তামিমের ‘নো ইন্টারফেয়ার’ নীতি
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 68
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হিসেবে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ক্রিকেটের অবকাঠামো উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বেশি গুরুত্ব দিতে চান তামিম ইকবাল। তবে জাতীয় দলের একাদশ নির্বাচন কিংবা খেলোয়াড় বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত হতে চান না তিনি।
বিসিবি সভাপতি জানান, বর্তমান জাতীয় দলের সঙ্গে বাইরে থাকা আরও ১০ থেকে ১৫ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে একটি পুল তৈরি করা হবে। এই পুল থেকেই আগামী বিশ্বকাপের জন্য দল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোন ক্রিকেটারকে খেলানো হবে বা একাদশে কারা থাকবেন, সে সিদ্ধান্ত টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের ওপরই রাখতে চান তিনি।
তামিম বলেন, বর্তমান দলের সঙ্গে বাইরে থাকা সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি পুল তৈরি করা হবে। সেখান থেকেই বিশ্বকাপের দল বাছাই করা হবে। বিশেষ কোনো প্রতিভা উঠে এলে সেটি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। বোর্ডের দায়িত্ব হবে ক্রিকেটারদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, মাঠে পারফর্ম করার দায়িত্ব ক্রিকেটারদেরই।
কেন দল নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে চান না তামিম?
জাতীয় দলের নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন বিসিবি সভাপতি। তাঁর মতে, বোর্ড সভাপতি যদি সরাসরি একাদশ নির্বাচন বা খেলোয়াড় বাছাইয়ে যুক্ত হন, তাহলে দলের ব্যর্থতার দায়ও শেষ পর্যন্ত তাঁর ওপর বর্তাবে। এতে নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের জবাবদিহি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়বে।
তামিম বলেন, কোন ১১ জন মাঠে খেলবেন, সেটি তাঁর দায়িত্ব নয়। এই সিদ্ধান্ত টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচক প্যানেল নেবে। তিনি হস্তক্ষেপ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দল ব্যর্থ হলে তখন দায়ও তাঁর ওপর আসবে। ফলে প্রতিটি সিদ্ধান্তে নিজেকে যুক্ত করলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির মধ্যে রাখা সম্ভব হবে না।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সামনে রেখে তাই দল নির্বাচন বা একাদশ সাজানোর পরিবর্তে ক্রিকেটারদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো নিশ্চিত করাকেই নিজের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন তামিম।
তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, খেলোয়াড় বাছাই ও একাদশ নির্ধারণ করবে নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট। অন্যদিকে বোর্ড তাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, সুযোগ-সুবিধা ও কাঠামোগত সহায়তা নিশ্চিত করবে।
পূর্বাচল স্টেডিয়াম নিয়েও বড় পরিকল্পনা
এদিকে পূর্বাচল স্টেডিয়াম নিয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণে প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
বিসিবির নিজস্ব তহবিল থেকে এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হলে প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করেন তামিম। তাই স্টেডিয়াম নির্মাণে সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন তিনি।
তামিম জানান, ২০৩১ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের বিডিংয়ের সময় পূর্বাচল স্টেডিয়ামকে ভেন্যু হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এখন স্টেডিয়াম নির্মাণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিসিবি সভাপতি আশা প্রকাশ করেন, খেলাধুলার প্রতি বর্তমান সরকারের গুরুত্ব বিবেচনায় বিশ্বকাপের স্বার্থে পূর্বাচলে স্টেডিয়াম নির্মাণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যাবে।
সূত্র: সমকাল





























