনো প্রসূতির জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ থাকে না।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অজয় মিত্র চাকমাও জানান, সড়ক যোগাযোগের অভাবে দুর্গম এলাকার মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই অনেক রোগীর অবস্থার অবনতি হয়।

শুধু যোগাযোগব্যবস্থাই নয়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংকটও দীর্ঘদিনের। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও আবাসন সুবিধার অভাবে অনেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী দুর্গম এলাকায় থাকতে আগ্রহী হন না। ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মিনহাজ মুর্শিদ বলেন, জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও স্থানীয়দের কোটা-সংক্রান্ত দাবির কারণে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। দ্রুত এ সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে।

রাঙ্গামাটি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক সোহাগময় চাকমা জানান, জনবল সংকটের পাশাপাশি অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে। অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্র জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় সেখানে গর্ভবতী নারীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া কঠিন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ওষুধ ও লজিস্টিক সহায়তাও পাওয়া যাচ্ছে না।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, দুর্গম এলাকায় চিকিৎসকদের ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। বিদ্যুৎ, আবাসন ও সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগের অভাবে অনেকেই সেখানে থাকতে চান না। তবে সরকার দুর্গম এলাকায় স্যাটেলাইট ক্লিনিক ও বিশেষ মোবাইল মেডিকেল টিম পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন সময় বিজিবি ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়।

তবে স্থানীয়দের দাবি, এসব উদ্যোগ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে শুধু স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ নয়; দুর্গম এলাকায় সড়ক যোগাযোগ, জরুরি পরিবহন ব্যবস্থা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা এবং নিয়মিত মোবাইল মেডিকেল সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

কারণ পাহাড়ের দুর্গম জনপদে একজন রোগীর জন্য সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোই অনেক সময় সবচেয়ে বড় চিকিৎসা হয়ে দাঁড়ায়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পাহাড়ে অসুস্থ রোগীর ভরসা বাঁশের দোলা

সর্বশেষ আপডেট ০৯:১৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদগুলোতে এখনো পৌঁছেনি আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার সুযোগ। অনেক এলাকায় নেই সড়ক, যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স, এমনকি মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎও নেই। ফলে জরুরি মুহূর্তে অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি নারীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাঁধই একমাত্র ভরসা

সম্প্রতি প্রসববেদনা ওঠার পর এমনই দুর্ভোগে পড়েন লংগদুর বাসিন্দা সুমিতা চাকমা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হলে তাকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ, পাঁচটি ঝিরি ও তিনটি পাহাড় পাড়ি দিতে হতো। কোনো যানবাহন না থাকায় স্থানীয় চারজন বাঁশ ও চাকমাদের ব্যবহৃত বোরগি দিয়ে ‘ভাড়’ বা ঝুলন্ত দোলা তৈরি করেন। বৃষ্টির মধ্যেই ওই দোলায় করে সুমিতাকে হাসপাতালে নেওয়ার যাত্রা শুরু হয়।

প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় তাকে লংগদু-দিঘীনালা সড়কের ডাঙ্গাবাজার এলাকায় নেওয়া সম্ভব হয়। সেখান থেকে অটোরিকশায় করে খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে ৫ আগস্ট রাতে চিকিৎসকদের সহযোগিতায় তিনি সন্তান প্রসব করেন।

সুমিতার স্বামী সুপন চাকমা বলেন, ওই সময় তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। প্রতিবেশীরা এগিয়ে না এলে স্ত্রী ও সন্তানকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যেত। সন্তান জন্মের পরও দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তাদের বাড়ি ফিরিয়ে নিতে একইভাবে প্রতিবেশীদের সহযোগিতা নিতে হবে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমন ঘটনা লংগদুতে বিচ্ছিন্ন নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির বহু দুর্গম পাড়ায় জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বর্ষাকালে পাহাড়ি ঝিরিতে পানি বেড়ে গেলে অনেক এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

দুর্গম শীলাছড়ার পেরা আদম পাড়ার বাসিন্দা মানবেন্দ্র চাকমা বলেন, তার গ্রামসহ আশপাশের পাঁচটি গ্রামে কোনো সড়ক নেই। বর্ষায় ঝিরির পানি বেড়ে যাওয়ায় চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে। শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের জন্য এ পথ পাড়ি দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য কৃমল চাকমা জানান, তার ২ নম্বর ওয়ার্ডে আটটি পাড়ায় প্রায় সাড়ে ৬৫০ পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে পাঁচটি পাড়ায় সড়ক যোগাযোগ নেই। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ সুবিধাও নেই। দুর্গমতা বিবেচনায় সেখানে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক বা পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে।

আটারকছড়া ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য স্মরণিকা চাকমা বলেন, বর্ষাকাল ও প্রসববেদনা দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে আতঙ্কের বিষয়। পাহাড়ি ঝিরিতে পানি বেড়ে গেলে কোনো প্রসূতির জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ থাকে না।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অজয় মিত্র চাকমাও জানান, সড়ক যোগাযোগের অভাবে দুর্গম এলাকার মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই অনেক রোগীর অবস্থার অবনতি হয়।

শুধু যোগাযোগব্যবস্থাই নয়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংকটও দীর্ঘদিনের। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও আবাসন সুবিধার অভাবে অনেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী দুর্গম এলাকায় থাকতে আগ্রহী হন না। ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মিনহাজ মুর্শিদ বলেন, জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও স্থানীয়দের কোটা-সংক্রান্ত দাবির কারণে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। দ্রুত এ সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে।

রাঙ্গামাটি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক সোহাগময় চাকমা জানান, জনবল সংকটের পাশাপাশি অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে। অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্র জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় সেখানে গর্ভবতী নারীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া কঠিন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ওষুধ ও লজিস্টিক সহায়তাও পাওয়া যাচ্ছে না।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, দুর্গম এলাকায় চিকিৎসকদের ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। বিদ্যুৎ, আবাসন ও সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগের অভাবে অনেকেই সেখানে থাকতে চান না। তবে সরকার দুর্গম এলাকায় স্যাটেলাইট ক্লিনিক ও বিশেষ মোবাইল মেডিকেল টিম পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন সময় বিজিবি ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়।

তবে স্থানীয়দের দাবি, এসব উদ্যোগ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে শুধু স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ নয়; দুর্গম এলাকায় সড়ক যোগাযোগ, জরুরি পরিবহন ব্যবস্থা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা এবং নিয়মিত মোবাইল মেডিকেল সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

কারণ পাহাড়ের দুর্গম জনপদে একজন রোগীর জন্য সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোই অনেক সময় সবচেয়ে বড় চিকিৎসা হয়ে দাঁড়ায়।