ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে অপ্রতিমকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 43

বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে অপ্রতিমকে হত্যা

দামি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পূর্বপরিকল্পনা থেকেই শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় অপ্রতিম। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাঁশের ভারী লাঠি দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামির জবানবন্দির বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। রোববার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

গ্রেপ্তার তিন আসামি হলেন তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা থেকে সোয়া ২টার মধ্যে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন বনের দিকে যায়। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার আগেই প্রযুক্তির সহায়তায় তুহিনকে নজরদারিতে এনে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে, অপ্রতিমের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে কৌশলে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ পরিকল্পনায় ফাহাদ ও কামরুলও জড়িত ছিল। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদকে এবং পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার গহিন জঙ্গলে অপ্রতিমের ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের ভারী লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। পরে তার মরদেহ সেখানে ফেলে রেখে আইফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

ফোন উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশ জানায়, তুহিন প্রথমে তদন্ত কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করতে ভুল তথ্য দেয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনটি পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়েও ফোনটি পাওয়া যায়নি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে প্রকৃত তথ্য দিলে তার নিজ বাড়ি থেকে অপ্রতিমের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রধান তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারও মদত রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার মতো অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতে বিশেষ আবেদন জানানো হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে অপ্রতিমকে হত্যা

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দামি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পূর্বপরিকল্পনা থেকেই শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় অপ্রতিম। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাঁশের ভারী লাঠি দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামির জবানবন্দির বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। রোববার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

গ্রেপ্তার তিন আসামি হলেন তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা থেকে সোয়া ২টার মধ্যে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন বনের দিকে যায়। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার আগেই প্রযুক্তির সহায়তায় তুহিনকে নজরদারিতে এনে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে, অপ্রতিমের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে কৌশলে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ পরিকল্পনায় ফাহাদ ও কামরুলও জড়িত ছিল। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদকে এবং পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার গহিন জঙ্গলে অপ্রতিমের ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের ভারী লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। পরে তার মরদেহ সেখানে ফেলে রেখে আইফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

ফোন উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশ জানায়, তুহিন প্রথমে তদন্ত কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করতে ভুল তথ্য দেয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনটি পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়েও ফোনটি পাওয়া যায়নি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে প্রকৃত তথ্য দিলে তার নিজ বাড়ি থেকে অপ্রতিমের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রধান তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারও মদত রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার মতো অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতে বিশেষ আবেদন জানানো হবে।