ঢাকা ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীবিদ্বেষ মোকাবিলায় চলচ্চিত্রকারদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৯:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • / 140

নারীদের চলচ্চিত্রকার হিসেবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জরুরি। ৯০ এর দিকে নারী অবাধে চলাফেরা করতে পারলেও এখন সেটি পারছেনা। চলচ্চিত্র শিল্প এখনও পুরুষকেন্দ্রিক। এই পরিস্থিতিতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কাজ সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রচারের আহ্বান জানান বিশিষ্টজনেরা।

রবিবার ( ০৭ জুন) বিকাল সাড়ে ৪ টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান
মিলনায়তনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান ঘৃণা-বিদ্বেষ প্রচার ও সহিংসতা মোকাবিলায় চলচ্চিত্র উদ্যোক্তাদের সাথে মত-বিনিময় সভায় বিশিষ্টজনেরা এ আহ্বান জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, বক্তব্য দেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা ও পরিবেশ সম্পাদক পারভীন ইসলাম।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা শামীম আখতার, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা মেহজাদ গালিব, শবনম ফেরদৌসী, ঝুমুর আসমা জুইঁ, ফাহাদুল হক, শাহীনূর আখতার, চৈতালী সমাদ্দার, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রশিক্ষক ফরিদ আহমেদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কনটেন্ট রাইটার ফারজানা আফরোজ ও আইটি কো-অর্ডিনেটর দোলন কৃষ্ণ শীল, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সদস্য প্রজ্ঞা লাবণী সাদিয়া।

বক্তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে আমরা এপর্যায়ে আসছি। কিন্তু বাস্তবে চলচ্চিত্রে নারীকে উপস্থাপন একটি ক্ষুদ্র জায়গায় গিয়ে পৌছেছে। নারীর প্রতি সহিংসতা নারীকে পর্দায় উপস্থাপনে নির্মাতাদের সচেতন হতে হবে। নারীর সত্যিকার জীবন সংগ্রাম তুলে ধরার ক্ষেত্রে এক ধরণের বিচ্ছিন্নতা আছে। ৭০ থেকে ৮০ দশকে নারীর জন্য খুব একটা সুবিধাপূর্ণ অবস্থান ছিলনা। তখন নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা খুব একটা ছিলো না। এখনো সেই সমাজ তৈরি হয়নি নারী সন্ধ্যার পরে কর্মক্ষেত্রে যাবে।

তারা আরো বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা ইস্যূতে ১০ বছর আগে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করা হয়েছে কিন্তু এখনকার নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনাগুলো গা শিউরে ওঠার মত। নারী নির্যাতন এর কোন ঘটনা কেবল ভাইরাল হলেই সেবিষয়ে আইনী তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন নারী-পুরুষ উভয়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবিউজার হয়ে উঠছে। আমরা এক ভোগবাদী সমাজে ঢুকে গেছি, যা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সমাজে। চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রশিক্ষণে অনেক সংকটের কথা আসলেও চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট তৈরির সময় সংকটের দিকগুলো উপস্থাপন করা হয়না। এজন্য কোন প্রেক্ষিতে গল্পটা বলা হবে, কোন সমস্যা কিভাবে সংবেদনশীলতা বজায় রেখে উপস্থাপন করা হবে এবিষয়ে চলচ্চিত্রকারদের কাজ করতে হবে। ফিল্ম যতটা তৈরি হয় তা দেখার পর পর্যালোচনা হওয়া জরুরি। ছবির নির্মাতাকে দর্শকের সাথে মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে নারী সংগঠনের মত প্ল্যাটফরম গুরুত্বপূর্ণ। নারী আগেও অবহেলিত ছিলো, এখন আছে, নারীর প্রতি সাইবার সহিংসতার ঘটনায় শাস্তি নিশ্চিতের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ডিজিটাল মাধ্যমে নারীদের উপর সহিংসতার কি ধরণের শাস্তি হবে সেবিষয়ে কনটেন্ট তৈরি করে জেলাগুলোতে প্রচার করা হলে সচেতনতা বাড়বে। সচেতনতা তৈরির জন্য অনলাইনে কনটেন্ট পোষ্ট করার পর সেখানে নেতিবাচক কমেন্ট আসছে। সোশাল মিডিয়ায় কমেন্ট করার ক্ষেত্রে কমেন্ট সেন্স এর অভাব দেখা যাচ্ছে- এবিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে আমাদের কাজ করতে হবে, নেতিবাচক মন্তব্যকে উপেক্ষা করে নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবিলায় সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরির কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা নারীদের চলা সহজ নয়, তারা নানা বাধা ভেঙে সামনে এগিয়েছেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা ও নারী সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, দর্শকদের সচেতন করতে শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক কাজ না করে প্রান্তিক জায়গাগুলোতে কাজ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সমাজে গত কিছুদিন ধরে হত্যা বেড়েছে, নারীর প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব বেড়েছে। জীবনের প্রতি আমাদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্খা তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে, আমাদের নারীর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে কাজের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি এসময় নারীর প্রতি বিদ্বেষ মোকাবিলায় নারী আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে চলচ্চিত্র উদ্যোক্তাসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবেলায় সমাজে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে আসছে। কিন্তু বর্তমান বাস্ততায় দেখা যাচ্ছে, নানা ক্ষেত্রে সমাজ যেন উল্টো দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে আমাদের কাজের পরিধি ও প্রভাব আরও বিস্তৃত করা যায়, সে চিন্তা থেকেই আজকের এই আয়োজন।

