১০০ শতাংশ কর মওকুফ হচ্ছে যেসব খাত
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৭:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / 16
জাতীয় সংসদে পেশ হতে যাওয়া নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সাধারণ মানুষের ওপর থেকে ব্যয়ের বোঝা কমাতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। দেশীয় শিল্পের বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক সেবা খাতের পরিধি বাড়াতে এবার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত কর অব্যাহতি এবং শুল্ক মওকুফের বড় ঘোষণা আসতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই বড় ছাড়ের ঘোষণাগুলো দিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্য তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রথম ৫ বছর ১০০ শতাংশ কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হতে পারে। পরবর্তী ৩ বছর ৫০ শতাংশ এবং তার পরের ২ বছর ২৫ শতাংশ কর অব্যাহতির সুবিধা পাবেন উদ্যোক্তারা। অর্থাৎ ভোজ্য তেল খাতে সব মিলিয়ে দীর্ঘ ১০ বছরের জন্য কর ছাড়ের একটি মেগা সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে আগামী ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ কর হারের প্রস্তাব করা হতে পারে। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিপরীতে ৫ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়ার বিশেষ সুবিধাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিন এনার্জি ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে ভ্যাট ছাড়া বাকি সব ধরনের শুল্ক ও কর ১০০ শতাংশ মওকুফ করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও স্টার্টআপ খাতে শুল্ক প্রত্যাহার
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বড় বিপ্লব ঘটাতে এবং তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে এবারের বাজেটে প্রতিটি মোবাইল সিম কার্ডের ওপর থাকা বিদ্যমান ৩০০ টাকা কর সম্পূর্ণরূপে (১০০ শতাংশ) প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হতে পারে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ আরও সাশ্রয়ী হবে।
আইটি খাতের অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে:
- নতুন স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় পর্যায়ের ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে।
- দেশের কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর থাকা ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ মওকুফ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
- ফ্রিল্যান্সিং ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজের সুবিধার্থে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও প্রিন্টার আমদানিতে থাকা সমুদয় শুল্ক ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হবে।
কিডনি রোগে আক্রান্ত সাধারণ রোগীদের দীর্ঘদিনের মানবিক দাবি বিবেচনায় নিয়ে ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে থাকা ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ মওকুফ করা হচ্ছে। এর ফলে রোগীদের প্রতিটি ডায়ালিসিসের ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমে আসবে। এ ছাড়া সমাজে পিছিয়ে পড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য ২১ ধরনের সহায়ক যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে সমুদয় আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি ও অগ্রিম কর ১০০ শতাংশ অব্যাহতি দেওয়ার মানবিক প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।

































