ঢাকা ০৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৮ জন

ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশির করুণ মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:২১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 26

ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশির করুণ মৃত্যু

লিবিয়া থেকে সাগরপথে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকায় থাকা অন্তত ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি ছাড়া সাগরে ভেসে থাকার কারণে তাদের মৃত্যু হয় বলে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা যাত্রা করে। তাদের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি বলে জানা গেছে।

যাত্রার কিছুক্ষণ পর নৌকাটি ঝড়ের কবলে পড়ে। এতে নৌকায় থাকা খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপর কোনো খাবার-পানি ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা অব্যাহত রাখেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।

গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ফলে সেটি সাগরে ভাসতে থাকে। এভাবে টানা নয় দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছায়। পরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম জানান, ৪২ জন গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় তারা আর সামনে এগোতে পারেননি।

তিনি বলেন, নৌকায় থাকা খাবার ও পানি শেষ হয়ে যাওয়ার পর অনাহার ও পানিশূন্যতায় একের পর এক মানুষ মারা যেতে থাকেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নয়জন বাংলাদেশি চোখের সামনেই মারা যান। পরে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।

আব্দুল করিম বলেন, দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকায় অনেকের শরীরে ক্ষত ও পচন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে মিশরের হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে। দেশে ফেরার আকুতিও জানান তিনি।

এদিকে মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক এবং স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া সবার জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসার অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তারা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে আটক বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৮ জন

ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশির করুণ মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট ০৫:২১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

লিবিয়া থেকে সাগরপথে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকায় থাকা অন্তত ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি ছাড়া সাগরে ভেসে থাকার কারণে তাদের মৃত্যু হয় বলে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা যাত্রা করে। তাদের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি বলে জানা গেছে।

যাত্রার কিছুক্ষণ পর নৌকাটি ঝড়ের কবলে পড়ে। এতে নৌকায় থাকা খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপর কোনো খাবার-পানি ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা অব্যাহত রাখেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।

গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ফলে সেটি সাগরে ভাসতে থাকে। এভাবে টানা নয় দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছায়। পরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম জানান, ৪২ জন গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় তারা আর সামনে এগোতে পারেননি।

তিনি বলেন, নৌকায় থাকা খাবার ও পানি শেষ হয়ে যাওয়ার পর অনাহার ও পানিশূন্যতায় একের পর এক মানুষ মারা যেতে থাকেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নয়জন বাংলাদেশি চোখের সামনেই মারা যান। পরে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।

আব্দুল করিম বলেন, দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকায় অনেকের শরীরে ক্ষত ও পচন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে মিশরের হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে। দেশে ফেরার আকুতিও জানান তিনি।

এদিকে মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক এবং স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া সবার জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসার অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তারা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে আটক বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।