ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোংলায় প্রধানমন্ত্রী, চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, মোংলা (বাগেরহাট)
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৫০:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / 67

মোংলায় প্রধানমন্ত্রী, চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি

এক দিনের সরকারি সফরে বাগেরহাটের মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তিনি মোংলায় পৌঁছান। এর আগে সকাল ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে রওনা হন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

‘মোংলা বন্দরের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে চীন সরকার এক্সিম ব্যাংক অব চায়নার মাধ্যমে প্রায় ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহজ শর্তের ঋণ দিচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় ৩৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যের ১০ ও ১১ নম্বর দুটি আধুনিক কনটেইনার জেটি নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ৮৭ হাজার ৬০০ বর্গমিটারের লোডেড কনটেইনার ইয়ার্ড, ৩৪ হাজার ১৭০ বর্গমিটারের খালি কনটেইনার ইয়ার্ড এবং ৪ হাজার ২৬০ বর্গমিটারের বিপজ্জনক পণ্য হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যুক্ত হলে বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার টিইইউতে উন্নীত হবে।

প্রকল্পটির ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে চীনের প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি)। প্রতিষ্ঠানটি চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে চীনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা (সিআইডিসিএ) ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মধ্যে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি হয়। পরে গত ১০ অক্টোবর চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ২ দশমিক ৪০৪ বিলিয়ন ইউয়ানের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

মোংলায় পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসানসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

এদিকে, প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প বিনিয়োগ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এ সময় ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও সিআরসিসির মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের কর্মসূচিও রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ এবং বৃহৎ অবকাঠামো ও শিল্প প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মোংলার কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরে বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

এর আগে গত ২২ অক্টোবরও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তাঁর এ সফরকে ঘিরে এ অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগেও মোংলা বন্দরের গুরুত্ব বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মোংলায় প্রধানমন্ত্রী, চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি

সর্বশেষ আপডেট ১০:৫০:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

এক দিনের সরকারি সফরে বাগেরহাটের মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তিনি মোংলায় পৌঁছান। এর আগে সকাল ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে রওনা হন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

‘মোংলা বন্দরের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে চীন সরকার এক্সিম ব্যাংক অব চায়নার মাধ্যমে প্রায় ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহজ শর্তের ঋণ দিচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় ৩৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যের ১০ ও ১১ নম্বর দুটি আধুনিক কনটেইনার জেটি নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ৮৭ হাজার ৬০০ বর্গমিটারের লোডেড কনটেইনার ইয়ার্ড, ৩৪ হাজার ১৭০ বর্গমিটারের খালি কনটেইনার ইয়ার্ড এবং ৪ হাজার ২৬০ বর্গমিটারের বিপজ্জনক পণ্য হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যুক্ত হলে বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার টিইইউতে উন্নীত হবে।

প্রকল্পটির ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে চীনের প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি)। প্রতিষ্ঠানটি চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে চীনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা (সিআইডিসিএ) ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মধ্যে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি হয়। পরে গত ১০ অক্টোবর চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ২ দশমিক ৪০৪ বিলিয়ন ইউয়ানের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

মোংলায় পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসানসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

এদিকে, প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প বিনিয়োগ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এ সময় ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও সিআরসিসির মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের কর্মসূচিও রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ এবং বৃহৎ অবকাঠামো ও শিল্প প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মোংলার কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরে বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

এর আগে গত ২২ অক্টোবরও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তাঁর এ সফরকে ঘিরে এ অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগেও মোংলা বন্দরের গুরুত্ব বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।