সরকারের মূল নীতি ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 12
ধর্ম, সম্প্রদায় কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়; বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা ভোগ করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দেশের কোনো জনগোষ্ঠীকে আলাদা করে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সবার প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত; ‘আমরা বাংলাদেশী’।
শুক্রবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল নীতি হলো ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। তাই প্রত্যেক নাগরিকের প্রধান পরিচয় হবে বাংলাদেশী। ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় ব্যক্তির পরিচয়ের পরবর্তী অংশ।
তিনি বলেন, অতীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সচেতন জনগণ সেই ধারণা ও কৃত্রিম বিভাজন প্রত্যাখ্যান করেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
জনগণই শেষ বিচারের মালিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ ইতোমধ্যে তাদের রায় দিয়েছে। ভবিষ্যতেও তারা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি উগ্রবাদ ও সব ধরনের ‘অসুর শক্তির’ বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
সংবিধানের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। সংবিধানের মূল চেতনা অনুযায়ী ধর্মের কারণে কোনো নাগরিকের সঙ্গে বৈষম্য করার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সেখানে দায়িত্ব পালনকারীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকার শুধু সংবিধানের পাতায় সমতা ও সম্প্রীতির কথা রাখতে চায় না, বাস্তব জীবনেও তা কার্যকর করতে চায়।
ভাষার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটির পরিবর্তে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও শান্তির কথা বলা উচিত। ইতিবাচক শব্দচর্চার মাধ্যমে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য আরও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ। উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
পরে পলাশী মোড়ের ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন থেকে জন্মাষ্টমীর মিছিল শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।





























