ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের অমতে আসছে না নেপালের বিদ্যুৎ

অন্তার্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:০৩:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 11

নেপাল থেকে বাংলাদেশে আসছে না বাড়তি বিদ্যুৎ

ভারতের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না মেলায় নেপাল থেকে বাংলাদেশে প্রস্তাবিত বাড়তি বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনাটি আপাতত ভেস্তে গেছে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশে মোট ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করার কথা ছিল নেপালের। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটি আপাতত কেবল পূর্বনির্ধারিত ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই ঢাকায় পাঠাতে পারবে। রবিবার (১৪ জুন) নেপালের জ্বালানি খাতের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে দেশটির জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘কাঠমান্ডু পোস্ট’ এই হতাশাজনক তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

নেপালের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (সিইএ) মূলত দুই দেশের বিদ্যুৎ পরিবহন বা সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার অজুহাত দেখিয়ে এই বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদনটি স্থগিত করে দিয়েছে। এর পাশাপাশি একটি নতুন সংশোধিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর এবং নেপাল-ভারতের জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তসহ বেশ কিছু আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হওয়া বাকি রয়েছে, যা এই জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

উল্লেখ্য, নেপাল সাধারণত তাদের দেশের বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বা বাড়তি বিদ্যুৎ বাংলাদেশ ও ভারতে রপ্তানি করে থাকে। এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যায় শীতকালে, যখন নিজেদের ঘাটতি মেটাতে তারা ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে।

বিদ্যুৎ আমদানির এই পটভূমি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় নেপাল ও ভারতের সচিব পর্যায়ের যৌথ কমিটির একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকেই বাংলাদেশে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির চুক্তির বাইরে আরও নতুন করে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়ার বিষয়ে একটি নীতিগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। একই সাথে ওই সভায় সংশ্লিষ্ট বিষয়টির অন্যান্য আইনি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যাপারেও সব পক্ষ একমত পোষণ করেছিল।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (এনইএ) আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের বিদ্যুৎ বাণিজ্য সংস্থা লিমিটেডের কাছে বাংলাদেশে বাড়তি ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত অনুরোধ জানায়। কিন্তু ভারতের ওই বিদ্যুৎ বাণিজ্য সংস্থা নেপালকে সরাসরি জানিয়ে দেয় যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের যে সঞ্চালন লাইনটি চালু রয়েছে, সেটি দিয়ে এই মুহূর্তে বাড়তি কোনো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব নয়।

এই বিষয়ে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক বাহাদুর থাপা গণমাধ্যমকে বলেন, “এবার বাংলাদেশে শুধুমাত্র আগের চুক্তির ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই পাঠানো সম্ভব হবে। যদিও বাড়তি ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য চূড়ান্ত ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি এখনো সম্পন্ন হয়নি, তবুও আমরা আগের ৪০ মেগাওয়াটের নিয়ম অনুসরণ করে ভারতের বিদ্যুৎ বাণিজ্য সংস্থার মাধ্যমেই এই বাড়তি বিদ্যুৎ বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে আমাদের পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই বাড়তি বিদ্যুৎ বহনের মতো সঞ্চালন সক্ষমতা তাদের লাইনের নেই।”

বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে এই বাড়তি বিদ্যুৎ রপ্তানির জট ছুটাতে নেপাল ও ভারতকে খুব দ্রুতই আবারও নতুন করে আলোচনা টেবিলে বসতে হবে। তবে দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয় এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাটি আগামীতে কবে নাগাদ অনুষ্ঠিত হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করা হয়নি।

প্রসঙ্গটিকে টেনে বলা যায়, গত ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতের সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তির ভিত্তিতে ওই বছরের ১৫ নভেম্বর প্রথমবারের মতো নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আসে, যা প্রথম দিন পরীক্ষামূলকভাবে ১২ ঘণ্টা সরবরাহ করা হয়েছিল। নেপালের উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ মূলত তাদের ‘ঢালকেবার-মুজাফ্ফরপুর’ ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন দিয়ে প্রথমে ভারতের বিদ্যুৎ গ্রিডে যায়। এরপর ভারতের ‘বহরমপুর-ভেড়ামারা’ ৪০০ কেভি লাইন ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভারতের অমতে আসছে না নেপালের বিদ্যুৎ

