ভিয়েতনামে ইতিহাস গড়লেন সাজেদুর রহমান
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
- / 26
ভিয়েতনামের দানাং শহরে অনুষ্ঠিত পূর্ণ দূরত্বের আয়রনম্যান প্রতিযোগিতা সফলভাবে শেষ করে নতুন ইতিহাস লিখলেন বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদ মো. সাজেদুর রহমান। এবারের আসরে তিনিই ছিলেন দেশের একমাত্র প্রতিনিধি, আর চূড়ান্ত ফিনিশিং লাইনে পৌঁছাতে সময় নেন ১৫ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট।
রোববার (১০ মে) অনুষ্ঠিত এই কঠিন সহনশীলতার প্রতিযোগিতায় তিনি সাঁতার, সাইক্লিং এবং ম্যারাথন—এই তিন ধাপের সম্মিলিত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেন। আয়রনম্যানকে বিশ্বের অন্যতম কঠিন ক্রীড়া ইভেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের একদিনেই ৩.৮ কিলোমিটার সাঁতার, ১৮০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং ৪২.২ কিলোমিটার দৌড় শেষ করতে হয়। সাজেদুর অংশ নেন ৩৫–৩৯ বছর বয়স ক্যাটাগরিতে।
রেসের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, শুরুটা ভালোই হয়েছিল—সাঁতার শেষ করেন ১ ঘণ্টা ২২ মিনিটে এবং দ্রুতই সাইক্লিংয়ে নামেন। তবে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর এক আকস্মিক দুর্ঘটনায় পড়ে গিয়ে ডান পায়ে আঘাত পান এবং সাইকেলের ক্ষতি হয়। এই মুহূর্ত থেকেই তার রেস কঠিন হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে শারীরিক দুর্বলতা, পর্যাপ্ত খাবারের অভাব এবং বারবার বমির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এমনকি এক পর্যায়ে রেস ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাও আসে। তবে মেয়ের কথা এবং দেশের পতাকার প্রতি দায়বোধ তাকে আবারও এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
তিনি বলেন, “মনে হচ্ছিল আমি থেমে গেলে বাংলাদেশই হেরে যাবে। তাই শেষ পর্যন্ত লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিই।”
শেষ অংশে হাতে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে ফিনিশিং লাইন পার হন তিনি, যা তার জন্য ছিল আবেগঘন এক মুহূর্ত।
সাজেদুর রহমান তার যাত্রায় সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, বিডিট্রাই কমিউনিটিসহ সকল সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এর আগে ২০২২ সালে ফ্রাঙ্কফুর্টে প্রথম আয়রনম্যান চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলেও পরবর্তীতে হামবুর্গ ২০২৪ এবং মালয়েশিয়া ২০২৫ সফলভাবে শেষ করেন তিনি। ভিয়েতনাম ২০২৬ শেষে এখন তার পূর্ণ দূরত্বের আয়রনম্যান সম্পন্নের সংখ্যা দাঁড়াল তিনটি।
পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন।




































