ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২০ মাসে ধর্ষণ নির্যাতনে নিহত ৬৪৩টি শিশু

শিশু সুরক্ষায় চরম বিপর্যয় ও বিচারহীনতার চিত্র

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • / 28

শিশু ধর্ষণ

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএসএস (HRSS) ও আসক (ASK)-এর যৌথ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিগত ২০ মাসে দেশে ৬৪৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং গত ৫ বছরে দুই হাজার ৩০০-এর বেশি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার রেশ ধরে উঠে এসেছে বিচার ব্যবস্থার এক দীর্ঘসূত্রতার চিত্র। ঢাকার আদালতেই ঝুলে আছে তিন হাজারেরও বেশি শিশু নির্যাতন মামলা। সঠিক সময়ে চার্জশিট না হওয়া এবং সাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারণে অপরাধীরা আইনের ফাঁক গলে পার পেয়ে যাচ্ছে।

সমাজে প্রতিনিয়ত নিষ্পাপ শিশুদের ওপর হওয়া পাশবিকতা ও খুনের পরিসংখ্যান আমাদের আইনি কাঠামোর এক চরম ব্যর্থতাকে নির্দেশ করছে। মাসের পর মাস মামলার ফাইল হিমাগারে পড়ে থাকায় অপরাধীদের মনে শাস্তির কোনো ভয় থাকছে না, যা অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।

মূলত শিশু সুরক্ষায় চরম বিপর্যয় ও বিচারহীনতার চিত্র শিরোনামের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি দেশের আইনি ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতাকে জনসমক্ষে এনেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আলোড়ন সৃষ্টি করা মাগুরার আছিয়া হত্যার এক বছর পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগী পরিবার এখনো ন্যায়বিচারের আলো দেখেনি।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কেবল চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই ১৯৫ জন অবুজ শিশু তাদের জীবন হারিয়েছে। বর্তমানে শিশু সুরক্ষায় চরম বিপর্যয় ও বিচারহীনতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয় যখন ওসিসির (OCC) আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার মামলার জটের সুনির্দিষ্ট কারণ তুলে ধরেন।

তিনি জানান, তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত অন্যান্য ডিউটি পালন, সঠিক সময়ে মেডিকেল রিপোর্ট না পাওয়া এবং আদালতে সময়মতো গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের হাজির করতে না পারার কারণেই বছরের পর বছর রায় থমকে থাকে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জানান, আইনি কিছু নিয়মকানুন এবং পুলিশ রিপোর্ট ও সাক্ষ্যগ্রহণের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণেই মূলত আদালতে সময়ক্ষেপণ হয়। বর্তমানে শিশু সুরক্ষায় চরম বিপর্যয় ও বিচারহীনতার চিত্র বদলাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আশ্বাস দিয়েছেন যে, পল্লবীর রামিসা হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

২০ মাসে ধর্ষণ নির্যাতনে নিহত ৬৪৩টি শিশু

শিশু সুরক্ষায় চরম বিপর্যয় ও বিচারহীনতার চিত্র

সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএসএস (HRSS) ও আসক (ASK)-এর যৌথ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিগত ২০ মাসে দেশে ৬৪৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং গত ৫ বছরে দুই হাজার ৩০০-এর বেশি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার রেশ ধরে উঠে এসেছে বিচার ব্যবস্থার এক দীর্ঘসূত্রতার চিত্র। ঢাকার আদালতেই ঝুলে আছে তিন হাজারেরও বেশি শিশু নির্যাতন মামলা। সঠিক সময়ে চার্জশিট না হওয়া এবং সাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারণে অপরাধীরা আইনের ফাঁক গলে পার পেয়ে যাচ্ছে।

সমাজে প্রতিনিয়ত নিষ্পাপ শিশুদের ওপর হওয়া পাশবিকতা ও খুনের পরিসংখ্যান আমাদের আইনি কাঠামোর এক চরম ব্যর্থতাকে নির্দেশ করছে। মাসের পর মাস মামলার ফাইল হিমাগারে পড়ে থাকায় অপরাধীদের মনে শাস্তির কোনো ভয় থাকছে না, যা অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।

মূলত শিশু সুরক্ষায় চরম বিপর্যয় ও বিচারহীনতার চিত্র শিরোনামের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি দেশের আইনি ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতাকে জনসমক্ষে এনেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আলোড়ন সৃষ্টি করা মাগুরার আছিয়া হত্যার এক বছর পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগী পরিবার এখনো ন্যায়বিচারের আলো দেখেনি।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কেবল চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই ১৯৫ জন অবুজ শিশু তাদের জীবন হারিয়েছে। বর্তমানে শিশু সুরক্ষায় চরম বিপর্যয় ও বিচারহীনতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয় যখন ওসিসির (OCC) আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার মামলার জটের সুনির্দিষ্ট কারণ তুলে ধরেন।

তিনি জানান, তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত অন্যান্য ডিউটি পালন, সঠিক সময়ে মেডিকেল রিপোর্ট না পাওয়া এবং আদালতে সময়মতো গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের হাজির করতে না পারার কারণেই বছরের পর বছর রায় থমকে থাকে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জানান, আইনি কিছু নিয়মকানুন এবং পুলিশ রিপোর্ট ও সাক্ষ্যগ্রহণের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণেই মূলত আদালতে সময়ক্ষেপণ হয়। বর্তমানে শিশু সুরক্ষায় চরম বিপর্যয় ও বিচারহীনতার চিত্র বদলাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আশ্বাস দিয়েছেন যে, পল্লবীর রামিসা হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দেওয়া হবে।