ঢাকা ০২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তুরস্ককে হারিয়ে বিশ্বকাপের উড়ন্ত সূচনা অস্ট্রেলিয়ার

স্পোর্টস ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 8

তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা অস্ট্রেলিয়ার

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে দারুণ এক জয় দিয়ে নিজেদের মিশন শুরু করল সকারুজরা। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইউরোপের শক্তিশালী দেশ তুরস্ককে ২-০ গোলের ব্যবধানে অনায়াসে হারিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অবস্থিত বিখ্যাত ‘বিসি প্লেস’ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ রোববার সকালে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। পুরো ম্যাচ জুড়ে দুই দলই আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসলেও শেষ পর্যন্ত মাঠের কৌশল ও ফিনিশিং দক্ষতায় শেষ হাসি হেসেছে ওশেনিয়া অঞ্চলের এই প্রতিনিধিরা।

ম্যাচের প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই মাঠের লড়াই বেশ জমে ওঠে। খেলার শুরুতেই মাঝমাঠের দখল নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কনর মেটক্যাফে, ওকন ইংস্টলার, ও’নেইল এবং টোরেরা একের পর এক দুর্দান্ত আক্রমণ বুনে আনতে থাকেন। তবে অজিদের সেসব আক্রমণ সামলাতে রক্ষণভাগে অত্যন্ত সজাগ ও কঠোর পাহারায় ছিলেন তুরস্কের ডিফেন্ডার বারগেস ও কিরকাটি। ঠিক উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে না গিয়ে তুরস্কও বেশ কয়েকটি বিপজ্জনক পাল্টা প্রতি-আক্রমণ (কাউন্টার অ্যাটাক) চালায়। তুর্কিদের হয়ে আক্রমণভাগে ইলমাজ, কোককু ও গালেররা চমৎকার বোঝাপড়া দেখালেও রক্ষণভাগে বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে অজিদের গোলবক্স আগলে রাখেন বার্ডাকি।

খেলার গতি বাড়াতে অস্ট্রেলিয়া ক্রমাগত মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ তৈরি করার পাশাপাশি মাঠের দুই প্রান্ত তথা উইংকেও চমৎকারভাবে ব্যবহার করতে শুরু করে। উইং ধরে ওপরে ওঠার সেই চিরচেনা সুবাদেই ম্যাচের প্রথম গোলটির দেখা পেয়ে যায় তারা। খেলার ঠিক ২৭ মিনিটের মাথায় তরুণ ফরোয়ার্ড নেস্টোরি ইরানকুন্ডার এক নিখুঁত ও দর্শনীয় গোলে ম্যাচে প্রথম লিড নিয়ে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া (১-০)। এক গোল হজম করার পর ম্যাচে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে তুরস্ক। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে তারা বেশ কয়েকটি কাউন্টার অ্যাটাক চালালেও অজি ডিফেন্সের দৃঢ়তায় জালের দেখা পায়নি। ফলে ১-০ ব্যবধানের স্কোরলাইন নিয়েই মাঠ ছাড়েন দুই দলের ফুটবলাররা।

বিরতির পর দ্বিতীয়ার্থের খেলা শুরু হলে দুই দলই আরও বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিতে থাকে, যাকে ফুটবলপ্রেমীরা একটি নিখাদ লড়াকু ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে গোল পরিশোধের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল তুরস্ক। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে তুরস্কের উদীয়মান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আর্ডা গুলার এক দুরন্ত ও জোরালো ফ্রি-কিক নেন। তবে নিশ্চিত গোলের দিকে এগিয়ে যাওয়া সেই শটটি নিজের শরীর শূন্যে ছুঁড়ে দিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় সেভ করেন অজি গোলরক্ষক পি. বিচ।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার কিছু সময় আগে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের রক্ষণভাগ ধরে রাখতে কিছুটা ডিফেন্সিভ বা রক্ষণাত্মক মোডে চলে যায়। আর প্রতিপক্ষের এই ডিফেন্সিভ খেলার সুযোগ নিয়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরে তুরস্ক। এই সময়ে তুর্কিদের নেওয়া একটি আক্রমণাত্মক শট ক্রসবারের সামান্য উপর দিয়ে উড়ে গেলে সমতা ফেরানোর এক দারুণ সুযোগ হাতছাড়া হয় তাদের। তবে চাপের মুখেও দমে না গিয়ে নিজেদের উপস্থিত বুদ্ধি এবং উপযুক্ত ফুটবল কৌশলকে কাজে লাগায় অজিরা।