তিনি আরো বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃষ্টিশীলতা, অভিজ্ঞতা ও চিন্তাশক্তিকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে একটি নারীবান্ধব, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে আমাদের সম্মিলিতভাবে ভাবতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তির ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করে চলচ্চিত্র উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সমাজে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই আজকের এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে, যাতে আমরা একসঙ্গে কাজ করে আমাদের আকাঙ্খিত সমাজ বিনির্মাণের পথে এগিয়ে যেতে পারি।

লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা বলেন, সমাজ , পরিবার, বিনোদন জগত এবং শিক্ষা কারিকুলাম নারীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের শিক্ষা দিচ্ছে। প্রচার প্রচারণা করছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠন ও চলচ্চিত্রকারদের ভ’মিকা একত্র করে পুন: শিক্ষণ প্রদান করতে হবে। বারবার সমাজে নারীরা নিপীড়িত, নির্যাতিত-এই ইমেজ দেখানো হচ্ছে। কিন্তু নির্যাতিত, নিপীড়িত হওয়ার পরও হওয়ার পরও নারীরা যে অগ্রসর হচ্ছে , তাদের ইতিবাচক অবদানগুলো তুলে ধরা জরুরি। কোন নারী সংগ্রাম ছাড়া এগোয়নি।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, সমাজে প্রযুক্তির প্রভাব এত বেশি দ্রুতগামী যে কোন কিছুর প্রচার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। নারীর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নারী আন্দোলন কে এগিয়ে নিতে পারস্পারিক ভাব বিনিময়ের মাধ্যমে প্রযুক্তি নিয়ে যারা করছেন তাদের সাথে আমাদের কাজ কিভাবে হতে পারে সেবিষয়ে আমাদের ভাবতে হবে।

সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অর্থ উপরিষদ ও তথ্য-প্রযুক্তি উপপরিষদেও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দিল আফরোজ বেগম।

উক্ত মত বিনিময় সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সম্পাদকমন্ডলী, কর্মকর্তা সহ প্রায় ৬০ জন উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নারীবিদ্বেষ মোকাবিলায় চলচ্চিত্রকারদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৯:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

নারীদের চলচ্চিত্রকার হিসেবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জরুরি। ৯০ এর দিকে নারী অবাধে চলাফেরা করতে পারলেও এখন সেটি পারছেনা। চলচ্চিত্র শিল্প এখনও পুরুষকেন্দ্রিক। এই পরিস্থিতিতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কাজ সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রচারের আহ্বান জানান বিশিষ্টজনেরা।

রবিবার ( ০৭ জুন) বিকাল সাড়ে ৪ টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান
মিলনায়তনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান ঘৃণা-বিদ্বেষ প্রচার ও সহিংসতা মোকাবিলায় চলচ্চিত্র উদ্যোক্তাদের সাথে মত-বিনিময় সভায় বিশিষ্টজনেরা এ আহ্বান জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, বক্তব্য দেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা ও পরিবেশ সম্পাদক পারভীন ইসলাম।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা শামীম আখতার, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা মেহজাদ গালিব, শবনম ফেরদৌসী, ঝুমুর আসমা জুইঁ, ফাহাদুল হক, শাহীনূর আখতার, চৈতালী সমাদ্দার, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রশিক্ষক ফরিদ আহমেদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কনটেন্ট রাইটার ফারজানা আফরোজ ও আইটি কো-অর্ডিনেটর দোলন কৃষ্ণ শীল, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সদস্য প্রজ্ঞা লাবণী সাদিয়া।

বক্তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে আমরা এপর্যায়ে আসছি। কিন্তু বাস্তবে চলচ্চিত্রে নারীকে উপস্থাপন একটি ক্ষুদ্র জায়গায় গিয়ে পৌছেছে। নারীর প্রতি সহিংসতা নারীকে পর্দায় উপস্থাপনে নির্মাতাদের সচেতন হতে হবে। নারীর সত্যিকার জীবন সংগ্রাম তুলে ধরার ক্ষেত্রে এক ধরণের বিচ্ছিন্নতা আছে। ৭০ থেকে ৮০ দশকে নারীর জন্য খুব একটা সুবিধাপূর্ণ অবস্থান ছিলনা। তখন নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা খুব একটা ছিলো না। এখনো সেই সমাজ তৈরি হয়নি নারী সন্ধ্যার পরে কর্মক্ষেত্রে যাবে।

