রায়পুরায় মেঘনা গ্রুপ নিয়ে প্রতিবেদনের জেরে সাংবাদিক হয়রানি
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
- / 242
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মেঘনা গ্রুপের রাক্ষসী থাবায় রক্ষা পাইনি। এই বিষয়ে জনস্বার্থে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
এদিকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে এক সাংবাদিককে চাঁদাবাজির মিথ্যা অপবাদ দেওয়া এবং তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে রায়পুরা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃশরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রায়পুরা ইউনিয়নের সাহারখোলায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, খাস জমি দখল, পরিবেশগত ক্ষতি এবং স্থানীয় জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে একাধিক সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আসছে। এসব প্রতিবেদনে স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব এবং প্রভাবশালী মহলের সুবিধা লাভের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে, সম্প্রতি মেঘনা গ্রুপের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট কিছু ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। ওই প্রতিবেদনের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীনভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিকের দাবি, তিনি কেবল পেশাগত দায়িত্ব পালন করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের কারণে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক অভিযোগ করেন, তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য নেওয়ার জন্য রায়পুরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা এবং তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাঁদাবাজ আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সাংবাদিক মহলের একাধিক সদস্য এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কোনো সংবাদে অসন্তুষ্ট হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি ও তথ্যভিত্তিক জবাব দিতে পারে। কিন্তু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা কিংবা অপমানজনক আচরণ করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনস্বার্থে একের পর এক সংবাদ প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আরও জোরালো হচ্ছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ শরীফ উদ্দিন বলেন,আমাকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করি এবং প্রকাশিত সংবাদে বিষয়ে কথা বলতে তিনি রাজি নন বলে জানান।
সাংবাদিককে মিথ্যা চাঁদাবাজির অপবাদ দেওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি প্রমাণ নাই বলে জানান।
তাছাড়া তিনি সাংবাদিককের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণে এই রিপোর্টে মোতে/ প্রস্রাব করে দেন বলে চরম রাগান্বিত হন তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।





























