ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক ট্রলারে ধরা পড়লো ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার ইলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 78

ইলিশ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়েছে। পরে স্থানীয় মৎস্য বন্দরের আড়তে নিলামের মাধ্যমে এসব মাছ ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে এফবি জুনাইদ নামের ট্রলারে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। একবার জাল ফেলেই ট্রলারটির জালে প্রায় ২ হাজার ২০০টি ইলিশ উঠে আসে।

শুক্রবার দুপুরে মাছ নিয়ে ট্রলারটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে পৌঁছায়। পরে মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের মাধ্যমে ইলিশগুলো বিক্রি করা হয়।

আড়ত সূত্র জানায়, মোট ৪৬ মণ ইলিশের মধ্যে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের মাছ ছিল ২৪ মণ। এসব মাছ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। এতে মোট দাম দাঁড়ায় ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজি ইলিশের দাম পড়েছে ২ হাজার ৮৭৫ টাকা।

এ ছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ অংশের মাছের মোট দাম দাঁড়ায় ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। দুই ধরনের মাছ মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছেন তারা। একবার জাল ফেলতেই প্রায় ২ হাজার ২০০টি ইলিশ ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন লোকসানের পর এমন বড় চালান পেয়ে তারা আনন্দিত।

মনোয়ারা ফিশের ব্যবস্থাপক সগির আকন বলেন, দীর্ঘ সময় পর এত বড় চালানের ইলিশ আড়তে এসেছে। বর্তমানে বাজারেও ইলিশের দাম ভালো থাকায় জেলেরা মাছের ন্যায্য দাম পেয়েছেন। সাধারণত একসঙ্গে এত বড় আকারের ইলিশ পাওয়া যায় না।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ মাছ ধরার ট্রলারে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে না। এর মধ্যে একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়া জেলেদের জন্য অবশ্যই আশাব্যঞ্জক খবর।

তবে একদিনে বেশি ইলিশ ধরা পড়াকে সামগ্রিকভাবে ইলিশের প্রাচুর্যের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন প্রয়োজন। ইলিশের এই ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের সংকট ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সামনে আরও বেশি ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জেলে, আড়তদারসহ ইলিশ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এক ট্রলারে ধরা পড়লো ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার ইলিশ

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়েছে। পরে স্থানীয় মৎস্য বন্দরের আড়তে নিলামের মাধ্যমে এসব মাছ ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে এফবি জুনাইদ নামের ট্রলারে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। একবার জাল ফেলেই ট্রলারটির জালে প্রায় ২ হাজার ২০০টি ইলিশ উঠে আসে।

শুক্রবার দুপুরে মাছ নিয়ে ট্রলারটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে পৌঁছায়। পরে মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের মাধ্যমে ইলিশগুলো বিক্রি করা হয়।

আড়ত সূত্র জানায়, মোট ৪৬ মণ ইলিশের মধ্যে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের মাছ ছিল ২৪ মণ। এসব মাছ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। এতে মোট দাম দাঁড়ায় ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজি ইলিশের দাম পড়েছে ২ হাজার ৮৭৫ টাকা।

এ ছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ অংশের মাছের মোট দাম দাঁড়ায় ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। দুই ধরনের মাছ মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছেন তারা। একবার জাল ফেলতেই প্রায় ২ হাজার ২০০টি ইলিশ ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন লোকসানের পর এমন বড় চালান পেয়ে তারা আনন্দিত।

মনোয়ারা ফিশের ব্যবস্থাপক সগির আকন বলেন, দীর্ঘ সময় পর এত বড় চালানের ইলিশ আড়তে এসেছে। বর্তমানে বাজারেও ইলিশের দাম ভালো থাকায় জেলেরা মাছের ন্যায্য দাম পেয়েছেন। সাধারণত একসঙ্গে এত বড় আকারের ইলিশ পাওয়া যায় না।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ মাছ ধরার ট্রলারে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে না। এর মধ্যে একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়া জেলেদের জন্য অবশ্যই আশাব্যঞ্জক খবর।

তবে একদিনে বেশি ইলিশ ধরা পড়াকে সামগ্রিকভাবে ইলিশের প্রাচুর্যের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন প্রয়োজন। ইলিশের এই ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের সংকট ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সামনে আরও বেশি ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জেলে, আড়তদারসহ ইলিশ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন।