ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ বছরের শিশু রেখে আপন ভাতিজার সাথে চাচি উধাও

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / 91

ভাতিজার সঙ্গে পালালেন চাচি

পারিবারিক নিবিড় বন্ধন, গ্রামীণ সামাজিক দায়বদ্ধতা আর মাত্র পাঁচ বছর বয়সী এক অবুঝ শিশুর আকুতি—সবকিছুকে এক নিমেষে আড়াল করে কেবল অনৈতিক প্রেমের টানে নিজের সংসার ছাড়লেন এক গৃহবধূ। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গবরাপাড়া গ্রামে আপন ভাসুরের ছেলের (ভাতিজা) সাথে চাচির এই নাটকীয় অন্তর্ধানে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শুধু একটি সাজানো পরিবারই ভেঙে চুরমার হয়ে যায়নি, বরং গ্রামীণ সমাজ বাস্তবতার এক চেনা নৈতিক অবক্ষয়ও নতুন করে সামনে এসেছে।

স্থানীয় একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুন রাতের আঁধারে গবরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সানজেদুর রহমান (ছল্টু) জোয়ার্দারের স্ত্রী রুমানা ইসলাম এবং তাঁর আপন বড় ভাইয়ের ছেলে হাসান একসঙ্গে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। ঘটনার পর বেশ কয়েকদিন ধরে সম্ভাব্য সকল আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও যখন তাদের কোনো হদিস বা সন্ধান মেলেনি, তখন বাধ্য হয়েই বিপর্যস্ত পরিবার বিষয়টি সামাজিকভাবে প্রকাশ্যে আনে। এই ঘটনার পর থেকে ঘরে থাকা পাঁচ বছরের ছোট্ট কন্যাসন্তানটি তার মায়ের জন্য দিনরাত ক্রমাগত কেঁদে চলেছে, যাকে শান্ত করার কোনো ভাষা বা সান্ত্বনা এখন পরিবারের কারও কাছে নেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই অনৈতিক সম্পর্কের গুঞ্জন বা মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন ওই এলাকায় এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরপরই তারা একইভাবে একবার ঘর ছেড়ে পালিয়েছিলেন। সেই সময় লোকলজ্জার ভয়ে গ্রামীণ সালিশ ও স্থানীয় মাতুব্বরদের সামাজিক ও পারিবারিক চাপে সাময়িকভাবে বিষয়টির একটি সুরাহা করা হয়েছিল এবং রুমানাকে বুঝিয়ে পুনরায় সংসারে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু মনের ভেতরের ভুল আকর্ষণ ও অনৈতিক সম্পর্ককে কেবল বাহ্যিক শাসন বা সামাজিক চাপ দিয়ে যে স্থায়ীভাবে দমন করা সম্ভব নয়, এবারকার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি সমাজবিজ্ঞানীদের সেই ধারণাকেই পুনরায় প্রমাণ করল।

তীব্র ক্ষোভ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত স্বামী সানজেদুর রহমান জানান, দীর্ঘ আট বছরের বৈবাহিক জীবনে তাদের ঘরে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। হাসান সম্পর্কে তাঁর আপন ভাতিজা হওয়ায় সে রুমানাকে সবসময় ‘মা’ বলেই সম্বোধন করত। কিন্তু পারিবারিক নৈকট্য, একই ছাদের নিচে বসবাস এবং পরিবারের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে তারা এক সময় গোপনে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সানজেদুর আরও অভিযোগ করেন, গত ৯ জুন রাতে সুযোগ বুঝে রুমানা ঘরের আলমারি ভেঙে জমানো নগদ ৩ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ৩ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে হাসানের সাথে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

নিজের আপন ছেলের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনৈতিক আচরণে সামাজিকভাবে চরম লজ্জিত ও মর্মাহত হাসানের বাবাও। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ছেলেকে ভালো পাত্রী দেখে বিয়ে দেওয়ার একাধিক চেষ্টা করা হলেও পারিবারিক ও সামাজিক নানা জটিলতার কারণে তা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। আপন ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে নিজের ছেলের এমন সামাজিকভাবে ধিক্কৃত ও আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধকে তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করছেন না। বর্তমানে হাসান ও রুমানা উভয়েরই ব্যক্তিগত মুঠোফোন (মোবাইল) বন্ধ থাকায় তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা প্রসঙ্গে দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি কেবল একটি সাধারণ পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার ঘটনা নয়; এটি আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক মূল্যবোধের এক চরম ধস। গ্রামীণ সমাজের এই লোকলজ্জাহীনতা এবং নৈতিকতার চরম অবক্ষয় যদি এখনই কঠোরভাবে রুখতে না পারা যায়, তবে আমাদের পুরো সামাজিক শাসন ব্যবস্থা অচিরেই ভেঙে পড়বে।’

আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হরিণাকুণ্ডু থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা অসিত কুমার রায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, লোকমুখে এবং সামাজিকভাবে বিষয়টি তারা শুনেছেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত হরিণাকুণ্ডু থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) জমা দেওয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা করা হলে আইনানুযায়ী দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৫ বছরের শিশু রেখে আপন ভাতিজার সাথে চাচি উধাও

