ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘হেযবুত তাওহীদ’ নিষিদ্ধের দাবি হেফাজতে ইসলামের

নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 156

‘হেযবুত তাওহীদ’ নিষিদ্ধের দাবি হেফাজতে ইসলামের

নোয়াখালীতে আয়োজিত এক ইসলামি মহাসমাবেশ থেকে ‘হেযবুত তাওহীদ’কে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সংগঠনটিকে কালো তালিকাভুক্ত করা, এর প্রকাশনা ও কার্যক্রম বন্ধ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে, জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর ও ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের দাবি, এতে লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী অভিযোগ করেন, ‘হেযবুত তাওহীদ’ সেবামূলক কর্মকাণ্ডের আড়ালে বিভ্রান্তিকর মতাদর্শ প্রচার করছে। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ড দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। তাই সংগঠনটিকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

দুই পর্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান এবং হেফাজতে ইসলাম নোয়াখালী জেলার আমির মাওলানা নিজাম উদ্দিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুফতি মুঈনুদ্দিন তৈয়বপুরী ও মাওলানা মহিউদ্দিন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা খলিল আহমদ কুরাইশী, খতমে নবুওত সংরক্ষণ কমিটির আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ মধুপুরী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরার মহাপরিচালক মুফতি আরশাদ রহমানী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব শায়খ সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিমসহ বিভিন্ন আলেম ও ইসলামী ব্যক্তিত্ব।

সমাবেশে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ, ব্যবসায়ী নেতা মো. ইকরাম উল্লাহ ডিপটি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সংহতি প্রকাশ করেন।

সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি কয়েকটি দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে—‘হেযবুত তাওহীদ’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা, সংগঠনটির প্রকাশিত বই, পত্রিকা ও ওয়েবসাইট বন্ধ করা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব তদন্ত এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার।

এ ছাড়া দাবি আদায়ে দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেমিনার, মাহফিল ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির ধারাবাহিক কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

‘হেযবুত তাওহীদ’ নিষিদ্ধের দাবি হেফাজতে ইসলামের

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

নোয়াখালীতে আয়োজিত এক ইসলামি মহাসমাবেশ থেকে ‘হেযবুত তাওহীদ’কে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সংগঠনটিকে কালো তালিকাভুক্ত করা, এর প্রকাশনা ও কার্যক্রম বন্ধ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে, জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর ও ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের দাবি, এতে লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী অভিযোগ করেন, ‘হেযবুত তাওহীদ’ সেবামূলক কর্মকাণ্ডের আড়ালে বিভ্রান্তিকর মতাদর্শ প্রচার করছে। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ড দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। তাই সংগঠনটিকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

দুই পর্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান এবং হেফাজতে ইসলাম নোয়াখালী জেলার আমির মাওলানা নিজাম উদ্দিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুফতি মুঈনুদ্দিন তৈয়বপুরী ও মাওলানা মহিউদ্দিন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা খলিল আহমদ কুরাইশী, খতমে নবুওত সংরক্ষণ কমিটির আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ মধুপুরী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরার মহাপরিচালক মুফতি আরশাদ রহমানী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব শায়খ সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিমসহ বিভিন্ন আলেম ও ইসলামী ব্যক্তিত্ব।

সমাবেশে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ, ব্যবসায়ী নেতা মো. ইকরাম উল্লাহ ডিপটি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সংহতি প্রকাশ করেন।

সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি কয়েকটি দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে—‘হেযবুত তাওহীদ’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা, সংগঠনটির প্রকাশিত বই, পত্রিকা ও ওয়েবসাইট বন্ধ করা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব তদন্ত এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার।

এ ছাড়া দাবি আদায়ে দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেমিনার, মাহফিল ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির ধারাবাহিক কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।