ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে বাতিল হচ্ছে বিশেষ প্রণোদনা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:২৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 112

পে-স্কেল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চালু করা বিশেষ প্রণোদনা বাতিল হচ্ছে। ২০২৪ সালে চালু হওয়া এই প্রণোদনা প্রথমে মূল বেতনের ৫ শতাংশ এবং পরে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছিল। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে এ সুবিধা আর থাকছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার কমানো হচ্ছে। বর্তমানে সব গ্রেডে মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে এ হার নির্ধারণ করা হবে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-৬ পর্যন্ত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ রাখা হচ্ছে। গ্রেড-৫-এ ৪ শতাংশ, গ্রেড-৪ ও ৩-এ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মূল বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়লেও প্রতিবছর বেতন বৃদ্ধির হার কম হবে।

সশস্ত্র বাহিনীতেও একই ধরনের কাঠামো রাখা হয়েছে। ক্যাপ্টেন ও সমপদ এবং এর নিচের পদে ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেল পদে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল থাকছে। এতে গ্রেড-২০-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১-এর নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

বেতন বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ঢাকার সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমানে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ হারে বাড়িভাতা দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোয় তা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে মূল বেতন বাড়ায় ভাতার মোট টাকার পরিমাণ বাড়তে পারে।

চিকিৎসা ভাতাও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সি চাকরিজীবীদের মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পেনশনভোগীদের মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সিদের ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সিদের ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া প্রথমবারের মতো সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডে মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৫০ টাকা করে এ ভাতা দেওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন কাঠামোয় যাতায়াত ভাতা ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথ বাহিনী নির্দেশাবলি-২০২৬ অনুমোদন করা হয়।

সরকারি হিসাবে, নতুন কাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে বাতিল হচ্ছে বিশেষ প্রণোদনা

সর্বশেষ আপডেট ১১:২৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চালু করা বিশেষ প্রণোদনা বাতিল হচ্ছে। ২০২৪ সালে চালু হওয়া এই প্রণোদনা প্রথমে মূল বেতনের ৫ শতাংশ এবং পরে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছিল। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে এ সুবিধা আর থাকছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার কমানো হচ্ছে। বর্তমানে সব গ্রেডে মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে এ হার নির্ধারণ করা হবে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-৬ পর্যন্ত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ রাখা হচ্ছে। গ্রেড-৫-এ ৪ শতাংশ, গ্রেড-৪ ও ৩-এ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মূল বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়লেও প্রতিবছর বেতন বৃদ্ধির হার কম হবে।

সশস্ত্র বাহিনীতেও একই ধরনের কাঠামো রাখা হয়েছে। ক্যাপ্টেন ও সমপদ এবং এর নিচের পদে ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেল পদে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল থাকছে। এতে গ্রেড-২০-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১-এর নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

বেতন বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ঢাকার সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমানে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ হারে বাড়িভাতা দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোয় তা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে মূল বেতন বাড়ায় ভাতার মোট টাকার পরিমাণ বাড়তে পারে।

চিকিৎসা ভাতাও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সি চাকরিজীবীদের মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পেনশনভোগীদের মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সিদের ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সিদের ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া প্রথমবারের মতো সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডে মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৫০ টাকা করে এ ভাতা দেওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন কাঠামোয় যাতায়াত ভাতা ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথ বাহিনী নির্দেশাবলি-২০২৬ অনুমোদন করা হয়।

সরকারি হিসাবে, নতুন কাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।