ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজউক কর্মচারীর রহস্যময় সম্পদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / 29

রাজউক এর কানুনগো মো. আব্দুল মোমিন। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরির সীমিত বেতনে যেখানে একটি পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এক কর্মচারীর নামে-বেনামে গড়ে উঠেছে কোটি কোটি টাকার সম্পদের সাম্রাজ্য। বহুতল ভবন, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, প্লট ও বিপুল জমির মালিকানা নিয়ে এখন প্রশ্নের মুখে রাজউকের কানুনগো মো. আব্দুল মোমিন।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দপ্তরের প্রভাব খাটিয়ে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি। অথচ তাঁর আনুমানিক মাসিক বেতন মাত্র ২৮ হাজার টাকা।

রাজধানীর মুগদার দক্ষিণ মান্ডার ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের ৭ নম্বর প্লটে প্রায় পাঁচ কাঠা জমির ওপর নির্মিত হয়েছে সাততলা বাড়ি ‘শান্তির নীড় সুলতানা মহল’। এলাকাবাসীর ভাষ্য, বাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা।

আধুনিক নকশা, উন্নত নির্মাণসামগ্রী ও অভিজাত ফিনিশিংয়ের কারণে ভবনটি এলাকায় আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন সরকারি কর্মচারীর পক্ষে এমন ব্যয়বহুল ভবনের মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মতিঝিলের কবি জসীমউদ্দীন রোডের ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ নামের ৯ তলা ভবনে রয়েছে মোমিনের দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। এর মধ্যে ১ হাজার ৭২৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা।

জানা গেছে, পরিবার নিয়ে বর্তমানে তিনি ওই ফ্ল্যাটেই বসবাস করছেন। একই ভবনের কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, তাঁর জীবনযাত্রা একজন সফল ব্যবসায়ীর মতোই বিলাসবহুল।

সম্পদের তালিকায় রয়েছে সাভারের ভাদাইল এলাকায় পুরাতন ইপিজেড সংলগ্ন প্রায় দুই বিঘা জমি। সেখানে একাধিক টিনশেড ঘর নির্মাণ করে পোশাকশ্রমিকদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় জমি ব্যবসায়ীদের মতে, এই সম্পত্তির বর্তমান মূল্য অন্তত ৫ কোটি টাকা।

এ ছাড়া পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে তাঁর স্ত্রীর নামে একটি প্লট থাকার তথ্যও মিলেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক সময় সম্পদের প্রকৃত মালিকানা আড়াল করতে স্ত্রী বা স্বজনদের নামে সম্পত্তি কেনা হয়। এ ক্ষেত্রেও একই কৌশল অনুসরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মো. আব্দুল মোমিন ১৯৯৮ সালে রাজউকে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী হিসেবে যোগ দেন। পরে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৩ সালে চুক্তিভিত্তিক এবং ২০১৭ সালে স্থায়ী নিয়োগ পান।

রাজউকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ২০১৩ সালের পর থেকেই তাঁর আর্থিক অবস্থার দৃশ্যমান পরিবর্তন শুরু হয়।

মোমিনের বিরুদ্ধে প্লট হস্তান্তর, নকশা অনুমোদন ও বিভিন্ন আবাসন সংক্রান্ত কাজে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমানের দায়িত্বকালেও (জুন ২০১৭ থেকে মে ২০১৯) গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তিতে তাঁর প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, তাঁর সম্মতি ছাড়া অনেক ফাইলই উচ্চপর্যায়ে যেত না।

দুর্নীতিবিরোধী বিশ্লেষকদের মতে, রাজউকের মতো সংস্থাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ফাইল বাণিজ্য, ঘুষ ও অনুমোদন সিন্ডিকেটের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। আর সেই সুযোগেই কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হচ্ছেন।

জানা গেছে, আব্দুল মোমিনের সম্পদ ও অর্থ লেনদেন নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান করছে। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. আব্দুল মোমিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রাজউক কর্মচারীর রহস্যময় সম্পদ!

