ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিদ্ধিরগঞ্জে পারভীন হত্যার অভিযোগ, মৃত্যুর আগে অডিও বার্তায় চাঞ্চল্য

চরফ্যাশন প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৮:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • / 24

জমি বিক্রি ও ধার নেওয়া টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক গার্মেন্টস কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঘটনার পর মৃত্যুর আগে পাঠানো একটি অডিও বার্তা নিয়ে এখন তদন্ত ঘিরে নতুন মোড় তৈরি হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে ৩০ বছর বয়সী গার্মেন্টস কর্মী পারভীন বেগমকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের উত্তর শিবাগ্রামের ফয়জুল হক পাটোয়ারীর মেয়ে এবং প্রায় ১৫ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, পারভীন নিজের কষ্টার্জিত অর্থে গ্রামের বাড়িতে ৬ শতাংশ জমি কিনেছিলেন। সেই জমির দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন একই বাসায় থাকা ভাতিজি লতা। পাশাপাশি লতার বিয়ে ও গর্ভাবস্থার খরচ মেটাতে পারভীনের কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা ধার নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি জমি বিক্রি ও ধার করা টাকা ফেরত চাইলে লতা ও তার স্বামী মনিরের সঙ্গে বিরোধ তীব্র হয়। স্বজনদের অভিযোগ, এর পর থেকেই পারভীনের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত মাথায় আঘাতের মাধ্যমে হত্যায় রূপ নেয়।

নিহতের বড় বোন জোছনা বেগম (২১ জুন) জানান, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে পারভীন একটি অডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, লতা দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্যাতন করছে এবং তার মৃত্যুর জন্য তাকেই দায়ী করা যেতে পারে—এমন কথাও বলা হয় ওই বার্তায়।

পরিবার আরও দাবি করে, মৃত্যুর ঘটনাটিকে প্রথমে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়। পারভীনকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয় এবং পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের না জানিয়ে দ্রুত মরদেহ ভোলার চরফ্যাশনের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দাফন স্থগিত করে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

চরফ্যাশন থানার ওসি মো. মাহামুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর ধরন নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ঘটনাস্থল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আওতাধীন হওয়ায় মূল তদন্ত সেখান থেকেই পরিচালিত হবে, আর চরফ্যাশন থানা সহযোগিতা করছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও শোক বিরাজ করছে। স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সিদ্ধিরগঞ্জে পারভীন হত্যার অভিযোগ, মৃত্যুর আগে অডিও বার্তায় চাঞ্চল্য

সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৮:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

জমি বিক্রি ও ধার নেওয়া টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক গার্মেন্টস কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঘটনার পর মৃত্যুর আগে পাঠানো একটি অডিও বার্তা নিয়ে এখন তদন্ত ঘিরে নতুন মোড় তৈরি হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে ৩০ বছর বয়সী গার্মেন্টস কর্মী পারভীন বেগমকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের উত্তর শিবাগ্রামের ফয়জুল হক পাটোয়ারীর মেয়ে এবং প্রায় ১৫ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, পারভীন নিজের কষ্টার্জিত অর্থে গ্রামের বাড়িতে ৬ শতাংশ জমি কিনেছিলেন। সেই জমির দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন একই বাসায় থাকা ভাতিজি লতা। পাশাপাশি লতার বিয়ে ও গর্ভাবস্থার খরচ মেটাতে পারভীনের কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা ধার নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি জমি বিক্রি ও ধার করা টাকা ফেরত চাইলে লতা ও তার স্বামী মনিরের সঙ্গে বিরোধ তীব্র হয়। স্বজনদের অভিযোগ, এর পর থেকেই পারভীনের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত মাথায় আঘাতের মাধ্যমে হত্যায় রূপ নেয়।

নিহতের বড় বোন জোছনা বেগম (২১ জুন) জানান, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে পারভীন একটি অডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, লতা দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্যাতন করছে এবং তার মৃত্যুর জন্য তাকেই দায়ী করা যেতে পারে—এমন কথাও বলা হয় ওই বার্তায়।

পরিবার আরও দাবি করে, মৃত্যুর ঘটনাটিকে প্রথমে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়। পারভীনকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয় এবং পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের না জানিয়ে দ্রুত মরদেহ ভোলার চরফ্যাশনের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দাফন স্থগিত করে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

চরফ্যাশন থানার ওসি মো. মাহামুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর ধরন নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ঘটনাস্থল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আওতাধীন হওয়ায় মূল তদন্ত সেখান থেকেই পরিচালিত হবে, আর চরফ্যাশন থানা সহযোগিতা করছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও শোক বিরাজ করছে। স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।