গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ অবৈধ, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৪০:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
- / 25
অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ এবং তা প্রকাশ করাকে অসাংবিধানিক ও নারীর প্রতি চরম বৈষম্য উল্লেখ করে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (১১ মে) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ ধরনের চর্চা কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বাড়িয়ে সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করা কেবল অনৈতিক চর্চাই নয়, এটি সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে দেশে এই বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতার অভাব ছিল।
শুধু গাইডলাইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, বরং কঠোর ডিজিটাল নজরদারি ও আইনি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই সামাজিক ব্যাধি বন্ধ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ধরনের কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
রায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের সকল নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনাগত শিশুর কোনো ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট তৈরি হলে তা এই ডাটাবেজে সংরক্ষণ ও তদারকি করতে হবে।
মূলত গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ বন্ধে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। আদালত এই নির্দেশনাকে ‘ধারাবাহিক তদারকি’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যাতে এর বাস্তবায়ন আদালত নিজেই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন এবং আজ এর পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হলো।
আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, নারীর মর্যাদা ও জীবনের অধিকার রক্ষায় এই ধরনের গোপনীয়তা বজায় রাখা অপরিহার্য। পরিশেষে বলা যায়, গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ নিষিদ্ধ করার এই যুগান্তকারী রায় নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





































