ঢাকা ০২:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেটে করছাড় নেই তবুও আশাবাদী শেয়ারবাজার

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:২৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 13

বাজেটে করছাড় নেই তবুও আশাবাদী শেয়ারবাজার

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারের প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে মোটাদাগে দেশের শেয়ারবাজারের জন্য সরাসরি কোনো ধরনের আর্থিক প্রণোদনা কিংবা করছাড়ের সুবিধা রাখা হয়নি। বাজেট ঘোষণার আগে বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনদের পক্ষ থেকে করপোরেট করহারের ব্যবধান বাড়ানোসহ নানা ধরনের করছাড়ের দাবি জানানো হলেও সরকারের চূড়ান্ত প্রস্তাবনায় সেই বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়নি। তা সত্ত্বেও, স্বল্পমেয়াদি সুবিধার বদলে এবার প্রথমবারের মতো বাজেটে বাজার উন্নয়নের একটি সুদূরপ্রসারী দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সংস্কারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। আর এই নীতিগত কারণে বাজার সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা মনে করছেন, আগামী অর্থবছরটি দেশের শেয়ারবাজারের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রত্যাশা পূরণের বছর হতে যাচ্ছে。

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বার্ষিক বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের সরকার দেশের অর্থনীতির পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার খাতে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর।” তিনি আরও জানান, সরকার দেশের ঋণনির্ভর বিনিয়োগকে ইকুইটিতে রূপান্তর করতে চায়, যাতে বর্তমান ঋণভিত্তিক অর্থনীতি থেকে দূরে সরে এসে একটি সুসংহত বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হয়। এই বাজেট প্রস্তাবনায় শেয়ারবাজারকে দেশের একটি প্রধান ‘বেসরকারি বিনিয়োগ হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার মতো নানামুখী ইতিবাচক উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের শেয়ারবাজারে মন্দাভাব বিরাজ করছে; সূচক ও লেনদেন তলানিতে নামার পাশাপাশি গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বাজারে নতুন কোম্পানি টানার মতো আইপিও (IPO) বা কিউআইও (QIO) নেই। এমন খাদের কিনারায় থাকা পরিস্থিতি থেকে বাজারকে টেনে তুলতে ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের ওপর থেকে চাপ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড এবং সুকুকের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উপকরণগুলোর ব্যাপক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়াও, স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ‘পৌর বন্ড’ ইস্যুর একটি নতুন আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ এই বিষয়ে বলেন, শেয়ারবাজারকে মূল অর্থনীতি থেকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ তলানিতে নেমে ব্যাংকের বেসরকারি ঋণ দেওয়ার হার ৬ শতাংশের কাছাকাছি এসে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ব্যাংকের পরিবর্তে শেয়ারবাজার থেকে বড় অঙ্কের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পথ উন্মোচন করতে হবে। তিনি আরও পরামর্শ দেন, ইউনিলিভার, নেসলে, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও মেটলাইফের মতো নামী বিদেশি ও দেশীয় ভালো কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনে ‘ডাইরেক্ট লিস্টিং’-এর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে। এমনকি ছায়া বিনিয়োগ বাড়াতে পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু এবং ঢাকা এয়ারপোর্টের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর ভ্যালুয়েশন করে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সরকারের অর্থের জোগান বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।

বাজেট প্রস্তাবনা অনুযায়ী, শেয়ারবাজারকে আরও গভীর, স্বচ্ছ ও বহুমাত্রিক করতে আইপিও প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ সময়নির্ধারিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হচ্ছে। এখন থেকে আইপিও আবেদন দাখিল, দলিলাদি যাচাই, ফি পরিশোধ ও অনুমোদনের সব ধাপ অনলাইনেই সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া ইস্যুকারী কোম্পানি, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে পেনশন তহবিল, বিমা প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বড় আকর্ষণীয় পরিবর্তনটি আসতে যাচ্ছে শেয়ারবাজারের লেনদেন প্রক্রিয়ায়। বর্তমানে শেয়ার বিক্রির পর অর্থ পেতে দুই কার্যদিবস অপেক্ষা করতে হলেও, প্রস্তাবিত বাজেটে তা পর্যায়ক্রমে ‘টি+শূন্য’ (অর্থাৎ দিনে কিনে দিনেই বিক্রি) ব্যবস্থায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে তাদের লভ্যাংশ ও শেয়ার বিক্রির অর্থ মাত্র এক কর্মদিবসের মধ্যে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন বা পুনঃবিনিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ঐতিহাসিক সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

যদিও বাজেট ঘোষণার আগে অংশীজনদের পক্ষ থেকে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত করপোরেট করহারের ব্যবধান ন্যূনতম ১০ শতাংশ করা, দ্বৈত কর ও মূলধনী মুনাফার ওপর থেকে কর প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছিল, যা বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। তা সত্ত্বেও সামগ্রিক সুদূরপ্রসারী সংস্কার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)।

মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বিএমবিএর সাধারণ সম্পাদক সুমিত পোদ্দার জানান, শুধু ট্যাক্স সুবিধা দিলেই বাজারে ভালো কোম্পানি আসে না, বরং ফেয়ার ভ্যালুয়েশন ও লিস্টিং প্রক্রিয়া সহজ করার মতো নীতিগত পরিবর্তন বেশি জরুরি, যার ইঙ্গিত এই বাজেটে রয়েছে। ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম আইপিও প্রক্রিয়ার ডিজিটাল সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী টানার উদ্যোগকে প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী আখ্যা দিয়ে আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে আগামী এক বছরে বাজারের দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের এই বিশেষ গুরুত্বারোপের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, রেগুলেটরি কতৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার এই উদ্যোগ বাজার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়িয়ে দেবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাজেটে করছাড় নেই তবুও আশাবাদী শেয়ারবাজার