তারই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ৭৫ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মাঝমাঠের কিছুটা উপর থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এক গতিময় ও বুদ্ধিদীপ্ত দৌড়ে তুরস্কের ডিফেন্ডারদের পুরোপুরি পরাস্ত করেন কনর মেটক্যাফে। এরপর ঠান্ডা মাথায় বল নিয়ে জায়গা খুঁজে নিয়ে বাঁ-পায়ের এক দুরন্ত ও বাঁকানো শটে বল জড়ান তুরস্কের জালে। সবুজ গালিচায় মেটক্যাফের অসাধারণ দক্ষতা এবং মাথা ঠান্ডা রাখার এই ফিনিশ দেখে মুগ্ধ হয় গোটা ফুটবল বিশ্ব। উল্লেখ্য, এটি মেটক্যাফের আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। এই নান্দনিক গোলের ওপর ভর করেই অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ২-০ ব্যবধানের নিরাপদ লিড নিশ্চিত করে।

তুরস্ক যখন ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে লড়াইয়ে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই মেটক্যাফের এই গোলটি তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় এবং খেলার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আবারও অজিদের হাতে চলে আসে। ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার এই উড়ন্ত সূচনার পেছনে গোলকিপার পি. বিচের অবদান ছিল অনস্বীকার্য, যিনি পুরো ম্যাচ জুড়ে পোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল রুখে দেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তুরস্ককে হারিয়ে বিশ্বকাপের উড়ন্ত সূচনা অস্ট্রেলিয়ার

সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে দারুণ এক জয় দিয়ে নিজেদের মিশন শুরু করল সকারুজরা। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইউরোপের শক্তিশালী দেশ তুরস্ককে ২-০ গোলের ব্যবধানে অনায়াসে হারিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অবস্থিত বিখ্যাত ‘বিসি প্লেস’ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ রোববার সকালে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। পুরো ম্যাচ জুড়ে দুই দলই আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসলেও শেষ পর্যন্ত মাঠের কৌশল ও ফিনিশিং দক্ষতায় শেষ হাসি হেসেছে ওশেনিয়া অঞ্চলের এই প্রতিনিধিরা।

ম্যাচের প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই মাঠের লড়াই বেশ জমে ওঠে। খেলার শুরুতেই মাঝমাঠের দখল নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কনর মেটক্যাফে, ওকন ইংস্টলার, ও’নেইল এবং টোরেরা একের পর এক দুর্দান্ত আক্রমণ বুনে আনতে থাকেন। তবে অজিদের সেসব আক্রমণ সামলাতে রক্ষণভাগে অত্যন্ত সজাগ ও কঠোর পাহারায় ছিলেন তুরস্কের ডিফেন্ডার বারগেস ও কিরকাটি। ঠিক উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে না গিয়ে তুরস্কও বেশ কয়েকটি বিপজ্জনক পাল্টা প্রতি-আক্রমণ (কাউন্টার অ্যাটাক) চালায়। তুর্কিদের হয়ে আক্রমণভাগে ইলমাজ, কোককু ও গালেররা চমৎকার বোঝাপড়া দেখালেও রক্ষণভাগে বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে অজিদের গোলবক্স আগলে রাখেন বার্ডাকি।

