হরমুজ প্রণালির সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিল ইরান
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
- / 36
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এখন থেকে এই জলপথ দিয়ে যেকোনো নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের পূর্ব অনুমতি বাধ্যতামূলক।
নতুন নিয়মে শত্রুভাবাপন্ন দেশের সামরিক জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করা হলেও বন্ধুভাবাপন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যাতায়াত করতে পারবে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি করে হরমুজ প্রণালির একক কর্তৃত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। দেশটির এলিট ফোর্স আইআরজিসি এই কৌশলগত জলপথের নিরাপত্তা ও নৌচলাচল ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে।
মূলত হরমুজ প্রণালির সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিল ইরান হওয়ার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে হরমুজ দ্বীপের রেড বিচ এলাকায় সামরিক উপস্থিতি ও নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।
ইরানের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের যুদ্ধজাহাজ এই প্রণালিতে প্রবেশ করতে পারবে না। বর্তমানে হরমুজ প্রণালির সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিল ইরান হলেও বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সাধারণ ও বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের সুযোগ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
আল-জাজিরার তথ্যমতে, গত কয়েক দিনে এই রুট দিয়ে চীনের প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি জাহাজ পার হলেও ইরানের নতুন সামরিক অবস্থানের পর গত ২৪ ঘণ্টায় অন্য কোনো দেশের জাহাজ চলাচলের খবর পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের খনিজ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হওয়ায় পশ্চিমা বিশ্ব এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালির সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিল ইরান জানার পর ওয়াশিংটনসহ বিশ্ব পরাশক্তিগুলো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।
আইআরজিসির নৌবাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, পুরো জলপথ এখন তাদের সার্বক্ষণিক রাডার ও সামরিক নজরদারির আওতায় থাকবে। পরিশেষে বলা যায়, ইরানের এই একতরফা পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যেকোনো সময় বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত করতে পারে।
































