বাংলাদেশের সদস্যপদ স্থগিত চেয়ে আইসিসিকে আমিনুলের চিঠি
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
- / 9
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ১৪ পৃষ্ঠার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি নিজেকে বিসিবির বৈধ সভাপতি দাবি করার পাশাপাশি বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছেন।
জানা গেছে, গত সপ্তাহের শুরুতে আইনজীবী এএসএম সাজ্জাদ হায়দারের মাধ্যমে দুবাইয়ে আইসিসির সদর দপ্তরে চিঠিটি পাঠানো হয়। বুলবুলের সময়কার বিসিবির সব পরিচালকের পক্ষে ওই চিঠিতে তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে বলেও জানা গেছে।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত চিঠির বিভিন্ন অংশ অনুযায়ী, বুলবুল আইসিসির কাছে বাংলাদেশের পূর্ণ সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত, বিসিবির জন্য বরাদ্দ আইসিসির তহবিল বন্ধ এবং বাংলাদেশকে আইসিসির বিভিন্ন টুর্নামেন্ট থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইসিসির তত্ত্বাবধানে বিসিবির নতুন নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধও করেন তিনি।
চিঠির ‘পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আইসিসি তহবিল স্থগিতকরণ’ শীর্ষক অংশে বলা হয়েছে, বিসিবির জন্য বরাদ্দ আইসিসির সব তহবিল এসক্রো হিসাবে সংরক্ষণ বা স্থগিত রাখা হোক, যতক্ষণ না নির্বাচিত বোর্ড পুনর্বহাল হয় অথবা আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি (ডিআরসি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় এবং বাংলাদেশে চলমান আদালতের মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয়। এছাড়া ৭ জুন ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত কোনো বোর্ডকে আইসিসির তহবিল না দেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
‘বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা’ শীর্ষক অংশে বুলবুল দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ভোটার তালিকার মাধ্যমে ৭ জুন ২০২৬ সালের বিসিবি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা আইসিসির সংবিধানের ২.৪(গ) ও ২.৪(ঘ) ধারার লঙ্ঘন। তিনি আইসিসিকে ওই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বোর্ডকে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং নির্বাচিত বোর্ড পুনর্বহালের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন না হলে আইসিসির সংবিধানের ২.১০(ক) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ করেন। সম্ভাব্য ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে বিসিবির পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিত, আইসিসির তহবিল বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়া।
এদিকে গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের আবেদনের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তামিমের দাবি ছিল, রাজধানীর ৭৬টি ক্লাবের মধ্যে ৫০টি ক্লাব তদন্তের পক্ষে মত দিয়েছিল।
পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী এনএসসি বুলবুলকে অপসারণ করে এবং বিসিবির ভবিষ্যৎ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানায়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩০ মে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ফারুক আহমেদকে কাউন্সিলর পদ থেকে অপসারণ করার পর আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শুরুতে নির্বাচন সম্পন্ন করেই দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেও পরে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে শেষ পর্যন্ত দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকতে পারেননি।

































