সবজির বাজার চড়া, স্বস্তি নেই ক্রেতাদের
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 8
রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দামে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। অধিকাংশ সবজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে চলতি সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, পটল ও কাঁকরোলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজিগুলো ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও দেশি শসার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার দাম ৮০ টাকা কেজি।
একটি লাউ কিনতে ক্রেতাকে ৫০ থেকে ৭০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। কচুরমুখি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি। বর্ষা মৌসুমে আগাম আসা শিমের দাম সবচেয়ে বেশি। প্রতি কেজি শিম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, যার কেজি ৩০ টাকা।
সবজির বাজার চড়া থাকলেও কাঁচা মরিচের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। সরবরাহ বাড়ায় কয়েক সপ্তাহ আগে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া মরিচ এখন ১২০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
বাজার করতে আসা আবরার হোসেন বলেন, “বেগুন ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ছোট লাউ ৬০ টাকা এবং এক পোয়া মরিচ ৩০ টাকায় কিনেছি। সবকিছুর দাম বেশি। আমাদের খাওয়ার মতো কিছু বাজারে নেই।”
কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন ও সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। ফলে বাজারে সবজির দাম বেড়েছে। সরবরাহ ও উৎপাদন বাড়লে দামও কমে আসবে বলে আশা করছেন তারা।
এদিকে মুরগির বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিমও আগের উচ্চমূল্যেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা, আর চারটি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকা।
মাছের বাজারেও সামগ্রিকভাবে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। প্রজাতি ও আকারভেদে দামে পার্থক্য থাকলেও তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাস ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
দেশি কই ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছের দাম কেজিতে এক হাজার টাকারও বেশি।
ব্যবসায়ীরা জানান, মাছের আকার, জীবিত বা মৃত অবস্থার পাশাপাশি সরবরাহ ও ক্রেতার উপস্থিতির ওপর দাম নির্ভর করে। এ কারণে একই মাছের দামেও বাজারভেদে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য দেখা যায়।
কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা করিম বলেন, মাছের দাম নির্দিষ্ট নয়। সরবরাহ ও ক্রেতার উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে দাম ওঠানামা করে। সকালে যে দামে মাছ বিক্রি হয়, বিকেলে সেই দাম পরিবর্তিত হতে পারে। বাজারে সরবরাহ বাড়লে দাম কমে, আর ক্রেতা বাড়লে দামও বেড়ে যায়।
































