ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • / 258

ফেমিনিস্ট লিডারশিপ কমিটির (এফএলসি) আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বিশেষ আয়োজন। ছবি: সংগৃহীত

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। সেসঙ্গে এও বলা হয়েছে, প্রতিবন্ধী নারীরা সমাজে দ্বিগুণ বৈষম্যের শিকার। একদিকে নারী, অন্যদিকে প্রতিবন্ধী মানুষ হিসেবে। প্রতিবন্ধী নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার এবং মূলধারার নারী আন্দোলনে তাঁদের পূর্ণ অন্তর্ভুক্তি, নীতি নির্ধারণীতে জায়গা করে দেওয়ার প্রতি জোর দিয়েছেন উন্নয়নকর্মীরা।

আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবন মিলনায়তনে ফেমিনিস্ট লিডারশিপ কমিটির (এফএলসি) আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে একথা বলেন বক্তারা।

“আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার/ সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী, নারী অধিকার নেত্রী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন।

সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা বেগম স্বাগত বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন শিল্পী আক্তার । বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাগসরের নির্বাহী পরিচালক ফওজিয়া খোন্দকার ইভা। মাহমুদা বেগম এর সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন নারীপক্ষের পরিচালক কামরুন নাহার, পুন্ড্রা এন্টারপ্রাইজের জিইডিএসআই সমন্বয়কারী (প্রতিষ্ঠাতা সদস্য) মোছা. ফজিলা খানম, অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সামিয়া আহমেদ. ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক, রোকসানা সুলতানা, ডিজ্যাবল্ড চাইল্ড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাছরিন জাহান, সেভ দ্য চিলড্রেনের ওমর ফারুক। সমাপনী বক্তব্য দেন কেএনইউএসের নির্বাহী পরিচালক লতিফা ইয়াসমিন লাভলি।
মাহমুদা বেগম বলেন, নারীরা বুঝেছেন নির্বাচনে কোন প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। নারীরা ভোট না দিলে ভোটের ফলাফলের চিত্র পাল্টে যেতো। অন্যদিকে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে প্রান্তিক নারীদের নিয়ে কাজ করতে হবে।

শিল্পী আক্তার তাঁর প্রবন্ধে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো একজন নারী পিছিয়ে থাকবেন, ততক্ষণ আমাদের মুক্তি সম্পূর্ণ নয়। বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী। তাঁদের অধিকাংশই এখনও মূলধারার উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন। কারণ সরকারি- বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই প্রতিবন্ধী নারীবান্ধব নয়। এই পরিস্থিতির আশু পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

কামরুন নাহার বলেন, বর্তমান সরকার নারীবান্ধব নয়, এর প্রমাণ মিলেছে এয়োদশ নির্বাচনে। নারীর চ্যালেঞ্জ অনেক। এজন্য নারীকে একতাবদ্ধ, যৌথবদ্ধ হয়ে সরকারের কাছে দাবি তুলতে হবে। নারী আন্দোলনকে সহযোগিতা করার অঙ্গীকার যেন সরকার করে।
নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন একমাত্র উপায় নয় বলেন মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, সামাজিকভাবে দায়বদ্ধতা, একজন মানুষের প্রতি মানুষের সম্মান প্রদান করা, একজন মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক তৈরি করা পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তা আইন দিয়ে মানা সম্ভব নয়। তাই আইন হতে হবে নারীবান্ধব।

রোকসানা সুলতানা বলেন, আইন থাকলেই বাস্তবায়ন হবে না, যদি মেয়েটির পাশে পরিবার না থাকে।

