ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৩০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 74
প্রতারণা, জালিয়াতি ও প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী মফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরোয়ানা জারি হওয়া অপর চার আসামি হলেন ফুডপান্ডার কো-ফাউন্ডার ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক, ডিরেক্টর ডেলিভারি মো. তাবারেজ খান এবং সিনিয়র ম্যানেজার ও ডিরেক্টর মোহাম্মদ সাজেদুল হক।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, আদালতের নির্দেশে গুলশান থানা পুলিশ মামলা দুটির তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আদালত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’ (পিএনপি) প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির গত বছরের ৩ জুলাই আদালতে মামলা দুটি করেন। এর আগে ২০২২ সালের ২৩ জুন ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের সঙ্গে চুক্তির আওতায় তিনি দেশীয় ও আমদানীকৃত ফলমূল এবং সবজি সরবরাহ শুরু করেন।
বাদীর অভিযোগ, ব্যবসার শুরুতে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়। এক লাখ টাকার পণ্য কেনার অর্ডারের বিপরীতে ব্যাংক হিসাবে মাত্র ১ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ জমা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুয়া ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ব্যবহার এবং একই দিনে বিভিন্ন স্থানে একাধিক ভুয়া ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ (আরটিভি) স্লিপ তৈরি করে পণ্য ফেরত দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের দাবি, কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলাগুলো মূলত একটি ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য অনুযায়ী, বাদী নিজের দায় এড়ানো, জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের হয়রানি এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রতিশোধমূলকভাবে এসব মামলা করেছেন।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, চারটি মামলার তদন্তই একই থানার পুলিশ করেছে। এর মধ্যে পরবর্তী দুটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগকারী পক্ষের কাছেই ডিএইচ স্টোরসের অর্থ পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন মেনে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিচারব্যবস্থা ও সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বিরোধের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হবে এবং সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তারা আশা করছে।





























