নিখোঁজের ৭ দিন পর ডোবায় শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৩০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 59
পাবনায় নিখোঁজের সাত দিন পর মোছা. কামরুন্নাহার কলি (১০) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার দোগাছী কুলোনিয়া গ্রামের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা ডোবায় বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাসহ আশপাশের এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত কামরুন্নাহার কলি দোগাছী কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে গিয়েছিল কলি। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়িতে ফিরে বাজারের ব্যাগ মায়ের হাতে দিয়ে বাড়ির পাশে যায় সে। এরপর সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে কলির পরিহিত স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। পরে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির বাবা।
নিখোঁজের পর বিভিন্ন মাধ্যমে কলির সন্ধান চেয়ে প্রচার চালায় পরিবার। মঙ্গলবার পাবনা শহরে তার স্বজন ও সহপাঠীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন।
এর পরদিন বুধবার সকালে বাড়ির পাশের ডোবায় বস্তাবন্দি অবস্থায় কলির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয়দের ধারণা, শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তারা পুলিশকে বেশ কিছু তথ্য ও সম্ভাব্য সূত্র দিয়েছিলেন। তবে সেগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি বলে তাদের দাবি। স্থানীয় কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করছেন তারা। যদিও কামাল প্রামাণিকের সঙ্গে স্থানীয় কারও পূর্ববিরোধ ছিল না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
শিশুটির বাবা কামাল প্রামাণিক বলেন, বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে তার মেয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। মেয়েকে কারা হত্যা করেছে, তা দ্রুত শনাক্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর কারণ এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।






























