ঢাকা ১১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৃতীয় টার্মিনাল চালু অনিশ্চিত, বাড়ছে অপেক্ষা

জুলহাস কবীর, বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:১২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫
  • / 139

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন হলেও পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত না হওয়ায় টার্মিনালটি চালুর জন্য যাত্রী, এয়ারলাইনস এবং সংশ্লিষ্ট খাতের মানুষের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রয়োজনীয় চুক্তি এবং কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে টার্মিনাল চালু করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনালটির পরিচালনার জন্য জাপানের একাধিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে পরিচালনা কাঠামো, দায়িত্ব বণ্টন এবং রাজস্ব ভাগাভাগির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এসব বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর পরই চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে এবং তার ভিত্তিতেই টার্মিনাল চালুর নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন প্রশাসনিক, কারিগরি এবং সমন্বয়জনিত কারণে সেই সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হলেও বর্তমান বাস্তবতায় সেই সময়সীমাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চুক্তি সম্পন্নের পর জনবল নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে।

টার্মিনাল চালুর আগে আধুনিক ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম, নিরাপত্তা স্ক্যানিং যন্ত্র, বিস্ফোরক শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, ইমিগ্রেশন এবং বোর্ডিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে পরীক্ষামূলক বা ট্রায়াল অপারেশন পরিচালনা করা হবে, যাতে বাস্তব পরিস্থিতিতে সব সিস্টেমের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা যায়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কমপক্ষে ছয় মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে।

জানা গেছে, জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোইজিতস করপোরেশন এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশনের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম টার্মিনালটির অপারেশনাল ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হবে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা তদারকি এবং নীতিগত নিয়ন্ত্রণ থাকবে বেবিচকের অধীনে। প্রাথমিক পর্যায়ে যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ছয় হাজার কর্মীর প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী চারটি শিফটে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ইমিগ্রেশন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, কার্গো ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং যাত্রীসেবায় নিয়োজিত থাকবে প্রশিক্ষিত জনবল।

এভিয়েশন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন টার্মিনাল চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেবার মান এবং সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে বিমানবন্দরটি তার সক্ষমতার সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে, ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা, ভিড় এবং বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। নতুন টার্মিনাল চালু হলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিশেষ করে দেশের রপ্তানি খাতের জন্য এই টার্মিনাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন টার্মিনাল চালু হলে কার্গো পরিবহন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্য দ্রুত বিদেশে পাঠাতে সহায়তা করবে। এতে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও কাজী ওয়াহিদুল আলম, যিনি বাংলাদেশ মনিটর–এর সম্পাদক, বলেন— দেশের এভিয়েশন শিল্পের স্বার্থে এই মেগা প্রকল্পটি দ্রুত সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা জরুরি। তিনি বলেন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও এমন একটি আধুনিক টার্মিনাল চালু করতে না পারা সিভিল এভিয়েশনের বড় ব্যর্থতা। বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের উচিত দ্রুত একটি দক্ষ ও আর্থিকভাবে সক্ষম অপারেটর নিয়োগ করা। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ফলে টার্মিনাল চালুতে বিলম্ব হলে রাষ্ট্রকে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তার মতে, টার্মিনালটি যত দ্রুত অপারেশনে যাবে, ততই দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

প্রায় ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা সরকার সরবরাহ করেছে এবং বাকি অর্থায়ন এসেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর ঋণ সহায়তার মাধ্যমে। ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়।

প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই টার্মিনালে রয়েছে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপার্চার ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ডেস্ক। এছাড়া আধুনিক বোর্ডিং ব্রিজ, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা এটিকে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক টার্মিনালে পরিণত করবে।

টার্মিনালটি সম্পূর্ণরূপে চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে কার্গো পরিবহন সক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে বছরে প্রায় ১০ লাখ টনে উন্নীত হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত নতুন মাত্রা পাবে এবং দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তৃতীয় টার্মিনাল চালু অনিশ্চিত, বাড়ছে অপেক্ষা

সর্বশেষ আপডেট ০২:১২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন হলেও পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত না হওয়ায় টার্মিনালটি চালুর জন্য যাত্রী, এয়ারলাইনস এবং সংশ্লিষ্ট খাতের মানুষের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রয়োজনীয় চুক্তি এবং কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে টার্মিনাল চালু করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনালটির পরিচালনার জন্য জাপানের একাধিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে পরিচালনা কাঠামো, দায়িত্ব বণ্টন এবং রাজস্ব ভাগাভাগির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এসব বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর পরই চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে এবং তার ভিত্তিতেই টার্মিনাল চালুর নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন প্রশাসনিক, কারিগরি এবং সমন্বয়জনিত কারণে সেই সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হলেও বর্তমান বাস্তবতায় সেই সময়সীমাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চুক্তি সম্পন্নের পর জনবল নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে।

টার্মিনাল চালুর আগে আধুনিক ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম, নিরাপত্তা স্ক্যানিং যন্ত্র, বিস্ফোরক শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, ইমিগ্রেশন এবং বোর্ডিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে পরীক্ষামূলক বা ট্রায়াল অপারেশন পরিচালনা করা হবে, যাতে বাস্তব পরিস্থিতিতে সব সিস্টেমের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা যায়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কমপক্ষে ছয় মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে।

জানা গেছে, জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোইজিতস করপোরেশন এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশনের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম টার্মিনালটির অপারেশনাল ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হবে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা তদারকি এবং নীতিগত নিয়ন্ত্রণ থাকবে বেবিচকের অধীনে। প্রাথমিক পর্যায়ে যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ছয় হাজার কর্মীর প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী চারটি শিফটে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ইমিগ্রেশন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, কার্গো ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং যাত্রীসেবায় নিয়োজিত থাকবে প্রশিক্ষিত জনবল।

এভিয়েশন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন টার্মিনাল চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেবার মান এবং সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে বিমানবন্দরটি তার সক্ষমতার সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে, ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা, ভিড় এবং বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। নতুন টার্মিনাল চালু হলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিশেষ করে দেশের রপ্তানি খাতের জন্য এই টার্মিনাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন টার্মিনাল চালু হলে কার্গো পরিবহন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্য দ্রুত বিদেশে পাঠাতে সহায়তা করবে। এতে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও কাজী ওয়াহিদুল আলম, যিনি বাংলাদেশ মনিটর–এর সম্পাদক, বলেন— দেশের এভিয়েশন শিল্পের স্বার্থে এই মেগা প্রকল্পটি দ্রুত সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা জরুরি। তিনি বলেন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও এমন একটি আধুনিক টার্মিনাল চালু করতে না পারা সিভিল এভিয়েশনের বড় ব্যর্থতা। বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের উচিত দ্রুত একটি দক্ষ ও আর্থিকভাবে সক্ষম অপারেটর নিয়োগ করা। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ফলে টার্মিনাল চালুতে বিলম্ব হলে রাষ্ট্রকে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তার মতে, টার্মিনালটি যত দ্রুত অপারেশনে যাবে, ততই দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

প্রায় ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা সরকার সরবরাহ করেছে এবং বাকি অর্থায়ন এসেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর ঋণ সহায়তার মাধ্যমে। ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়।

প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই টার্মিনালে রয়েছে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপার্চার ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ডেস্ক। এছাড়া আধুনিক বোর্ডিং ব্রিজ, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা এটিকে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক টার্মিনালে পরিণত করবে।

টার্মিনালটি সম্পূর্ণরূপে চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে কার্গো পরিবহন সক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে বছরে প্রায় ১০ লাখ টনে উন্নীত হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত নতুন মাত্রা পাবে এবং দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।