ঢাকা ০১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ ঘণ্টার বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি প্লাবিত, সড়কে ধস

প্রমোদ কুমার মুৎসুদ্দী, দীঘিনালা
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 19

৩ ঘণ্টার বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি প্লাবিত, সড়কে ধস

টানা মাত্র তিন ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দীঘিনালার কয়েকটি এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে ঘরবাড়িতে। পাশাপাশি পাহাড়ধসে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় খাগড়াছড়িতে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দিনের প্রচণ্ড গরমের পর মধ্যরাতে হঠাৎ শুরু হওয়া এই ভারি বর্ষণে স্থানীয়দের দুর্ভোগ বেড়েছে।

বৃষ্টির পানিতে দীঘিনালার মেরুং, কবাখালি ও বোয়ালখালির বিভিন্ন নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। পানির নিচে চলে গেছে আমনের ক্ষেতও। দীঘিনালা-মেরুং সড়কের ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের বৃষ্টির পর পাহাড়ি ছড়া ও নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়। জগন্নাথপাড়ার বাসিন্দা মৃদুল নাথ বলেন, রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন। সকালে উঠে দেখেন ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। আশপাশের পাহাড়ি ছড়াগুলোতেও পানির প্রবাহ বেড়েছে।

লোকমান হোসেন নামে আরেক বাসিন্দা জানান, ভোর ৪টার দিকে ঘরে পানি ঢুকতে শুরু করে। বোয়ালখালি ছড়ার পানি বেড়ে জামতলীর নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বোয়ালখালির বাসিন্দা গণেশ ত্রিপুরা বলেন, রাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু তিন থেকে চার ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে ছড়ার পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়।

এদিকে ভারি বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ধসে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে ৫ মাইল ও ৯ মাইল এলাকায় সড়কের ওপর মাটি পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই কারণে দীঘিনালা-সাজেক সড়কেও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে মাটি সরানোর কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার জানান, ধসে পড়া অংশটি বেশ বড়। ইতোমধ্যে মাটি সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। পুরোপুরি যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৩ ঘণ্টার বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি প্লাবিত, সড়কে ধস

সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

টানা মাত্র তিন ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দীঘিনালার কয়েকটি এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে ঘরবাড়িতে। পাশাপাশি পাহাড়ধসে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় খাগড়াছড়িতে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দিনের প্রচণ্ড গরমের পর মধ্যরাতে হঠাৎ শুরু হওয়া এই ভারি বর্ষণে স্থানীয়দের দুর্ভোগ বেড়েছে।

বৃষ্টির পানিতে দীঘিনালার মেরুং, কবাখালি ও বোয়ালখালির বিভিন্ন নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। পানির নিচে চলে গেছে আমনের ক্ষেতও। দীঘিনালা-মেরুং সড়কের ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের বৃষ্টির পর পাহাড়ি ছড়া ও নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়। জগন্নাথপাড়ার বাসিন্দা মৃদুল নাথ বলেন, রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন। সকালে উঠে দেখেন ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। আশপাশের পাহাড়ি ছড়াগুলোতেও পানির প্রবাহ বেড়েছে।

লোকমান হোসেন নামে আরেক বাসিন্দা জানান, ভোর ৪টার দিকে ঘরে পানি ঢুকতে শুরু করে। বোয়ালখালি ছড়ার পানি বেড়ে জামতলীর নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বোয়ালখালির বাসিন্দা গণেশ ত্রিপুরা বলেন, রাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু তিন থেকে চার ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে ছড়ার পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়।

এদিকে ভারি বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ধসে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে ৫ মাইল ও ৯ মাইল এলাকায় সড়কের ওপর মাটি পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই কারণে দীঘিনালা-সাজেক সড়কেও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে মাটি সরানোর কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার জানান, ধসে পড়া অংশটি বেশ বড়। ইতোমধ্যে মাটি সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। পুরোপুরি যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।