সর্বশেষ আপডেট ০২:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

পারিবারিক নিবিড় বন্ধন, গ্রামীণ সামাজিক দায়বদ্ধতা আর মাত্র পাঁচ বছর বয়সী এক অবুঝ শিশুর আকুতি—সবকিছুকে এক নিমেষে আড়াল করে কেবল অনৈতিক প্রেমের টানে নিজের সংসার ছাড়লেন এক গৃহবধূ। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গবরাপাড়া গ্রামে আপন ভাসুরের ছেলের (ভাতিজা) সাথে চাচির এই নাটকীয় অন্তর্ধানে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শুধু একটি সাজানো পরিবারই ভেঙে চুরমার হয়ে যায়নি, বরং গ্রামীণ সমাজ বাস্তবতার এক চেনা নৈতিক অবক্ষয়ও নতুন করে সামনে এসেছে।

স্থানীয় একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুন রাতের আঁধারে গবরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সানজেদুর রহমান (ছল্টু) জোয়ার্দারের স্ত্রী রুমানা ইসলাম এবং তাঁর আপন বড় ভাইয়ের ছেলে হাসান একসঙ্গে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। ঘটনার পর বেশ কয়েকদিন ধরে সম্ভাব্য সকল আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও যখন তাদের কোনো হদিস বা সন্ধান মেলেনি, তখন বাধ্য হয়েই বিপর্যস্ত পরিবার বিষয়টি সামাজিকভাবে প্রকাশ্যে আনে। এই ঘটনার পর থেকে ঘরে থাকা পাঁচ বছরের ছোট্ট কন্যাসন্তানটি তার মায়ের জন্য দিনরাত ক্রমাগত কেঁদে চলেছে, যাকে শান্ত করার কোনো ভাষা বা সান্ত্বনা এখন পরিবারের কারও কাছে নেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই অনৈতিক সম্পর্কের গুঞ্জন বা মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন ওই এলাকায় এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরপরই তারা একইভাবে একবার ঘর ছেড়ে পালিয়েছিলেন। সেই সময় লোকলজ্জার ভয়ে গ্রামীণ সালিশ ও স্থানীয় মাতুব্বরদের সামাজিক ও পারিবারিক চাপে সাময়িকভাবে বিষয়টির একটি সুরাহা করা হয়েছিল এবং রুমানাকে বুঝিয়ে পুনরায় সংসারে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু মনের ভেতরের ভুল আকর্ষণ ও অনৈতিক সম্পর্ককে কেবল বাহ্যিক শাসন বা সামাজিক চাপ দিয়ে যে স্থায়ীভাবে দমন করা সম্ভব নয়, এবারকার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি সমাজবিজ্ঞানীদের সেই ধারণাকেই পুনরায় প্রমাণ করল।

তীব্র ক্ষোভ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত স্বামী সানজেদুর রহমান জানান, দীর্ঘ আট বছরের বৈবাহিক জীবনে তাদের ঘরে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। হাসান সম্পর্কে তাঁর আপন ভাতিজা হওয়ায় সে রুমানাকে সবসময় ‘মা’ বলেই সম্বোধন করত। কিন্তু পারিবারিক নৈকট্য, একই ছাদের নিচে বসবাস এবং পরিবারের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে তারা এক সময় গোপনে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সানজেদুর আরও অভিযোগ করেন, গত ৯ জুন রাতে সুযোগ বুঝে রুমানা ঘরের আলমারি ভেঙে জমানো নগদ ৩ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ৩ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে হাসানের সাথে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

নিজের আপন ছেলের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনৈতিক আচরণে সামাজিকভাবে চরম লজ্জিত ও মর্মাহত হাসানের বাবাও। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ছেলেকে ভালো পাত্রী দেখে বিয়ে দেওয়ার একাধিক চেষ্টা করা হলেও পারিবারিক ও সামাজিক নানা জটিলতার কারণে তা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। আপন ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে নিজের ছেলের এমন সামাজিকভাবে ধিক্কৃত ও আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধকে তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করছেন না। বর্তমানে হাসান ও রুমানা উভয়েরই ব্যক্তিগত মুঠোফোন (মোবাইল) বন্ধ থাকায় তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা প্রসঙ্গে দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি কেবল একটি সাধারণ পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার ঘটনা নয়; এটি আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক মূল্যবোধের এক চরম ধস। গ্রামীণ সমাজের এই লোকলজ্জাহীনতা এবং নৈতিকতার চরম অবক্ষয় যদি এখনই কঠোরভাবে রুখতে না পারা যায়, তবে আমাদের পুরো সামাজিক শাসন ব্যবস্থা অচিরেই ভেঙে পড়বে।’

আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হরিণাকুণ্ডু থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা অসিত কুমার রায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, লোকমুখে এবং সামাজিকভাবে বিষয়টি তারা শুনেছেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত হরিণাকুণ্ডু থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) জমা দেওয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা করা হলে আইনানুযায়ী দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।