ঢাকা ০৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • / 10

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৩

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে আজ বুধবারও (২৯ জুলাই) জোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুর কুমামোতো অঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে বহু ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
খবর এপির।

তাকাইচি বলেন, এখনও অনেক মানুষ উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এটি সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই। যত বেশি সম্ভব মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। প্রধানমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তীব্র গরমের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

দেশটির সরকার জানিয়েছে, জাপান সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে যৌথভাবে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পানি, খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, কাশিমা টাউনের এইওন শপিং মলের দ্বিতীয় তলা ধসে পড়ায় বেশ কয়েকজন ভেতরে আটকা পড়েছেন।

এছাড়া নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়াতসুশিরো কারখানার একটি চিমনি ধসে পড়লে ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েকজন আটকে পড়েন।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।

ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি জানিয়েছে, বড় ধরনের সরকারি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। একই সঙ্গে নিউক্লিয়ার রেগুলেশন অথরিটি জানিয়েছে, আশপাশের তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সংস্থা কিয়োদো নিউজ জানিয়েছে, ইয়াতসুশিরো শহরের একটি হাসপাতালে প্রায় ৪০ জন আহত চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া আরও প্রায় ৫০ জনকে কুমামোতো শহরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর কিউশুর অনেক বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখলেও প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য না পাওয়ায় বুধবার থেকে উৎপাদন পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে আসো কুমামোতো বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কবে থেকে আবার বিমান চলাচল শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

এছাড়া ইয়াতসুশিরো স্টেশনে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পাশের দিকে উল্টে যায়। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কুমামোতো দুর্গের পাথরের দেয়ালেরও কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৬ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দুর্গটির সংস্কারকাজ এখনও চলমান।

মিফুনে টাউন হলের কর্মকর্তা হিরোকি শিমোদা বলেন, এই কম্পন আমাকে ১০ বছর আগের কুমামোতো ভূমিকম্পের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। আশপাশের বাড়িগুলোর ছাদের টালি মাটিতে ভেঙে পড়তে দেখেছি।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে কুমামোতোতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছিলেন।

জাপান আবহাওয়া সংস্থার কর্মকর্তা শিনজি কিওমোতো বাসিন্দাদের আগামী দুই থেকে তিন দিন সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এ সময়ের মধ্যে আফটারশক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৩

সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে আজ বুধবারও (২৯ জুলাই) জোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুর কুমামোতো অঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে বহু ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
খবর এপির।

তাকাইচি বলেন, এখনও অনেক মানুষ উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এটি সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই। যত বেশি সম্ভব মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। প্রধানমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তীব্র গরমের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

দেশটির সরকার জানিয়েছে, জাপান সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে যৌথভাবে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পানি, খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, কাশিমা টাউনের এইওন শপিং মলের দ্বিতীয় তলা ধসে পড়ায় বেশ কয়েকজন ভেতরে আটকা পড়েছেন।

এছাড়া নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়াতসুশিরো কারখানার একটি চিমনি ধসে পড়লে ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েকজন আটকে পড়েন।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।

ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি জানিয়েছে, বড় ধরনের সরকারি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। একই সঙ্গে নিউক্লিয়ার রেগুলেশন অথরিটি জানিয়েছে, আশপাশের তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সংস্থা কিয়োদো নিউজ জানিয়েছে, ইয়াতসুশিরো শহরের একটি হাসপাতালে প্রায় ৪০ জন আহত চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া আরও প্রায় ৫০ জনকে কুমামোতো শহরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর কিউশুর অনেক বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখলেও প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য না পাওয়ায় বুধবার থেকে উৎপাদন পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে আসো কুমামোতো বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কবে থেকে আবার বিমান চলাচল শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

এছাড়া ইয়াতসুশিরো স্টেশনে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পাশের দিকে উল্টে যায়। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কুমামোতো দুর্গের পাথরের দেয়ালেরও কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৬ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দুর্গটির সংস্কারকাজ এখনও চলমান।

মিফুনে টাউন হলের কর্মকর্তা হিরোকি শিমোদা বলেন, এই কম্পন আমাকে ১০ বছর আগের কুমামোতো ভূমিকম্পের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। আশপাশের বাড়িগুলোর ছাদের টালি মাটিতে ভেঙে পড়তে দেখেছি।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে কুমামোতোতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছিলেন।

জাপান আবহাওয়া সংস্থার কর্মকর্তা শিনজি কিওমোতো বাসিন্দাদের আগামী দুই থেকে তিন দিন সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এ সময়ের মধ্যে আফটারশক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।