ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিনেমা ও বাউল গানের আসর বন্ধে আসকের উদ্বেগ ও নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • / 70

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)

প্রকাশিত গনমাধ্যম সুত্রে জানা যাচ্ছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নামের চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ এবং নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বাউল সংগীতের একটি পূর্বনির্ধারিত সাংস্কৃতিক আয়োজন চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বন্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানাচ্ছে ।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, এ ধরনের ঘটনা সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও নাগরিকের মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, ২৮ ও ৩৯ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং চিন্তা, বিবেক, বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষিত; একইসঙ্গে সাংস্কৃতিক চর্চা ও শিল্প-সাহিত্য চর্চা এই অধিকারগুলোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাশাপাশি, বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর অংশ, সেই মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার অনুচ্ছেদ ১৯ ও ২৭ এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (আইসিসিপিআর)-এর অনুচ্ছেদ ১৯ ও ২১ মতপ্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক জীবনে অংশগ্রহণের অধিকার স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছে। ফলে কোনো গোষ্ঠী বা চাপের মুখে এ সকল সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার খর্ব করার সুযোগ নেই।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আরও মনে করে, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো- সকল নাগরিকের সাংস্কৃতিক ও মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং নিশ্চিত করা যে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা মতাদর্শগত চাপ আইনের শাসনকে পাশ কাটিয়ে জনপরিসরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) স্পষ্টভাবে বলছে, সাংস্কৃতিক আয়োজন বা শিল্পচর্চার বিষয়ে ভিন্নমত বা সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও, ভয়ভীতি, চাপ সৃষ্টি, প্রচারণা বা অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে কোনো আইন ও অধিকার সম্মত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত বা একটি আয়োজনের ক্ষতি করে না; বরং তা দীর্ঘমেয়াদে সমাজের সাংস্কৃতিক সহনশীলতা, বহুত্ববাদ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে দুর্বল করে দেয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছে – তারা যেন প্রতিটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর, দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সিনেমা ও বাউল গানের আসর বন্ধে আসকের উদ্বেগ ও নিন্দা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

প্রকাশিত গনমাধ্যম সুত্রে জানা যাচ্ছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নামের চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ এবং নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বাউল সংগীতের একটি পূর্বনির্ধারিত সাংস্কৃতিক আয়োজন চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বন্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানাচ্ছে ।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, এ ধরনের ঘটনা সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও নাগরিকের মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, ২৮ ও ৩৯ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং চিন্তা, বিবেক, বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষিত; একইসঙ্গে সাংস্কৃতিক চর্চা ও শিল্প-সাহিত্য চর্চা এই অধিকারগুলোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাশাপাশি, বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর অংশ, সেই মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার অনুচ্ছেদ ১৯ ও ২৭ এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (আইসিসিপিআর)-এর অনুচ্ছেদ ১৯ ও ২১ মতপ্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক জীবনে অংশগ্রহণের অধিকার স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছে। ফলে কোনো গোষ্ঠী বা চাপের মুখে এ সকল সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার খর্ব করার সুযোগ নেই।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আরও মনে করে, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো- সকল নাগরিকের সাংস্কৃতিক ও মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং নিশ্চিত করা যে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা মতাদর্শগত চাপ আইনের শাসনকে পাশ কাটিয়ে জনপরিসরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) স্পষ্টভাবে বলছে, সাংস্কৃতিক আয়োজন বা শিল্পচর্চার বিষয়ে ভিন্নমত বা সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও, ভয়ভীতি, চাপ সৃষ্টি, প্রচারণা বা অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে কোনো আইন ও অধিকার সম্মত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত বা একটি আয়োজনের ক্ষতি করে না; বরং তা দীর্ঘমেয়াদে সমাজের সাংস্কৃতিক সহনশীলতা, বহুত্ববাদ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে দুর্বল করে দেয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছে – তারা যেন প্রতিটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর, দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।