সর্বশেষ আপডেট ০১:০৩:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

ভারতের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না মেলায় নেপাল থেকে বাংলাদেশে প্রস্তাবিত বাড়তি বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনাটি আপাতত ভেস্তে গেছে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশে মোট ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করার কথা ছিল নেপালের। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটি আপাতত কেবল পূর্বনির্ধারিত ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই ঢাকায় পাঠাতে পারবে। রবিবার (১৪ জুন) নেপালের জ্বালানি খাতের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে দেশটির জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘কাঠমান্ডু পোস্ট’ এই হতাশাজনক তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

নেপালের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (সিইএ) মূলত দুই দেশের বিদ্যুৎ পরিবহন বা সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার অজুহাত দেখিয়ে এই বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদনটি স্থগিত করে দিয়েছে। এর পাশাপাশি একটি নতুন সংশোধিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর এবং নেপাল-ভারতের জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তসহ বেশ কিছু আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হওয়া বাকি রয়েছে, যা এই জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

উল্লেখ্য, নেপাল সাধারণত তাদের দেশের বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বা বাড়তি বিদ্যুৎ বাংলাদেশ ও ভারতে রপ্তানি করে থাকে। এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যায় শীতকালে, যখন নিজেদের ঘাটতি মেটাতে তারা ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে।

বিদ্যুৎ আমদানির এই পটভূমি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় নেপাল ও ভারতের সচিব পর্যায়ের যৌথ কমিটির একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকেই বাংলাদেশে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির চুক্তির বাইরে আরও নতুন করে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়ার বিষয়ে একটি নীতিগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। একই সাথে ওই সভায় সংশ্লিষ্ট বিষয়টির অন্যান্য আইনি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যাপারেও সব পক্ষ একমত পোষণ করেছিল।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (এনইএ) আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের বিদ্যুৎ বাণিজ্য সংস্থা লিমিটেডের কাছে বাংলাদেশে বাড়তি ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত অনুরোধ জানায়। কিন্তু ভারতের ওই বিদ্যুৎ বাণিজ্য সংস্থা নেপালকে সরাসরি জানিয়ে দেয় যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের যে সঞ্চালন লাইনটি চালু রয়েছে, সেটি দিয়ে এই মুহূর্তে বাড়তি কোনো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব নয়।

এই বিষয়ে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক বাহাদুর থাপা গণমাধ্যমকে বলেন, “এবার বাংলাদেশে শুধুমাত্র আগের চুক্তির ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই পাঠানো সম্ভব হবে। যদিও বাড়তি ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য চূড়ান্ত ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি এখনো সম্পন্ন হয়নি, তবুও আমরা আগের ৪০ মেগাওয়াটের নিয়ম অনুসরণ করে ভারতের বিদ্যুৎ বাণিজ্য সংস্থার মাধ্যমেই এই বাড়তি বিদ্যুৎ বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে আমাদের পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই বাড়তি বিদ্যুৎ বহনের মতো সঞ্চালন সক্ষমতা তাদের লাইনের নেই।”

বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে এই বাড়তি বিদ্যুৎ রপ্তানির জট ছুটাতে নেপাল ও ভারতকে খুব দ্রুতই আবারও নতুন করে আলোচনা টেবিলে বসতে হবে। তবে দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয় এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাটি আগামীতে কবে নাগাদ অনুষ্ঠিত হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করা হয়নি।

প্রসঙ্গটিকে টেনে বলা যায়, গত ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতের সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তির ভিত্তিতে ওই বছরের ১৫ নভেম্বর প্রথমবারের মতো নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আসে, যা প্রথম দিন পরীক্ষামূলকভাবে ১২ ঘণ্টা সরবরাহ করা হয়েছিল। নেপালের উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ মূলত তাদের ‘ঢালকেবার-মুজাফ্ফরপুর’ ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন দিয়ে প্রথমে ভারতের বিদ্যুৎ গ্রিডে যায়। এরপর ভারতের ‘বহরমপুর-ভেড়ামারা’ ৪০০ কেভি লাইন ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।