ঢাকা ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাতিয়ায় তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৪:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 116

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় তিন সন্তানের জননীকে (৩২) নিজ ঘরে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সন্ত্রাসীরা একাধিক বাড়িতে হামলা চালায় বলে জানা গেছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এ তথ্য জানান ভুক্তভোগী নারী। পরে তাকে ইমার্জেন্সি বিভাগে চিকিৎসা শেষে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। এর আগে গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান ভুক্তভোগী নারী।

স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার পর আজ শনিবার সকালে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে পুনরায় ভুক্তভোগী ওই নারীর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার ঘরের মূল দরজা এবং ভেতরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ভুক্তভোগীকে তারা ঘর থেকে টেনে বের করে আনে এবং কটাক্ষ করে শারীরিক নির্যাতন করে। এ সময় তারা আশপাশের বাড়িঘরেও হামলা চালায়।

এ বিষয়ে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার কাছে হাতিয়া থেকে ৩২ বছর বয়সি এক নারী রোগী এসেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, গতকাল রাত ১১টার দিকে তাকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন (যৌন হয়রানি) করা হয়েছে। আমরা তৎক্ষণাৎ রোগীকে ভর্তি করেছি এবং শারীরিক পরীক্ষার জন্য আমাদের গাইনি বিভাগে পাঠিয়েছি। বাকিটা গাইনি বিভাগের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত ফলাফল জানাবেন।

ভুক্তভোগী নারী জানান, গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তিন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করেন। এদের মধ্যে কালা এমরান নামের একজন এবং অজ্ঞাতনামা আরেকজন দরজায় পাহারায় ছিলেন। তখন রহমান নামের এক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। তাকে লাথি মেরে গুরুতর আহত করা হয়েছে, যার ফলে তিনি বর্তমানে ঠিকমতো হাঁটতেও পারছেন না। এ সময় তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, প্রথমে লোকলজ্জার ভয়ে ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রাখলেও পরবর্তীতে চিকিৎসা নিতে এসে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন।

ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে। অভিযুক্তরা আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও সরকার পরিবর্তনের পর এখন বিএনপির পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। এলাকায় এ সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাদের চাঁদা দিতে হয়।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য তুহিন ইমরান বলেন, এ যুগে এসে ভোট দেওয়া নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শুনে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে, হাসপাতালেও আমার প্রতিনিধি রয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হাতিয়ায় তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ

সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৪:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় তিন সন্তানের জননীকে (৩২) নিজ ঘরে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সন্ত্রাসীরা একাধিক বাড়িতে হামলা চালায় বলে জানা গেছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এ তথ্য জানান ভুক্তভোগী নারী। পরে তাকে ইমার্জেন্সি বিভাগে চিকিৎসা শেষে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। এর আগে গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান ভুক্তভোগী নারী।

স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার পর আজ শনিবার সকালে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে পুনরায় ভুক্তভোগী ওই নারীর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার ঘরের মূল দরজা এবং ভেতরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ভুক্তভোগীকে তারা ঘর থেকে টেনে বের করে আনে এবং কটাক্ষ করে শারীরিক নির্যাতন করে। এ সময় তারা আশপাশের বাড়িঘরেও হামলা চালায়।

এ বিষয়ে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার কাছে হাতিয়া থেকে ৩২ বছর বয়সি এক নারী রোগী এসেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, গতকাল রাত ১১টার দিকে তাকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন (যৌন হয়রানি) করা হয়েছে। আমরা তৎক্ষণাৎ রোগীকে ভর্তি করেছি এবং শারীরিক পরীক্ষার জন্য আমাদের গাইনি বিভাগে পাঠিয়েছি। বাকিটা গাইনি বিভাগের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত ফলাফল জানাবেন।

ভুক্তভোগী নারী জানান, গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তিন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করেন। এদের মধ্যে কালা এমরান নামের একজন এবং অজ্ঞাতনামা আরেকজন দরজায় পাহারায় ছিলেন। তখন রহমান নামের এক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। তাকে লাথি মেরে গুরুতর আহত করা হয়েছে, যার ফলে তিনি বর্তমানে ঠিকমতো হাঁটতেও পারছেন না। এ সময় তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, প্রথমে লোকলজ্জার ভয়ে ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রাখলেও পরবর্তীতে চিকিৎসা নিতে এসে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন।

ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে। অভিযুক্তরা আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও সরকার পরিবর্তনের পর এখন বিএনপির পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। এলাকায় এ সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাদের চাঁদা দিতে হয়।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য তুহিন ইমরান বলেন, এ যুগে এসে ভোট দেওয়া নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শুনে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে, হাসপাতালেও আমার প্রতিনিধি রয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে।