ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরে খুলশীর ওসি প্রত্যাহার

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:০৩:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 11

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ওসিকে প্রত্যাহার

জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে মাঝরাস্তায় হেনস্তা ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে তাঁর পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (লাইনওয়ারে) করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সই করা এক বিশেষ প্রশাসনিক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। একই আদেশে খুলশী থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ সোলাইমানকে, যিনি এর আগে নগরের বাকলিয়া থানার ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নথি ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতের দিকে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বাসায় ফিরছিলেন ক্রিকেটার নাঈম হাসান। পথে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে তাঁর অটোরিকশাটির গতিবিধি রোধ করে খুলশী থানা পুলিশ। সেখানে তাঁকে তীব্র হেনস্তা ও মারধর করা হয় বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর ক্রিকেটার নাঈমের ভাই বাদী হয়ে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত সোহেলকে সরাসরি আসামি করা হয়। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে রাতেই অভিযুক্ত ওই তিন পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

ক্রিকেটারের ওপর এমন হামলার পর পুরো বিষয়টি নিয়ে মাঠপর্যায়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে সিএমপি। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোনা চোরাচালান সংক্রান্ত একটি বিশেষ গোপন তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই মূলত ওই রাতে লালখান বাজার এলাকায় পুলিশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে পুলিশের এই অভিযানের সামগ্রিক প্রক্রিয়া, তথ্যের মূল উৎস এবং সাধারণ নাগরিকের সাথে মাঠপর্যায়ের ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যদের চরম আপত্তিকর আচরণ—সবগুলো বিষয়ই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে সিএমপির তদন্ত কমিটি।

প্রত্যাহার হওয়া পরিদর্শক আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক গুরুতর অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে বলে সিএমপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ সালের দিকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দলটির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ার কারণে ওই সময়ে তিনি চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২১-২২ সালে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার ওসির দায়িত্ব পালনকালে এক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর কাছ থেকে তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকা সরাসরি ঘুষ নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ সদরদপ্তর তাঁর বিরুদ্ধে প্রাথমিক বিভাগীয় ব্যবস্থাও নিয়েছিল।

সবশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাতারাতি নিজের খোলস বদলে নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন আরিফুর রহমান। এই নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসির দায়িত্ব হাতিয়ে নেন। সেখানে দায়িত্ব পালনকালেও সাধারণ মানুষের জমি দখল এবং মাদক কারবারিদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে, যার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীরা তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন। শুধু তাই নয়, নিজের সহকর্মী তথা পাঁচলাইশ থানার বর্তমান ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ফাঁসের ঘটনায়ও তাঁর নাম জড়ায়। তালিকাভুক্ত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সাথে ওসি আরিফের কথোপকথনের সেই অডিওতে নিজের সহকর্মীকে নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল তাঁকে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরে খুলশীর ওসি প্রত্যাহার

সর্বশেষ আপডেট ১২:০৩:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে মাঝরাস্তায় হেনস্তা ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে তাঁর পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (লাইনওয়ারে) করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সই করা এক বিশেষ প্রশাসনিক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। একই আদেশে খুলশী থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ সোলাইমানকে, যিনি এর আগে নগরের বাকলিয়া থানার ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নথি ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতের দিকে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বাসায় ফিরছিলেন ক্রিকেটার নাঈম হাসান। পথে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে তাঁর অটোরিকশাটির গতিবিধি রোধ করে খুলশী থানা পুলিশ। সেখানে তাঁকে তীব্র হেনস্তা ও মারধর করা হয় বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর ক্রিকেটার নাঈমের ভাই বাদী হয়ে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত সোহেলকে সরাসরি আসামি করা হয়। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে রাতেই অভিযুক্ত ওই তিন পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

ক্রিকেটারের ওপর এমন হামলার পর পুরো বিষয়টি নিয়ে মাঠপর্যায়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে সিএমপি। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোনা চোরাচালান সংক্রান্ত একটি বিশেষ গোপন তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই মূলত ওই রাতে লালখান বাজার এলাকায় পুলিশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে পুলিশের এই অভিযানের সামগ্রিক প্রক্রিয়া, তথ্যের মূল উৎস এবং সাধারণ নাগরিকের সাথে মাঠপর্যায়ের ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যদের চরম আপত্তিকর আচরণ—সবগুলো বিষয়ই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে সিএমপির তদন্ত কমিটি।

প্রত্যাহার হওয়া পরিদর্শক আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক গুরুতর অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে বলে সিএমপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ সালের দিকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দলটির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ার কারণে ওই সময়ে তিনি চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২১-২২ সালে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার ওসির দায়িত্ব পালনকালে এক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর কাছ থেকে তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকা সরাসরি ঘুষ নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ সদরদপ্তর তাঁর বিরুদ্ধে প্রাথমিক বিভাগীয় ব্যবস্থাও নিয়েছিল।

সবশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাতারাতি নিজের খোলস বদলে নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন আরিফুর রহমান। এই নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসির দায়িত্ব হাতিয়ে নেন। সেখানে দায়িত্ব পালনকালেও সাধারণ মানুষের জমি দখল এবং মাদক কারবারিদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে, যার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীরা তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন। শুধু তাই নয়, নিজের সহকর্মী তথা পাঁচলাইশ থানার বর্তমান ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ফাঁসের ঘটনায়ও তাঁর নাম জড়ায়। তালিকাভুক্ত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সাথে ওসি আরিফের কথোপকথনের সেই অডিওতে নিজের সহকর্মীকে নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল তাঁকে।