ঢাকা ০৩:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ষষ্ঠ শ্রেণী থেকেই বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:১০:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / 96

কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক

দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বিশাল ও যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করতে যাচ্ছে সরকার। শুধু খাতা-কলমের তাত্ত্বিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তরুণ শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী ও কর্মমুখী শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবার ষষ্ঠ শ্রেণী থেকেই কারিগরি শিক্ষা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন আধুনিক শিক্ষাক্রমের আলোকে এখন থেকে মাধ্যমিক স্তরে পড়ালেখা করা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সাধারণ পড়াশোনার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে যেকোনো একটি কারিগরি বা বৃত্তিমূলক বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রচলিত সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করলেও সঠিক দক্ষতার অভাবে কর্মসংস্থানের বাজারে তারা বড় অংশই পিছিয়ে পড়ছে। এই দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতার ঘাটতি বা ‘স্কিল গ্যাপ’ দূর করার উদ্দেশ্যেই একদম তৃণমূল তথা স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের আধুনিক কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি পরিচিত করানোর এই মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য সাধারণ পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে একটি আবশ্যকীয় বা আবশ্যিক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর অধীনে মূলত হাতে-কলমে শেখার উপযোগী নিচের বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হবে:

  • আইসিটি ও ডিজিটাল স্কিলস: এর মধ্যে থাকবে প্রাথমিক কোডিং, কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন এবং বর্তমান যুগের ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রাথমিক ও প্রয়োজনীয় ধারণা।
  • ব্যবহারিক ও কারিগরি কাজ: দৈনন্দিন ও কর্মমুখী কাজের উপযোগী ইলেকট্রনিক্স, মোবাইল রিপেয়ারিং, আধুনিক গ্রাফিক্স ডিজাইন, সেলাই ও বুটিকস এবং কৃষিশিক্ষার মতো অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিষয়।
  • ল্যাবরেটরি ও কর্মশালা: এই নতুন শিক্ষাক্রমে সাধারণ তাত্ত্বিক ক্লাসের চেয়ে শিক্ষার্থীদের ল্যাব বা বিশেষ ওয়ার্কশপে সরাসরি হাতে-কলমে কাজ শেখার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

দেশজুড়ে এই বিশাল ও দূরদর্শী উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে দেশের প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষকদের এই সব কারিগরি ও আধুনিক বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে বিশেষ প্রশিক্ষণের সুব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেসব গ্রামীণ বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়ে নিজস্ব পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা নেই, সেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের কাছাকাছি থাকা সরকারি বা বেসরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ল্যাবের সঙ্গে যুক্ত করে এই বিশেষ ক্লাসগুলো পরিচালনার একটি সমন্বিত পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ষষ্ঠ শ্রেণী থেকেই বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা

সর্বশেষ আপডেট ০১:১০:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বিশাল ও যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করতে যাচ্ছে সরকার। শুধু খাতা-কলমের তাত্ত্বিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তরুণ শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী ও কর্মমুখী শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবার ষষ্ঠ শ্রেণী থেকেই কারিগরি শিক্ষা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন আধুনিক শিক্ষাক্রমের আলোকে এখন থেকে মাধ্যমিক স্তরে পড়ালেখা করা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সাধারণ পড়াশোনার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে যেকোনো একটি কারিগরি বা বৃত্তিমূলক বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রচলিত সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করলেও সঠিক দক্ষতার অভাবে কর্মসংস্থানের বাজারে তারা বড় অংশই পিছিয়ে পড়ছে। এই দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতার ঘাটতি বা ‘স্কিল গ্যাপ’ দূর করার উদ্দেশ্যেই একদম তৃণমূল তথা স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের আধুনিক কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি পরিচিত করানোর এই মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য সাধারণ পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে একটি আবশ্যকীয় বা আবশ্যিক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর অধীনে মূলত হাতে-কলমে শেখার উপযোগী নিচের বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হবে:

  • আইসিটি ও ডিজিটাল স্কিলস: এর মধ্যে থাকবে প্রাথমিক কোডিং, কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন এবং বর্তমান যুগের ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রাথমিক ও প্রয়োজনীয় ধারণা।
  • ব্যবহারিক ও কারিগরি কাজ: দৈনন্দিন ও কর্মমুখী কাজের উপযোগী ইলেকট্রনিক্স, মোবাইল রিপেয়ারিং, আধুনিক গ্রাফিক্স ডিজাইন, সেলাই ও বুটিকস এবং কৃষিশিক্ষার মতো অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিষয়।
  • ল্যাবরেটরি ও কর্মশালা: এই নতুন শিক্ষাক্রমে সাধারণ তাত্ত্বিক ক্লাসের চেয়ে শিক্ষার্থীদের ল্যাব বা বিশেষ ওয়ার্কশপে সরাসরি হাতে-কলমে কাজ শেখার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

দেশজুড়ে এই বিশাল ও দূরদর্শী উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে দেশের প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষকদের এই সব কারিগরি ও আধুনিক বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে বিশেষ প্রশিক্ষণের সুব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেসব গ্রামীণ বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়ে নিজস্ব পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা নেই, সেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের কাছাকাছি থাকা সরকারি বা বেসরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ল্যাবের সঙ্গে যুক্ত করে এই বিশেষ ক্লাসগুলো পরিচালনার একটি সমন্বিত পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।