রায়পুরায় শ্রীরামপুর-ভৈরব সড়ক নির্মাণের উদ্যোগে প্রশংসা
- সর্বশেষ আপডেট ০১:১৫:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 195
নরসিংদীর রায়পুরায় দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীরামপুর রেলগেট থেকে ভৈরব পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলসহ সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রায়পুরা ও আশপাশের এলাকার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট নিরসনে শ্রীরামপুর রেলগেট থেকে ভৈরব পর্যন্ত রেললাইনের পাশ দিয়ে নতুন সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি সংসদে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রস্তাবিত সড়কটি বাস্তবায়িত হলে রায়পুরা ও ভৈরবসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি কৃষিপণ্য দ্রুত ও কম খরচে বিভিন্ন বাজারে নেওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি মানবিক ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করতে চান তিনি। রায়পুরার চরাঞ্চলসহ পুরো এলাকার টেকসই উন্নয়নে তিনি দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত বলেও জানান।
তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতার বিকল্প নেই। জাতীয় অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং আধুনিক ডিজিটাল নেটওয়ার্ক গঠনে নিজের কারিগরি জ্ঞান কাজে লাগানোর কথা জানান তিনি।
প্রস্তাবিত সড়ক প্রসঙ্গে বকুল বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে একটি বিকল্প সড়ক নির্মিত হলে স্থানীয় জনসাধারণের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে। জনদুর্ভোগ কমার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।’
স্থানীয়দের মতে, সড়কটি নির্মিত হলে রায়পুরার বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিপণ্য দ্রুত ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো সম্ভব হবে। ভৈরব গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্র হওয়ায় নতুন সড়কটি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল দায়িত্ব নেওয়ার পর রায়পুরার বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সক্রিয় হয়েছেন। বাজেটের সমবণ্টন, অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমেও তিনি অবস্থান নিয়েছেন বলে তারা জানান।
তাদের ভাষ্য, বকুল বলেছেন; প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দুর্নীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ঘনিষ্ঠজন হলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এ ছাড়া চরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বিরোধ ও সংঘাত নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেন। তাদের মতে, এর ফলে সংঘাতপূর্ণ এলাকার অনেক পরিবার নিজ বাড়িতে ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করেছে।
চরাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে চর-রায়পুরা নতুন থানার জন্য ১১৩ জন জনবল ও ছয়টি সরকারি যানবাহন অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান। এটি বাস্তবায়িত হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, রায়পুরাসহ দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় জাতীয় সংসদে তুলে ধরার কারণে ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলের কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে। প্রস্তাবিত সড়কসহ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে রায়পুরার যোগাযোগ, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা করছেন।
এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন উপজেলা বিএনপির অন্যতম নেত্রী ও ওয়াটসন গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান জান্নাতুল হক শাপলা, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফাইজুর রহমান, রায়পুরা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রহমান খোকন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল হক ভূঁইয়া মোহন, পৌর বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস আলী মুন্সী, সাবেক মেয়র আব্দুল কুদ্দুস, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পলাশ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল বাতেন, জেলা বিএনপির সদস্য কাজী আশাদুর রহমান মিলন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলফাজ উদ্দিন মিঠু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আহমেদ চৌধুরী মানিক, ওয়াটসন গ্রুপ অব কোম্পানির ম্যানেজার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন আরিফ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া আলতাফ, উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব মইনুল সরকার, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি ফিরোজ আল মুজাহিদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন ভূঁইয়া মাসুদ, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল বাছেদ, উপজেলা বিএনপির সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সদস্য কামাল হোসেন, চর আড়ালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান মিঠু, রায়পুরা পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সোহেল, সদস্যসচিব সুমন নেওয়াজ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ইয়াকুব আলী, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী আফরিনা আসাদ ও সাধারণ সম্পাদক আসমা আক্তার, উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক হান্নান মোল্লা ও সদস্যসচিব মইনুল সরকার, উপজেলা তাঁতীদলের সভাপতি হুরমুজ মোল্লা ও সদস্যসচিব শেখ আলমগীর হোসেন, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক ফিরোজ আল মুজাহিদ ও সদস্যসচিব শহীদুল ইসলাম এবং রায়পুরা তাঁতীদলের সভাপতি ডা. শহিদুল ইসলাম চান মিয়া ও সদস্যসচিব মো. বাদল মিয়া।
































