মাদক মামলার জটে সুবিধা পাচ্ছে আসামিরা
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
- / 12
দেশে প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হচ্ছে এবং এর সুযোগ নিচ্ছে অনেক আসামি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও অবকাঠামো পর্যাপ্ত নয়, তাই আইন সংশোধন ও পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশে মাদকসংক্রান্ত মামলার জট উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার মতে, দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই আসামিরা সুবিধা পাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় প্রায় ১৮ হাজার এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৩৯ হাজার মামলা রয়েছে। এত বিপুল মামলার চাপ সামাল দিতে গিয়ে আদালতগুলো হিমশিম খাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে কার্যকরভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক মাদক কারবারীর নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী থাকলেও অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের কাছে প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম নেই। এ অবস্থাকে তিনি ‘ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দার’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশে মাদক পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার নেই। ফলে জব্দ হওয়া মাদকের নমুনা দ্রুত পরীক্ষা ও মামলার আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বিলম্ব হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে বিদ্যমান এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতগুলোও এসব মামলা বিচার করবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিজস্ব হাজতখানা নেই। সংশোধিত আইনে হাজতখানা নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ডগ স্কোয়াড এবং আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের বিধান রাখা হচ্ছে। এসব সক্ষমতা বাড়ানোর পর আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি জানান, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনলাইনে মাদক কেনাবেচা, অর্থ পাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধ বেড়েছে। এসব প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রয়োজন। এজন্য মাদক আইনের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং ও সাইবার অপরাধসংক্রান্ত আইনও আধুনিকায়ন করা হবে।































