ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা
- সর্বশেষ আপডেট ১২:২৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / 29
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে আবারও পিছিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজ। আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তারাও সিরিজ আয়োজন নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন।
দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্কের উন্নতি হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষ করে ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জুম সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হওয়ার ঘটনায় ঢাকার তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব ক্রিকেট কূটনীতিতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সফরের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট দলকে পাঠাতে দেশটির সরকারের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)।
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের উদ্যোগে সিরিজটি আয়োজনের বিষয়ে বিসিসিআই কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) চেয়ারম্যান জয় শাহও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর অনুরোধে ২৯ আগস্ট থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সূচিতে জায়গা ফাঁকা রেখেছে বিসিসিআই।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্ট ভারতীয় দলের ঢাকায় আসার কথা। এরপর ১ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা দুই দলের।
তবে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরো সিরিজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে বিসিসিআই। এই শর্তে ভারত খেলতে এলে বিসিবিরও আপত্তি নেই বলে জানা গেছে।
বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত সিরিজটি মাঠে গড়াবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর। পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হলে ক্রিকেট কূটনীতির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও স্বাভাবিক করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
আইসিসির ‘ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম’-এর অংশ হিসেবে সিরিজটি মূলত ২০২৫ সালের আগস্টে হওয়ার কথা ছিল। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা এক বছর পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে—এমন প্রত্যাশা ছিল ভারতের। কিন্তু নানা কারণে সম্পর্ক প্রত্যাশিত মাত্রায় উন্নীত না হওয়ায় বাংলাদেশ সফর নিয়ে এখনও দ্বিধায় রয়েছে বিসিসিআই।
সফর নিয়ে জানতে চাইলে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, তাঁর দায়িত্বের সীমার মধ্যে থেকে তিনি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন। বিসিসিআইয়ের সঙ্গে বিসিবির নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিসিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে দ্রুত আয়োজন সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে ১৫ আগস্টের মধ্যে সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে ভালো হয়। কারণ টেলিভিশন সম্প্রচার, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সময় প্রয়োজন।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধু বিসিসিআইয়ের হাতে নেই। ভারত সরকারের অনুমোদন না পাওয়া গেলে বিসিসিআই বাংলাদেশ সফরের জন্য দল পাঠাতে পারবে না।
সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে জানিয়েছিলেন, দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি ক্রিকেট কূটনীতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা সামনে এসেছে। ভারত অংশ না নিলে টুর্নামেন্টটি আয়োজন নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে ক্রিকেট সিরিজের পরিস্থিতির সঙ্গে সাফের বাস্তবতা পুরোপুরি এক নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
