ওমর ফারুক বলেন, ৫১ শতাংশ নারীর জন্য মন্ত্রিপরিষদে মাত্র ৭জন সংসদ সদস্য। বিজ্ঞান, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত এই জায়গাগুলোতে নারীর অবস্থান কোথায়! এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা নেই। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক এই পর্যায়ে যেতে বাল্যবিয়ের কারণে মেয়েরা ঝরে পড়ে। এর পরিসংখ্যান পাওয়া গেলেও উচ্চশিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীর পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। মন্ত্রণালয়ে নারী সচিবের সংখ্যাও কম। কিন্তু এ নিয়েও কোনো আলোচনা নেই।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শারমিন সুলতানা ও ওয়াদুদ রাহুল।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। সেসঙ্গে এও বলা হয়েছে, প্রতিবন্ধী নারীরা সমাজে দ্বিগুণ বৈষম্যের শিকার। একদিকে নারী, অন্যদিকে প্রতিবন্ধী মানুষ হিসেবে। প্রতিবন্ধী নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার এবং মূলধারার নারী আন্দোলনে তাঁদের পূর্ণ অন্তর্ভুক্তি, নীতি নির্ধারণীতে জায়গা করে দেওয়ার প্রতি জোর দিয়েছেন উন্নয়নকর্মীরা।

আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবন মিলনায়তনে ফেমিনিস্ট লিডারশিপ কমিটির (এফএলসি) আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে একথা বলেন বক্তারা।

“আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার/ সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী, নারী অধিকার নেত্রী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন।

সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা বেগম স্বাগত বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন শিল্পী আক্তার । বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাগসরের নির্বাহী পরিচালক ফওজিয়া খোন্দকার ইভা। মাহমুদা বেগম এর সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন নারীপক্ষের পরিচালক কামরুন নাহার, পুন্ড্রা এন্টারপ্রাইজের জিইডিএসআই সমন্বয়কারী (প্রতিষ্ঠাতা সদস্য) মোছা. ফজিলা খানম, অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সামিয়া আহমেদ. ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক, রোকসানা সুলতানা, ডিজ্যাবল্ড চাইল্ড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাছরিন জাহান, সেভ দ্য চিলড্রেনের ওমর ফারুক। সমাপনী বক্তব্য দেন কেএনইউএসের নির্বাহী পরিচালক লতিফা ইয়াসমিন লাভলি।
মাহমুদা বেগম বলেন, নারীরা বুঝেছেন নির্বাচনে কোন প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। নারীরা ভোট না দিলে ভোটের ফলাফলের চিত্র পাল্টে যেতো। অন্যদিকে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে প্রান্তিক নারীদের নিয়ে কাজ করতে হবে।

শিল্পী আক্তার তাঁর প্রবন্ধে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো একজন নারী পিছিয়ে থাকবেন, ততক্ষণ আমাদের মুক্তি সম্পূর্ণ নয়। বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী। তাঁদের অধিকাংশই এখনও মূলধারার উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন। কারণ সরকারি- বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই প্রতিবন্ধী নারীবান্ধব নয়। এই পরিস্থিতির আশু পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

কামরুন নাহার বলেন, বর্তমান সরকার নারীবান্ধব নয়, এর প্রমাণ মিলেছে এয়োদশ নির্বাচনে। নারীর চ্যালেঞ্জ অনেক। এজন্য নারীকে একতাবদ্ধ, যৌথবদ্ধ হয়ে সরকারের কাছে দাবি তুলতে হবে। নারী আন্দোলনকে সহযোগিতা করার অঙ্গীকার যেন সরকার করে।
নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন একমাত্র উপায় নয় বলেন মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, সামাজিকভাবে দায়বদ্ধতা, একজন মানুষের প্রতি মানুষের সম্মান প্রদান করা, একজন মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক তৈরি করা পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তা আইন দিয়ে মানা সম্ভব নয়। তাই আইন হতে হবে নারীবান্ধব।

রোকসানা সুলতানা বলেন, আইন থাকলেই বাস্তবায়ন হবে না, যদি মেয়েটির পাশে পরিবার না থাকে।

ওমর ফারুক বলেন, ৫১ শতাংশ নারীর জন্য মন্ত্রিপরিষদে মাত্র ৭জন সংসদ সদস্য। বিজ্ঞান, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত এই জায়গাগুলোতে নারীর অবস্থান কোথায়! এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা নেই। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক এই পর্যায়ে যেতে বাল্যবিয়ের কারণে মেয়েরা ঝরে পড়ে। এর পরিসংখ্যান পাওয়া গেলেও উচ্চশিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীর পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। মন্ত্রণালয়ে নারী সচিবের সংখ্যাও কম। কিন্তু এ নিয়েও কোনো আলোচনা নেই।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শারমিন সুলতানা ও ওয়াদুদ রাহুল।