শিশু নির্যাতন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ চায় সিএসএ প্রিভেনশন নেটওয়ার্ক
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৬:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
- / 211
বাংলাদেশে শিশু নির্যাতনের বিভিন্ন ধরন ও ঘটনার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ (সিএসএ প্রিভেনশন) নেটওয়ার্ক। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন সরকারের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (৬ মার্চ) এক বিবৃতিতে নেটওয়ার্কটি জানায়, দেশে শিশুদের প্রতি সহিংসতা ও অধিকার লঙ্ঘনের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিশু সুরক্ষা ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা দেশের আটটি বিভাগের ২৬টি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত এই নেটওয়ার্ক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন সংগঠন নিজ নিজ পরিসরে নানা উদ্যোগ নিলেও সামগ্রিকভাবে তা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংবেদনশীলতা তৈরি করতে পারছে না। ফলে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাগুলো প্রতিনিয়ত সামনে আসছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এর আগে মাগুরায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা, পাবনার ঈশ্বরদীতে নানীকে হত্যা করে কিশোরী নাতনিকে ধর্ষণ এবং ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সংগৃহীত তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই দুই মাসেই অন্তত ১৪ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে আরও তিনজন কন্যাশিশু।
এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় একটি ঘটনায় বিমান সংস্থার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীসহ চারজনকে ১১ বছর বয়সী এক গৃহকর্মী শিশুকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নির্যাতন ও পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় শিশুদের ওপর ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অনলাইন সহিংসতা এবং গৃহশ্রমে নির্যাতনের বিষয়গুলো আবারও সামনে এসেছে।
এ প্রেক্ষাপটে সিএসএ প্রিভেনশন নেটওয়ার্ক নবগঠিত সরকারের কাছে শিশু সুরক্ষা জোরদার করার লক্ষ্যে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তাই শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনসমূহের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।
নেটওয়ার্কটি মনে করে, শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি পর্যায়ের সংগঠনগুলোর সমন্বিত ও সংবেদনশীল ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া শিশুদের জন্য নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা, অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং ভুক্তভোগী শিশুদের জন্য মনোসামাজিক সহায়তা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নেটওয়ার্কটি আশা প্রকাশ করে, নতুন সরকার শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে জাতীয় পর্যায়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হলে সমাজে একটি শক্ত বার্তা পৌঁছাবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কেবল শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, সহিংসতামুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। শিশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নেটওয়ার্ক সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে।





