সর্বশেষ আপডেট ১২:২৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারের প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে মোটাদাগে দেশের শেয়ারবাজারের জন্য সরাসরি কোনো ধরনের আর্থিক প্রণোদনা কিংবা করছাড়ের সুবিধা রাখা হয়নি। বাজেট ঘোষণার আগে বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনদের পক্ষ থেকে করপোরেট করহারের ব্যবধান বাড়ানোসহ নানা ধরনের করছাড়ের দাবি জানানো হলেও সরকারের চূড়ান্ত প্রস্তাবনায় সেই বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়নি। তা সত্ত্বেও, স্বল্পমেয়াদি সুবিধার বদলে এবার প্রথমবারের মতো বাজেটে বাজার উন্নয়নের একটি সুদূরপ্রসারী দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সংস্কারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। আর এই নীতিগত কারণে বাজার সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা মনে করছেন, আগামী অর্থবছরটি দেশের শেয়ারবাজারের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রত্যাশা পূরণের বছর হতে যাচ্ছে。

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বার্ষিক বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের সরকার দেশের অর্থনীতির পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার খাতে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর।” তিনি আরও জানান, সরকার দেশের ঋণনির্ভর বিনিয়োগকে ইকুইটিতে রূপান্তর করতে চায়, যাতে বর্তমান ঋণভিত্তিক অর্থনীতি থেকে দূরে সরে এসে একটি সুসংহত বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হয়। এই বাজেট প্রস্তাবনায় শেয়ারবাজারকে দেশের একটি প্রধান ‘বেসরকারি বিনিয়োগ হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার মতো নানামুখী ইতিবাচক উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের শেয়ারবাজারে মন্দাভাব বিরাজ করছে; সূচক ও লেনদেন তলানিতে নামার পাশাপাশি গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বাজারে নতুন কোম্পানি টানার মতো আইপিও (IPO) বা কিউআইও (QIO) নেই। এমন খাদের কিনারায় থাকা পরিস্থিতি থেকে বাজারকে টেনে তুলতে ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের ওপর থেকে চাপ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড এবং সুকুকের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উপকরণগুলোর ব্যাপক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়াও, স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ‘পৌর বন্ড’ ইস্যুর একটি নতুন আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ এই বিষয়ে বলেন, শেয়ারবাজারকে মূল অর্থনীতি থেকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ তলানিতে নেমে ব্যাংকের বেসরকারি ঋণ দেওয়ার হার ৬ শতাংশের কাছাকাছি এসে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ব্যাংকের পরিবর্তে শেয়ারবাজার থেকে বড় অঙ্কের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পথ উন্মোচন করতে হবে। তিনি আরও পরামর্শ দেন, ইউনিলিভার, নেসলে, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও মেটলাইফের মতো নামী বিদেশি ও দেশীয় ভালো কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনে ‘ডাইরেক্ট লিস্টিং’-এর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে। এমনকি ছায়া বিনিয়োগ বাড়াতে পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু এবং ঢাকা এয়ারপোর্টের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর ভ্যালুয়েশন করে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সরকারের অর্থের জোগান বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।

বাজেট প্রস্তাবনা অনুযায়ী, শেয়ারবাজারকে আরও গভীর, স্বচ্ছ ও বহুমাত্রিক করতে আইপিও প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ সময়নির্ধারিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হচ্ছে। এখন থেকে আইপিও আবেদন দাখিল, দলিলাদি যাচাই, ফি পরিশোধ ও অনুমোদনের সব ধাপ অনলাইনেই সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া ইস্যুকারী কোম্পানি, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে পেনশন তহবিল, বিমা প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বড় আকর্ষণীয় পরিবর্তনটি আসতে যাচ্ছে শেয়ারবাজারের লেনদেন প্রক্রিয়ায়। বর্তমানে শেয়ার বিক্রির পর অর্থ পেতে দুই কার্যদিবস অপেক্ষা করতে হলেও, প্রস্তাবিত বাজেটে তা পর্যায়ক্রমে ‘টি+শূন্য’ (অর্থাৎ দিনে কিনে দিনেই বিক্রি) ব্যবস্থায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে তাদের লভ্যাংশ ও শেয়ার বিক্রির অর্থ মাত্র এক কর্মদিবসের মধ্যে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন বা পুনঃবিনিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ঐতিহাসিক সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

যদিও বাজেট ঘোষণার আগে অংশীজনদের পক্ষ থেকে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত করপোরেট করহারের ব্যবধান ন্যূনতম ১০ শতাংশ করা, দ্বৈত কর ও মূলধনী মুনাফার ওপর থেকে কর প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছিল, যা বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। তা সত্ত্বেও সামগ্রিক সুদূরপ্রসারী সংস্কার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)।

মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বিএমবিএর সাধারণ সম্পাদক সুমিত পোদ্দার জানান, শুধু ট্যাক্স সুবিধা দিলেই বাজারে ভালো কোম্পানি আসে না, বরং ফেয়ার ভ্যালুয়েশন ও লিস্টিং প্রক্রিয়া সহজ করার মতো নীতিগত পরিবর্তন বেশি জরুরি, যার ইঙ্গিত এই বাজেটে রয়েছে। ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম আইপিও প্রক্রিয়ার ডিজিটাল সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী টানার উদ্যোগকে প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী আখ্যা দিয়ে আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে আগামী এক বছরে বাজারের দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের এই বিশেষ গুরুত্বারোপের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, রেগুলেটরি কতৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার এই উদ্যোগ বাজার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়িয়ে দেবে।