বান্দরবানে ধসে পড়া দুই সেতু নিয়ে দুর্ভোগে ১৫ হাজার মানুষ
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / 83
বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ও রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু দীর্ঘদিন ধরে ধসে পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তিন বছর পার হলেও সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। অন্য সেতুটিও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে থাকলেও তা মেরামতের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষের জন্য ধসে পড়া সেতুটিই ছয়টি গ্রামের একমাত্র সড়ক যোগাযোগের মাধ্যম। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে স্থানীয়রা অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করে চলাচল করছেন। বর্ষা মৌসুমে সেতুর ওপর চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পথ ব্যবহার করছেন।
অন্যদিকে রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের একটি খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ধসে পড়ায় ছয়টি গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বিকল্প সড়ক না থাকায় ভাঙা সেতু দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে খালের স্রোত বেড়ে যাওয়ায় পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কুহালং ইউনিয়নের বাসিন্দা উমংসিং মারমা বলেন, ২০২৩ সালের বন্যায় সেতুটি ধসে যাওয়ার পর থেকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত নতুন সেতু নির্মাণ বা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
নোয়াপতং ইউনিয়নের সোনাই সেফ্রু পাড়ার বাসিন্দা বিমল তংচঙ্গ্যা বলেন, গত বর্ষায় ভাঙা সেতু পার হওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী স্রোতে ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় তারা প্রাণে বেঁচে যায়। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
কুহালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মংপু মারমা এবং নোয়াপতং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান চনুমং মারমা বলেন, সেতু দুটি ধসে পড়ার পর থেকেই স্থানীয়দের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (এলজিইডি) জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তারা দ্রুত সেতু দুটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি এলাকার উন্নয়নের অন্যতম শর্ত। অথচ বছরের পর বছর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু অচল থাকায় হাজারো মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।





























