পরাজয় জেনেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেবে জামায়াত
- সর্বশেষ আপডেট ১২:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 27
আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজয়ের সম্ভাবনা জেনেও প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৩৫ বছর পর কোনো বিরোধী দল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে।
১৯৯১ সালের পর রাষ্ট্রপতি পদে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়নি। ওই নির্বাচনের পর টানা সাতটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
শনিবার রাতে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। রোববার বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।
বর্তমান সংসদে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের এমপি রয়েছেন ৯০ জন। সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকায় তিনি জামায়াতের এমপি হিসেবেই রয়েছেন।
৩৪৯ সদস্যের সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ স্বতন্ত্র এমপির সংখ্যা আটজন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন, বিজেপি, গণঅধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলনের একজন করে এমপি রয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির এমপি রয়েছেন ২৪৭ জন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হতে প্রয়োজন ১৭৫ ভোট। ফলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপির প্রার্থী জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
তবে ফলাফল নিজেদের অনুকূলে না থাকার সম্ভাবনা থাকলেও কেন প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে; এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। গণতন্ত্রে জয়-পরাজয়ের চেয়ে অধিকার চর্চা গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো ক্ষেত্রেই সরকারকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছাড় দিতে চায় না জামায়াত।
দলের আরেক সহকারী সেক্রেটারি আবদুল হালিমও একই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের যেসব জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ রয়েছে, জামায়াত সেসব সুযোগ কাজে লাগাবে।
সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯৯১ সালে
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালেই সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। সে সময় তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছিল।
ওই নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের সমর্থনে আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। জাতীয় পার্টির ৩৫ জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।
এরপর অনুষ্ঠিত সাতটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এবার জামায়াতের প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় পর আবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।



