খেলার গতি বাড়াতে অস্ট্রেলিয়া ক্রমাগত মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ তৈরি করার পাশাপাশি মাঠের দুই প্রান্ত তথা উইংকেও চমৎকারভাবে ব্যবহার করতে শুরু করে। উইং ধরে ওপরে ওঠার সেই চিরচেনা সুবাদেই ম্যাচের প্রথম গোলটির দেখা পেয়ে যায় তারা। খেলার ঠিক ২৭ মিনিটের মাথায় তরুণ ফরোয়ার্ড নেস্টোরি ইরানকুন্ডার এক নিখুঁত ও দর্শনীয় গোলে ম্যাচে প্রথম লিড নিয়ে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া (১-০)। এক গোল হজম করার পর ম্যাচে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে তুরস্ক। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে তারা বেশ কয়েকটি কাউন্টার অ্যাটাক চালালেও অজি ডিফেন্সের দৃঢ়তায় জালের দেখা পায়নি। ফলে ১-০ ব্যবধানের স্কোরলাইন নিয়েই মাঠ ছাড়েন দুই দলের ফুটবলাররা।

বিরতির পর দ্বিতীয়ার্থের খেলা শুরু হলে দুই দলই আরও বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিতে থাকে, যাকে ফুটবলপ্রেমীরা একটি নিখাদ লড়াকু ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে গোল পরিশোধের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল তুরস্ক। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে তুরস্কের উদীয়মান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আর্ডা গুলার এক দুরন্ত ও জোরালো ফ্রি-কিক নেন। তবে নিশ্চিত গোলের দিকে এগিয়ে যাওয়া সেই শটটি নিজের শরীর শূন্যে ছুঁড়ে দিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় সেভ করেন অজি গোলরক্ষক পি. বিচ।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার কিছু সময় আগে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের রক্ষণভাগ ধরে রাখতে কিছুটা ডিফেন্সিভ বা রক্ষণাত্মক মোডে চলে যায়। আর প্রতিপক্ষের এই ডিফেন্সিভ খেলার সুযোগ নিয়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরে তুরস্ক। এই সময়ে তুর্কিদের নেওয়া একটি আক্রমণাত্মক শট ক্রসবারের সামান্য উপর দিয়ে উড়ে গেলে সমতা ফেরানোর এক দারুণ সুযোগ হাতছাড়া হয় তাদের। তবে চাপের মুখেও দমে না গিয়ে নিজেদের উপস্থিত বুদ্ধি এবং উপযুক্ত ফুটবল কৌশলকে কাজে লাগায় অজিরা।

তারই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ৭৫ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মাঝমাঠের কিছুটা উপর থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এক গতিময় ও বুদ্ধিদীপ্ত দৌড়ে তুরস্কের ডিফেন্ডারদের পুরোপুরি পরাস্ত করেন কনর মেটক্যাফে। এরপর ঠান্ডা মাথায় বল নিয়ে জায়গা খুঁজে নিয়ে বাঁ-পায়ের এক দুরন্ত ও বাঁকানো শটে বল জড়ান তুরস্কের জালে। সবুজ গালিচায় মেটক্যাফের অসাধারণ দক্ষতা এবং মাথা ঠান্ডা রাখার এই ফিনিশ দেখে মুগ্ধ হয় গোটা ফুটবল বিশ্ব। উল্লেখ্য, এটি মেটক্যাফের আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। এই নান্দনিক গোলের ওপর ভর করেই অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ২-০ ব্যবধানের নিরাপদ লিড নিশ্চিত করে।

তুরস্ক যখন ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে লড়াইয়ে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই মেটক্যাফের এই গোলটি তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় এবং খেলার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আবারও অজিদের হাতে চলে আসে। ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার এই উড়ন্ত সূচনার পেছনে গোলকিপার পি. বিচের অবদান ছিল অনস্বীকার্য, যিনি পুরো ম্যাচ জুড়ে পোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল রুখে দেন।