ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তাসহ নদী ব্যবস্থাপনায় একসঙ্গে কাজ করবে ঢাকা-বেইজিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৭:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • / 71

তিস্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ এবং পানি সম্পদের উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন।

বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইংয়ের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্য হয়। একই সঙ্গে তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারেও ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে চীন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং। বৈঠকে তিস্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ খসড়া তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ১ হাজার ২৯৪টি নদী রয়েছে। দেশের নদীগুলো উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বিশাল নদী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা কৃষি, নৌপরিবহন, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৫টি প্রধান নদী, ৯২টি মাঝারি নদী এবং এক হাজারের বেশি ছোট নদী রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি প্রবাহের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে চলমান নদী খনন কর্মসূচির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বন্যার ঝুঁকি কমানো, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার নদী পুনরুদ্ধার ও খনন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ কাজে চীনের প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বিশেষভাবে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা ও কারিগরি সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে নদীভাঙন রোধ, সেচব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নেও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

জবাবে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৫ সালের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং গত বছর চীনা পানি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফর দুই দেশের সহযোগিতার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চীনের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প। তবে শুধু তিস্তা নয়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, নদী খনন, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন এবং নদীকেন্দ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নেও সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী বেইজিং। সাম্প্রতিক সময়ে তিস্তা প্রকল্পে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তার বিষয়েও ইতিবাচক আগ্রহ দেখিয়েছে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

লি গোওইং বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা ও নদী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চীনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে। তিনি বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তিস্তাসহ নদী ব্যবস্থাপনায় একসঙ্গে কাজ করবে ঢাকা-বেইজিং

সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৭:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

তিস্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ এবং পানি সম্পদের উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন।

বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইংয়ের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্য হয়। একই সঙ্গে তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারেও ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে চীন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং। বৈঠকে তিস্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ খসড়া তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ১ হাজার ২৯৪টি নদী রয়েছে। দেশের নদীগুলো উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বিশাল নদী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা কৃষি, নৌপরিবহন, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৫টি প্রধান নদী, ৯২টি মাঝারি নদী এবং এক হাজারের বেশি ছোট নদী রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি প্রবাহের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে চলমান নদী খনন কর্মসূচির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বন্যার ঝুঁকি কমানো, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার নদী পুনরুদ্ধার ও খনন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ কাজে চীনের প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বিশেষভাবে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা ও কারিগরি সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে নদীভাঙন রোধ, সেচব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নেও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

জবাবে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৫ সালের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং গত বছর চীনা পানি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফর দুই দেশের সহযোগিতার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চীনের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প। তবে শুধু তিস্তা নয়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, নদী খনন, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন এবং নদীকেন্দ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নেও সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী বেইজিং। সাম্প্রতিক সময়ে তিস্তা প্রকল্পে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তার বিষয়েও ইতিবাচক আগ্রহ দেখিয়েছে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

লি গোওইং বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা ও নদী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চীনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে। তিনি বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।