ঢাকা ১০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরীয়তপুরে ড্রেজার আতঙ্ক, ঝুঁকিতে কৃষিজমি

নিজস্ব প্রতিবেদক, শরীয়তপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 31

শরীয়তপুরে ড্রেজার আতঙ্ক, ঝুঁকিতে কৃষিজমি

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের উত্তর শৌলা এলাকায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে আশপাশের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সালমা বেগম নামে এক বিধবা নারী।

লিখিত অভিযোগে সালমা বেগম জানান, উত্তর শৌলা এলাকায় তাঁর বসতবাড়ির পাশের জমি থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে তাঁর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গভীর গর্ত সৃষ্টি কিংবা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এতে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উত্তর শৌলা গ্রামের মৃত শুকুর মুন্সীর স্ত্রী সালমা বেগমের জমির পাশে ড্রেজার বসিয়ে মাটির উপরিভাগসহ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মালেক মুন্সী, হালেম মুন্সী, সোলেমান মুন্সী, সবুজ মুন্সী ও মজিদ মুন্সীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পার্শ্ববর্তী চন্দ্রপুর ইউনিয়নের মুজাহিদের মাধ্যমে ড্রেজার এনে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সালমা বেগম বলেন, “আমার স্বামী মারা গেছেন। আমার কোনো ছেলে নেই। এই সুযোগে পাশের জমির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে আমার জমির আশপাশ থেকে মাটির উপরিভাগসহ বালু তুলে নিচ্ছেন। প্রতিবাদ করলে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।”

সালমার মেয়ে নাজনীন বলেন, “আমার বাবা নেই, কোনো ভাইও নেই। মানুষ দিয়ে এই জমিতে চাষাবাদ করাই। এই জমিটুকুও যদি চলে যায়, তাহলে আমরা কীভাবে বাঁচব? আমাদের নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা দ্রুত প্রতিকার চাই।”

এ বিষয়ে আরেক ভুক্তভোগী আনসার হাওলাদার বলেন, তাঁর ২৪ শতক ফসলি জমি রয়েছে। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে তার জমিও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তিনি বলেন, “ড্রেজারে বালু উত্তোলনের কারণে আমার ফসলি জমি ক্ষতির মুখে পড়েছে। আমরা দ্রুত এর প্রতিকার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট তহসিলদারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শরীয়তপুরে ড্রেজার আতঙ্ক, ঝুঁকিতে কৃষিজমি

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের উত্তর শৌলা এলাকায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে আশপাশের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সালমা বেগম নামে এক বিধবা নারী।

লিখিত অভিযোগে সালমা বেগম জানান, উত্তর শৌলা এলাকায় তাঁর বসতবাড়ির পাশের জমি থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে তাঁর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গভীর গর্ত সৃষ্টি কিংবা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এতে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উত্তর শৌলা গ্রামের মৃত শুকুর মুন্সীর স্ত্রী সালমা বেগমের জমির পাশে ড্রেজার বসিয়ে মাটির উপরিভাগসহ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মালেক মুন্সী, হালেম মুন্সী, সোলেমান মুন্সী, সবুজ মুন্সী ও মজিদ মুন্সীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পার্শ্ববর্তী চন্দ্রপুর ইউনিয়নের মুজাহিদের মাধ্যমে ড্রেজার এনে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সালমা বেগম বলেন, “আমার স্বামী মারা গেছেন। আমার কোনো ছেলে নেই। এই সুযোগে পাশের জমির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে আমার জমির আশপাশ থেকে মাটির উপরিভাগসহ বালু তুলে নিচ্ছেন। প্রতিবাদ করলে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।”

সালমার মেয়ে নাজনীন বলেন, “আমার বাবা নেই, কোনো ভাইও নেই। মানুষ দিয়ে এই জমিতে চাষাবাদ করাই। এই জমিটুকুও যদি চলে যায়, তাহলে আমরা কীভাবে বাঁচব? আমাদের নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা দ্রুত প্রতিকার চাই।”

এ বিষয়ে আরেক ভুক্তভোগী আনসার হাওলাদার বলেন, তাঁর ২৪ শতক ফসলি জমি রয়েছে। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে তার জমিও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তিনি বলেন, “ড্রেজারে বালু উত্তোলনের কারণে আমার ফসলি জমি ক্ষতির মুখে পড়েছে। আমরা দ্রুত এর প্রতিকার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট তহসিলদারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।