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

সরকারি চাকরির সীমিত বেতনে যেখানে একটি পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এক কর্মচারীর নামে-বেনামে গড়ে উঠেছে কোটি কোটি টাকার সম্পদের সাম্রাজ্য। বহুতল ভবন, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, প্লট ও বিপুল জমির মালিকানা নিয়ে এখন প্রশ্নের মুখে রাজউকের কানুনগো মো. আব্দুল মোমিন।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দপ্তরের প্রভাব খাটিয়ে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি। অথচ তাঁর আনুমানিক মাসিক বেতন মাত্র ২৮ হাজার টাকা।

রাজধানীর মুগদার দক্ষিণ মান্ডার ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের ৭ নম্বর প্লটে প্রায় পাঁচ কাঠা জমির ওপর নির্মিত হয়েছে সাততলা বাড়ি ‘শান্তির নীড় সুলতানা মহল’। এলাকাবাসীর ভাষ্য, বাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা।

আধুনিক নকশা, উন্নত নির্মাণসামগ্রী ও অভিজাত ফিনিশিংয়ের কারণে ভবনটি এলাকায় আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন সরকারি কর্মচারীর পক্ষে এমন ব্যয়বহুল ভবনের মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মতিঝিলের কবি জসীমউদ্দীন রোডের ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ নামের ৯ তলা ভবনে রয়েছে মোমিনের দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। এর মধ্যে ১ হাজার ৭২৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা।

জানা গেছে, পরিবার নিয়ে বর্তমানে তিনি ওই ফ্ল্যাটেই বসবাস করছেন। একই ভবনের কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, তাঁর জীবনযাত্রা একজন সফল ব্যবসায়ীর মতোই বিলাসবহুল।

সম্পদের তালিকায় রয়েছে সাভারের ভাদাইল এলাকায় পুরাতন ইপিজেড সংলগ্ন প্রায় দুই বিঘা জমি। সেখানে একাধিক টিনশেড ঘর নির্মাণ করে পোশাকশ্রমিকদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় জমি ব্যবসায়ীদের মতে, এই সম্পত্তির বর্তমান মূল্য অন্তত ৫ কোটি টাকা।

এ ছাড়া পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে তাঁর স্ত্রীর নামে একটি প্লট থাকার তথ্যও মিলেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক সময় সম্পদের প্রকৃত মালিকানা আড়াল করতে স্ত্রী বা স্বজনদের নামে সম্পত্তি কেনা হয়। এ ক্ষেত্রেও একই কৌশল অনুসরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মো. আব্দুল মোমিন ১৯৯৮ সালে রাজউকে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী হিসেবে যোগ দেন। পরে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৩ সালে চুক্তিভিত্তিক এবং ২০১৭ সালে স্থায়ী নিয়োগ পান।

রাজউকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ২০১৩ সালের পর থেকেই তাঁর আর্থিক অবস্থার দৃশ্যমান পরিবর্তন শুরু হয়।

মোমিনের বিরুদ্ধে প্লট হস্তান্তর, নকশা অনুমোদন ও বিভিন্ন আবাসন সংক্রান্ত কাজে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমানের দায়িত্বকালেও (জুন ২০১৭ থেকে মে ২০১৯) গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তিতে তাঁর প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, তাঁর সম্মতি ছাড়া অনেক ফাইলই উচ্চপর্যায়ে যেত না।

দুর্নীতিবিরোধী বিশ্লেষকদের মতে, রাজউকের মতো সংস্থাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ফাইল বাণিজ্য, ঘুষ ও অনুমোদন সিন্ডিকেটের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। আর সেই সুযোগেই কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হচ্ছেন।

জানা গেছে, আব্দুল মোমিনের সম্পদ ও অর্থ লেনদেন নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান করছে। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. আব্দুল মোমিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।