ঢাকা ১২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোমবারই পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪২:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • / 14

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তনের আভাস দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘অবজারভার’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবার (২২ জুন) পদত্যাগ করতে পারেন। একই সাথে তিনি তাঁর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক সময়সূচিও ঘোষণা করবেন বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। একাধিক কেলেঙ্কারি, নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যর্থতার অভিযোগে গত কয়েক মাস ধরেই তাঁর নেতৃত্বের ওপর তীব্র চাপ বাড়ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর এই সংকটের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছে গত শুক্রবারের একটি উপ-নির্বাচন। ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র ও স্টারমারের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম ওই উপ-নির্বাচনে পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন। এই জয়ের ফলে তিনি এখন স্টারমারের নেতৃত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যালেঞ্জ করার আইনি ও রাজনৈতিক অধিকার লাভ করলেন। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, স্টারমারের নিজস্ব দল লেবার পার্টির ১০০ জনেরও বেশি এমপি—যা হাউস অব কমন্সে দলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ—ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। মন্ত্রিসভার সদস্য, দলীয় উপদেষ্টা, প্রধান দাতা এবং শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর স্টারমার নিজেও বুঝতে পেরেছেন যে তাঁর অবস্থান আর টিকসই নয়।

অবজারভারের তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বর্তমানে তাঁর গ্রামীণ সরকারি বাসভবন ‘চেকার্স’-এ তাঁর স্ত্রীর সাথে উদ্ভূত পরিস্থিতি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সরকারি সূত্র দাবি করেছে, প্রধানমন্ত্রী এখনো সরকার পরিচালনার কাজেই পূর্ণ মনোযোগ ধরে রেখেছেন এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে তিনি প্রস্তুত।

যদি স্টারমার শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন, তবে তা হবে গত এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন, যা দেশটির রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার এক নজিরবিহীন চিত্র। এদিকে লেবার পার্টির বড় একটি অংশ ৫৬ বছর বয়সী অ্যান্ডি বার্নহামকে স্টারমারের যোগ্য উত্তরসূরি এবং দেশের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী রেচেল রিভসকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও গুঞ্জন উঠেছে। সব মিলিয়ে সোমবার কিয়ার স্টারমার কী ঘোষণা দেন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সোমবারই পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪২:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তনের আভাস দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘অবজারভার’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবার (২২ জুন) পদত্যাগ করতে পারেন। একই সাথে তিনি তাঁর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক সময়সূচিও ঘোষণা করবেন বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। একাধিক কেলেঙ্কারি, নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যর্থতার অভিযোগে গত কয়েক মাস ধরেই তাঁর নেতৃত্বের ওপর তীব্র চাপ বাড়ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর এই সংকটের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছে গত শুক্রবারের একটি উপ-নির্বাচন। ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র ও স্টারমারের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম ওই উপ-নির্বাচনে পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন। এই জয়ের ফলে তিনি এখন স্টারমারের নেতৃত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যালেঞ্জ করার আইনি ও রাজনৈতিক অধিকার লাভ করলেন। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, স্টারমারের নিজস্ব দল লেবার পার্টির ১০০ জনেরও বেশি এমপি—যা হাউস অব কমন্সে দলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ—ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। মন্ত্রিসভার সদস্য, দলীয় উপদেষ্টা, প্রধান দাতা এবং শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর স্টারমার নিজেও বুঝতে পেরেছেন যে তাঁর অবস্থান আর টিকসই নয়।

অবজারভারের তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বর্তমানে তাঁর গ্রামীণ সরকারি বাসভবন ‘চেকার্স’-এ তাঁর স্ত্রীর সাথে উদ্ভূত পরিস্থিতি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সরকারি সূত্র দাবি করেছে, প্রধানমন্ত্রী এখনো সরকার পরিচালনার কাজেই পূর্ণ মনোযোগ ধরে রেখেছেন এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে তিনি প্রস্তুত।

যদি স্টারমার শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন, তবে তা হবে গত এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন, যা দেশটির রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার এক নজিরবিহীন চিত্র। এদিকে লেবার পার্টির বড় একটি অংশ ৫৬ বছর বয়সী অ্যান্ডি বার্নহামকে স্টারমারের যোগ্য উত্তরসূরি এবং দেশের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী রেচেল রিভসকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও গুঞ্জন উঠেছে। সব মিলিয়ে সোমবার কিয়ার স্টারমার কী ঘোষণা দেন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।