হামের চিকিৎসায় গাইডলাইনের অভাব
- সর্বশেষ আপডেট ১০:১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
- / 30
দেশে হামের প্রকোপের মধ্যে চিকিৎসায় একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা গাইডলাইনের অভাববোধ করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, দেশজুড়ে একই ধরনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারলে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত দুই মাসে হাম ও এর লক্ষণ নিয়ে ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সরকার গাইডলাইন তৈরির প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে এবং বর্তমানে নিউমোনিয়ার গাইডলাইন অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে।
দেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিলেও এখনো এর সুনির্দিষ্ট কোনো জাতীয় চিকিৎসা নির্দেশিকা তৈরি হয়নি। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে শিশুদের একই মানের চিকিৎসা দেওয়া ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মূলত হামের চিকিৎসায় গাইডলাইনের অভাব থাকার কারণে চিকিৎসকরা একই প্রটোকল অনুসরণ করতে পারছেন না। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন জানান, আমাদের চিকিৎসকরা অভিজ্ঞ হলেও একটি লিখিত গাইডলাইন থাকলে সবার জন্য একই ধরনের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সহজ হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে প্রতিদিন গড়ে সাতজন করে শিশু হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে। বর্তমানে হামের চিকিৎসায় গাইডলাইনের অভাব এর পাশাপাশি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় রোগ নির্ণয় আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
অনেক শিশুই কেবল উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, শিশুদের উপসর্গভিত্তিক সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত এপ্রিলের শেষে একটি বিশেষ টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কমিটির প্রধান অধ্যাপক মো. হালিমুর রশিদ জানিয়েছেন, গাইডলাইন তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
বর্তমানে হামের চিকিৎসায় গাইডলাইনের অভাব প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আপদকালীন সময়ে হামের প্রধান জটিলতা নিউমোনিয়া রোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করা হচ্ছে। পরিশেষে বলা যায়, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে এই নির্দেশিকা প্রকাশ করা এখন সময়ের দাবি।





































