ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভয়াবহ দুর্যোগে ফিলিপাইন, ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / 191

ভয়াবহ দুর্যোগে ফিলিপাইন, ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার

টাইফুন কালমেগি–এর প্রভাবে সৃষ্ট ভারি বৃষ্টিপাতে মধ্য ফিলিপাইনের বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফিলিপাইন বর্তমানে ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে রয়েছে। উদ্ধারকাজ চলছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) এএফপি যাচাইকৃত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, সেবু দ্বীপের পুরো শহর প্লাবিত হয়েছে। গাড়ি, ট্রাক এমনকি বিশাল শিপিং কন্টেইনারও বন্যার পানিতে ভেসে যেতে দেখা গেছে।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা উপপ্রশাসক রাফায়েলিতো আলেজান্দ্রো এএফপিকে ফোনে জানিয়েছেন, “শুধু সেবুতেই ২১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা গেছে। ঝড়ে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা ২৬। আমাদের প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, তাদের বেশিরভাগই ডুবে মারা গেছেন।”

কালমেগির আঘাত হানার ২৪ ঘণ্টা আগেই সেবু সিটি ও আশপাশের এলাকায় ১৮৩ মিলিমিটার (প্রায় সাত ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়। এর ফলেই শহরজুড়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তা চার্মাগনে ভারিলা।

প্রাদেশিক গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো মঙ্গলবার ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, “সেবুর পরিস্থিতি নজিরবিহীন। আমরা ধারণা করেছিলাম, বাতাস হবে সবচেয়ে বিপজ্জনক। কিন্তু আসলে পানিই আমাদের জনগণকে সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে ফেলেছে। বন্যার পানি মারাত্মক ধ্বংস ডেকে এনেছে।”

স্থানীয় দুর্যোগ কর্মকর্তা এথেল মিনোজা জানিয়েছেন, সেবু সিটিতে দুটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনো পানিতে আটকে পড়া বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “পানি এত দ্রুত বেড়ে গেল যে কিছুই করার ছিল না। ভোর ৪টার দিকেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়—মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছিল না। আমি ২৮ বছর ধরে এখানে আছি, কিন্তু এমন ভয়াবহ সময় কখনো দেখিনি।”

বিজ্ঞানীরা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে টাইফুনগুলো আরও শক্তিশালী ও দ্রুতবেগে আঘাত হানছে। এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা আলেজান্দ্রো জানান, “প্রায় ৪ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভয়াবহ দুর্যোগে ফিলিপাইন, ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

টাইফুন কালমেগি–এর প্রভাবে সৃষ্ট ভারি বৃষ্টিপাতে মধ্য ফিলিপাইনের বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফিলিপাইন বর্তমানে ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে রয়েছে। উদ্ধারকাজ চলছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) এএফপি যাচাইকৃত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, সেবু দ্বীপের পুরো শহর প্লাবিত হয়েছে। গাড়ি, ট্রাক এমনকি বিশাল শিপিং কন্টেইনারও বন্যার পানিতে ভেসে যেতে দেখা গেছে।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা উপপ্রশাসক রাফায়েলিতো আলেজান্দ্রো এএফপিকে ফোনে জানিয়েছেন, “শুধু সেবুতেই ২১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা গেছে। ঝড়ে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা ২৬। আমাদের প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, তাদের বেশিরভাগই ডুবে মারা গেছেন।”

কালমেগির আঘাত হানার ২৪ ঘণ্টা আগেই সেবু সিটি ও আশপাশের এলাকায় ১৮৩ মিলিমিটার (প্রায় সাত ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়। এর ফলেই শহরজুড়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তা চার্মাগনে ভারিলা।

প্রাদেশিক গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো মঙ্গলবার ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, “সেবুর পরিস্থিতি নজিরবিহীন। আমরা ধারণা করেছিলাম, বাতাস হবে সবচেয়ে বিপজ্জনক। কিন্তু আসলে পানিই আমাদের জনগণকে সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে ফেলেছে। বন্যার পানি মারাত্মক ধ্বংস ডেকে এনেছে।”

স্থানীয় দুর্যোগ কর্মকর্তা এথেল মিনোজা জানিয়েছেন, সেবু সিটিতে দুটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনো পানিতে আটকে পড়া বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “পানি এত দ্রুত বেড়ে গেল যে কিছুই করার ছিল না। ভোর ৪টার দিকেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়—মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছিল না। আমি ২৮ বছর ধরে এখানে আছি, কিন্তু এমন ভয়াবহ সময় কখনো দেখিনি।”

বিজ্ঞানীরা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে টাইফুনগুলো আরও শক্তিশালী ও দ্রুতবেগে আঘাত হানছে। এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা আলেজান্দ্রো জানান, “প্রায় ৪ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।”