তারা আরো বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা ইস্যূতে ১০ বছর আগে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করা হয়েছে কিন্তু এখনকার নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনাগুলো গা শিউরে ওঠার মত। নারী নির্যাতন এর কোন ঘটনা কেবল ভাইরাল হলেই সেবিষয়ে আইনী তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন নারী-পুরুষ উভয়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবিউজার হয়ে উঠছে। আমরা এক ভোগবাদী সমাজে ঢুকে গেছি, যা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সমাজে। চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রশিক্ষণে অনেক সংকটের কথা আসলেও চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট তৈরির সময় সংকটের দিকগুলো উপস্থাপন করা হয়না। এজন্য কোন প্রেক্ষিতে গল্পটা বলা হবে, কোন সমস্যা কিভাবে সংবেদনশীলতা বজায় রেখে উপস্থাপন করা হবে এবিষয়ে চলচ্চিত্রকারদের কাজ করতে হবে। ফিল্ম যতটা তৈরি হয় তা দেখার পর পর্যালোচনা হওয়া জরুরি। ছবির নির্মাতাকে দর্শকের সাথে মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে নারী সংগঠনের মত প্ল্যাটফরম গুরুত্বপূর্ণ। নারী আগেও অবহেলিত ছিলো, এখন আছে, নারীর প্রতি সাইবার সহিংসতার ঘটনায় শাস্তি নিশ্চিতের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ডিজিটাল মাধ্যমে নারীদের উপর সহিংসতার কি ধরণের শাস্তি হবে সেবিষয়ে কনটেন্ট তৈরি করে জেলাগুলোতে প্রচার করা হলে সচেতনতা বাড়বে। সচেতনতা তৈরির জন্য অনলাইনে কনটেন্ট পোষ্ট করার পর সেখানে নেতিবাচক কমেন্ট আসছে। সোশাল মিডিয়ায় কমেন্ট করার ক্ষেত্রে কমেন্ট সেন্স এর অভাব দেখা যাচ্ছে- এবিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে আমাদের কাজ করতে হবে, নেতিবাচক মন্তব্যকে উপেক্ষা করে নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবিলায় সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরির কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা নারীদের চলা সহজ নয়, তারা নানা বাধা ভেঙে সামনে এগিয়েছেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা ও নারী সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, দর্শকদের সচেতন করতে শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক কাজ না করে প্রান্তিক জায়গাগুলোতে কাজ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সমাজে গত কিছুদিন ধরে হত্যা বেড়েছে, নারীর প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব বেড়েছে। জীবনের প্রতি আমাদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্খা তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে, আমাদের নারীর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে কাজের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি এসময় নারীর প্রতি বিদ্বেষ মোকাবিলায় নারী আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে চলচ্চিত্র উদ্যোক্তাসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবেলায় সমাজে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে আসছে। কিন্তু বর্তমান বাস্ততায় দেখা যাচ্ছে, নানা ক্ষেত্রে সমাজ যেন উল্টো দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে আমাদের কাজের পরিধি ও প্রভাব আরও বিস্তৃত করা যায়, সে চিন্তা থেকেই আজকের এই আয়োজন।

তিনি আরো বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃষ্টিশীলতা, অভিজ্ঞতা ও চিন্তাশক্তিকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে একটি নারীবান্ধব, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে আমাদের সম্মিলিতভাবে ভাবতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তির ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করে চলচ্চিত্র উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সমাজে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই আজকের এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে, যাতে আমরা একসঙ্গে কাজ করে আমাদের আকাঙ্খিত সমাজ বিনির্মাণের পথে এগিয়ে যেতে পারি।

লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা বলেন, সমাজ , পরিবার, বিনোদন জগত এবং শিক্ষা কারিকুলাম নারীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের শিক্ষা দিচ্ছে। প্রচার প্রচারণা করছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠন ও চলচ্চিত্রকারদের ভ’মিকা একত্র করে পুন: শিক্ষণ প্রদান করতে হবে। বারবার সমাজে নারীরা নিপীড়িত, নির্যাতিত-এই ইমেজ দেখানো হচ্ছে। কিন্তু নির্যাতিত, নিপীড়িত হওয়ার পরও হওয়ার পরও নারীরা যে অগ্রসর হচ্ছে , তাদের ইতিবাচক অবদানগুলো তুলে ধরা জরুরি। কোন নারী সংগ্রাম ছাড়া এগোয়নি।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, সমাজে প্রযুক্তির প্রভাব এত বেশি দ্রুতগামী যে কোন কিছুর প্রচার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। নারীর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নারী আন্দোলন কে এগিয়ে নিতে পারস্পারিক ভাব বিনিময়ের মাধ্যমে প্রযুক্তি নিয়ে যারা করছেন তাদের সাথে আমাদের কাজ কিভাবে হতে পারে সেবিষয়ে আমাদের ভাবতে হবে।

সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অর্থ উপরিষদ ও তথ্য-প্রযুক্তি উপপরিষদেও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দিল আফরোজ বেগম।

উক্ত মত বিনিময় সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সম্পাদকমন্ডলী, কর্মকর্তা সহ প্রায় ৬০ জন উপস্থিত ছিলেন।