সারা দেশে হকার নীতিমালা নিয়ে আইপিডি’র উদ্বেগ
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৯:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
- / 17
ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্প্রতি প্রণীত নীতিমালা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও যথাযথ বাস্তবায়ন ছাড়াই কার্যকর করা হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংগঠনটি বলছে, পরিকল্পনাহীনভাবে ফুটপাত ও সড়কে হকারদের পুনর্বাসন নগরজীবনে আরও বড় বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।
শুক্রবার (১৫ মে) এক বিবৃতিতে আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, দেরিতে হলেও হকার নীতিমালা প্রণয়ন একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে এতে নাগরিকদের নিরাপদ চলাচলের অধিকার কার্যত সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফুটপাত ও সড়কে হকার বসার সুযোগ করে দেওয়ার বর্তমান বাস্তবতা নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি এবং নীতিগত বিভ্রান্তির প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইপিডির মতে, নীতিমালা প্রণয়নের পর যথাযথ পরিকল্পনাগত বিশ্লেষণ ছাড়াই সড়ক ও ফুটপাতে হকারদের দাগ টেনে বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা নাগরিক চলাচলে নতুন সংকট তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, হকার উচ্ছেদের পর যে অল্প জায়গায় হাঁটার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা আবার বিলুপ্ত হয়েছে। এতে দোকানদার ও লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে হকারদের অসম প্রতিযোগিতাও তৈরি হচ্ছে।
সংগঠনটি আরও জানায়, প্রস্তাবিত নীতিমালায় পথচারীদের জন্য ন্যূনতম ৫-৬ ফুট ফুটপাতের বিধান রাখা হয়েছে, যা বড় শহরের পরিকল্পনার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বড় শহরের আবাসিক, বাণিজ্যিক ও উচ্চ ঘনত্ব এলাকার জন্য যথাক্রমে ৮-১০ ফুট, ১০-১৬ ফুট এবং ২০-৪০ ফুট ফুটপাত প্রয়োজন হয় বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাসস্টপ ও মেট্রো স্টেশনের কাছাকাছি হকার বসানোর যে সুযোগ রাখা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করা হয়।
নীতিমালায় হলিডে মার্কেট, নৈশকালীন মার্কেট এবং কিছু এলাকা হকারমুক্ত ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও আইপিডি বলেছে, এতে বেশ কিছু কাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে। যেমন-বায়োমেট্রিক পরিচয় ব্যবস্থা, হকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নাগরিক প্রতিনিধিত্বের অভাব রয়েছে।
আইপিডি মনে করে, বর্তমান নীতিমালা শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে কেন্দ্র করে প্রণীত হওয়ায় এটি অসম্পূর্ণ। দেশের সব নগর এলাকার জন্য একটি জাতীয় হকার ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রণয়ন করা জরুরি বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদে অবৈধ দখলকে বৈধতা দেওয়া সমাধান নয়। প্রকৃত দরিদ্র হকারদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা উচিত- যার মধ্যে খাদ্য সহায়তা, কর্মসংস্থান ও পরিবারভিত্তিক সহায়তা থাকতে পারে। তবে সব হকারকে এক মানদণ্ডে বিচার করাও বাস্তবসম্মত নয় বলে মত দিয়েছে আইপিডি।
এছাড়া হকার সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার বিষয়টি উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, এসব চক্র ভেঙে দিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
আইপিডির মতে, ঢাকার ফুটপাত ও সড়ককে পুরো দেশের দারিদ্র্যের চাপ বহন করার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। বরং নগর পরিকল্পনা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং জনচলাচলের অধিকার- এই তিনটি বিষয়কে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি ও মানবিক সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।





































