জাতীয় পেনশন স্কিমকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার ওপর জোর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় স্কিমটির বর্তমান অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মন্ত্রী স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করতে বিভিন্ন নতুন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা, নমিনিদের জন্য আজীবন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চারটি স্কিম—প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—মিলে মোট নিবন্ধন হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জনের। এ সময়ে পেনশন তহবিলে জমা হয়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা মুনাফাসহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকায়।
কর্তৃপক্ষের আগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার মানুষ স্কিমে যুক্ত হলেও পরবর্তী সময়ে নতুন অংশগ্রহণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
২০২৩ সালের আগস্টে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকদের জন্য এই স্কিম চালু হয়। শুরুতে অংশগ্রহণে উৎসাহ দেখা গেলেও সময়ের সঙ্গে নিবন্ধনের গতি ধীর হয়ে পড়ে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণে বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আস্থার সংকটের কারণে পরবর্তী সময়ে অংশগ্রহণে ভাটা পড়ে, যদিও বর্তমানে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।