থানায় হয়রানি হলে দ্রুত ব্যবস্থা: ডিএমপি
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৬:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
- / 21
থানায় সেবা নিতে গিয়ে কোনো নাগরিক হয়রানির শিকার হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির নতুন কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ। জনবান্ধব পুলিশিং গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২০ মে) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নবনিযুক্ত কমিশনার অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, থানায় কোনো দালালের স্থান হবে না। কোথাও দালালের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের জনগণের সঙ্গে দুর্ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আইন প্রয়োগের নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বা কাউকে মারধরের সুযোগ নেই উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, অতীতে এমন অভিযোগ উঠেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কঠোরভাবে দেখা হবে। কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে তা অবশ্যই আইনের সীমার মধ্যেই থাকতে হবে।
কিশোর গ্যাং দমনে ডিএমপির কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গ্যাং সদস্য ও নেতৃত্বদানকারীদের তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ ও অভিযান অব্যাহত আছে। অনেককে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে তিনি মনে করেন, সামাজিক প্রতিরোধ ছাড়া শুধু পুলিশের পক্ষে এই সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানের তথ্য তুলে ধরে কমিশনার জানান, গত ১ মে থেকে পরিচালিত অভিযানে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীও রয়েছে।
তিনি বলেন, “অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। যে দলেরই হোক, অপরাধ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। পল্লবীর শিশু হত্যা মামলার আসামিকে সাত ঘণ্টার মধ্যে এবং মুগদায় মরদেহ উদ্ধারের মামলার মূল অভিযুক্তকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তারের কথা জানান কমিশনার।
মব কালচারের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, রাজধানীতে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। কোথাও এমন ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএমপির অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, বেশ কয়েকটি থানার ভবন সংস্কার কাজ চলছে এবং যানবাহন সংকট কমাতে নতুন গাড়ি কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা চালু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে এর পরিধি বাড়ানো হবে বলে জানান।
ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ, উগ্রবাদ দমন, সাইবার অপরাধ, মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি ও মাদককে বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, প্রযুক্তি, গবেষণা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে নিরাপদ ঢাকা গড়ে তুলতে কাজ করছে ডিএমপি।
































